
শেষ আপডেট: 21 November 2020 18:30
উত্তর মেরু থেকে ১৩০০ মাইল দক্ষিণে উটকিয়াগভিক শহর। সাধারণত দেখা যায় মেরু বলয়ের মধ্যে যদি ভৌগোলিক অবস্থান হয় তাহলেই এমন মহাজাগতিক ঘটনা দেখা যায়। বছরের কয়েক মাস সারাক্ষণ সূর্য থাকে আকাশে আবার কয়েক মাস একেবারেই সূর্যের দেখা মেলে না। সে সময় আকাশজুড়ে নর্দার্ন লাইট বা মেরুপ্রভা খেলা করে। উটকিয়াগভিক শহরও মেরু বৃত্ত বা আর্কটিক সার্কলের মধ্যে রয়েছে। তাই এখানেও এমন লুকোচুরি খেলে সূর্য।
প্যাসিফিক স্ট্যান্ডার্ড সময় অনুসারে বুধবার বেলা দেড়টার পরে সূর্য অস্ত গিয়েছিল। আকাশ মেঘলা ছিল। তবে সূর্যাস্ত দেখে তৃপ্তি পেয়েছিল শহরবাসী। উটকিয়াগভিকের ব্যারোতে প্রতিবছর এই সময় শেষবার সূর্যকে বিদায় জানাতে হাজির হন শহরের বাসিন্দারা। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মেঘ কেটে সূর্যের মুখ দেখা যাওয়ার পরেই উচ্ছ্বাস শুরু হয়। ভিডিওবন্দি করা হয় সেই মুহূর্ত। শহরের বাসিন্দারা বলেছেন, ‘আমাদের সবচেয়ে সুন্দর উজ্জ্বল বন্ধুটিকে বিদায় জানাতে এসেছি।’ শীতের রাত শুরু হবে উটকিয়াগভিকে। তার জন্য প্রস্তুতিও চলছে। ২২ জানুয়ারি বেলা ১টা ১৬ মিনিট নাগাদ ফের সূর্য উঠবে শহরের আকাশে।
এই দু’মাসের রাতকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলে পোলার নাইট বা মেরু রাত্রি। সূর্য থেকে অনেকটাই দূরে সরে যায় পৃথিবী। এই সময় নর্দার্ন লাইট দেখা যায় আকাশে। মেরু বলয়ের মধ্যে সুমেরুর খুব কাছাকাছি জায়গা থেকেই মেরুজ্যোতি দেখা যায়। উটকিয়াগভিকের জলবায়ুকেও বলে পোলার ক্লাইমেট। প্রচণ্ড ঠান্ডা, শুষ্ক আবহাওয়া। মেরু রাত্রির সময় শীত আরও জাঁকিয়ে পড়ে। অন্ধকার যত বাড়ে আলোর বিচ্ছুরণ খালি চোখে তত বেশি দেখা যায়। সুমেরুর মতো পৃথিবীর দক্ষিণার্ধের কুমেরু অঞ্চল থেকেও মেরুপ্রভা দেখা যায়। সবচেয়ে ভাল দেখা যায় অবশ্য আন্টার্কটিকা ভূখণ্ড থেকে। তা ছাড়া অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু জায়গা থেকে এই মেরুজ্যোতি দেখা যায়। সুমেরু অঞ্চলে দেখতে পাওয়া মেরুজ্যোতিকে অরোরা বোরিয়ালিস বা নর্দান লাইটস বলে। আর কুমেরু অঞ্চল থেকে দেখতে পাওয়া এই মায়াবী আলোকে অরোরা অস্ট্রালিস বা সার্দান লাইটস বলে।