
শেষ আপডেট: 18 August 2020 18:30
নাসার সেন্টার ফর নিয়ার আর্থ অবজেক্ট স্টাডিজের ডিরেক্টর পল চোডাস জানিয়েছেন, পৃথিবীর কক্ষের সঙ্গে ৪৫ ডিগ্রি হেলে গিয়েছিল এই গ্রহাণুর গতিপথ। তাই কাছাকাছি এলেও পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে সংঘাত হয়নি। এর গতিবেগ ছিল প্রতি সেকেন্ডে ৮ মাইল (১২.৩ কিলোমিটার/সেকেন্ড)। মহাকাশবিজ্ঞানীদের দাবি, গত কয়েকবছরে পৃথিবীর এত কাছাকাছি কোনও গ্রহাণুকে চলে আসতে দেখা যায়নি।
পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা গ্রহাণু বা নিয়ার আর্থ অবজেক্ট (NEO)-দের গতিবিধির দিকে সতর্ক নজর রেখে বসে আছে নাসার নিয়ার-আর্থ অবজেক্ট স্টাডিজ সেন্টার (CNEOS)। সেখানেই ধরা দিয়েছিল ২০২০ এনডি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, শুধু ২০২০ এনডি নয় আরও দুই গ্রহাণুও দুরন্ত গতিতে এগিয়ে এসেছিল পৃথিবীর দিকে। এই দুই গ্রহাণুর নাম ২০১৬ ডিওয়াই৩০ (2016 DY30) ও ২০২০ এমই৩ (2020 ME3)। এদের মধ্যে ২০১৬ ডিওয়াই৩০ গ্রহাণুর গতিবেগ ছিল প্রতি ঘণ্টায় ৫৪ হাজার কিলোমিটার এবং ২০২০ এমই৩ গ্রহাণুর বেগ প্রতি ঘণ্টায় ১৬ হাজার কিলোমিটার।
গত মাসেই ১০৮ ফুট পরিধির ২০২০ কেকে৭ গ্রহাণুটি পৃথিবীর একেবারে কাছ ঘেঁষে বেরিয়ে গেছে। ১১৫ ফুট পরিধির ২০২০ কেডি৪ গ্রহাণুও পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসে। তবে তাদের সঙ্গে পৃথিবীর সংঘাত হয়নি।
পৃথিবীর দিকে গ্রহাণুদের নজর বহুদিনের। সেই ২০১৬ সালেই বিশাল চেহারার এক গ্রহাণু যার নাম ‘বেন্নু’ পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছিল। তবে এই গ্রহাণু এখনও অনেক দূরে। পৃথিবীর কাছাকাছি আসতে তার বিস্তর দেরি। সেই ২১৩৫ সাল নাগাদ পৃথিবী আর চাঁদের মাঝামাঝি চলে আসবে এই বেন্নু। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে তার সময় লাগবে দেড়শো কি পৌনে দুশো বছর। নাসা এই গ্রহাণুর গতিবিধি বুঝে একে আটকানোর উপায় বের করেছে। বেন্নুতে পৌঁছে এই গ্রহাণুর হালহকিকত দেখার জন্য তার মহাকাশযান ‘ওসিরিস-রেক্স’ কে পাঠিয়েছে। এই মহাকাশযান বেন্নুতে পৌঁছে তার কার্বন ভরা পিঠ থেকে নুড়ি-পাথর কুড়িয়ে আনবে। গ্রহাণুতে জলের অস্তিত্ব আছে কিনা খুঁজে দেখবে।