জল রাখলেই নিমেষে বরফ, ফাইজারের টিকা তাজা রাখার বিশেষ হিমঘর দক্ষিণ কোরিয়ায়
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্টার্কটিকার শীতকেও হার মানাবে। এই হিমঘরে এক কাপ জল ছুড়ে দিলে নিমেষে বরফ হয়ে যায়। যত ঠান্ডা দরকার ততটাই তাপমাত্রা সেট করা যায় এই হিমঘরে। বিশ্বের জনপ্রিয় কোল্ট স্টোরেজ সুপারফ্রিজ ইঙ্কের শীতলতম ওয়্যারহাউজেই ফাইজারের টিকা রা
শেষ আপডেট: 10 December 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্টার্কটিকার শীতকেও হার মানাবে। এই হিমঘরে এক কাপ জল ছুড়ে দিলে নিমেষে বরফ হয়ে যায়। যত ঠান্ডা দরকার ততটাই তাপমাত্রা সেট করা যায় এই হিমঘরে। বিশ্বের জনপ্রিয় কোল্ট স্টোরেজ সুপারফ্রিজ ইঙ্কের শীতলতম ওয়্যারহাউজেই ফাইজারের টিকা রাখার ব্যবস্থা করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।
সিওল থেকে থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে সুপারফ্রিজের এই হিমঘর বিশেষভাবে বানানো হয়েছে করোনা টিকা সংরক্ষণের জন্যই। কোম্পানির সিইও কিম জিন-হা বলেছেন, হিমাঙ্কের যতটা নিচে সম্ভব তাপমাত্রা সেট করা যায় এই হিমঘরে। ফাইজারের টিকা তাজা রাখতে মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রা প্রয়োজন। তার থেকেও কম তাপমাত্রা এই হিমঘরের। জল রাখার সঙ্গে সঙ্গেই বরফ হয়ে যেতে পারে। যে কোনও ভ্যাকসিনই দুই থেকে তিন মাস, এমনকি প্রয়োজন হলে ছ’মাস অবধি টাটকা রাখা যাবে এখানে। টিকার উপাদান নষ্ট হবে না।
কোরিয়ার ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এজেন্সির উদ্যোগে নভেম্বর থেকেই সুপারফ্রিজের এই হিমঘরে ফাইজারের টিকা রাখার ব্যবস্থা শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিম বলেছেন, দেশের ২৬০টি জায়গায় টিকা পৌঁছে দেওয়া হবে। তার জন্য টিকার কয়েক লক্ষ ডোজ চলে আসবে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই। এই হিমঘরেই সংরক্ষণ করে রাখা হবে। টিকা হিমঘর থেকে বের করে বিশেষ ট্রান্সপোর্টেশন বক্সে ভরে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে। এই ট্রান্সপোর্টেশন বক্সেও একইরকম তাপমাত্রা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সুপারফ্রিজের এই হিমঘরের আয়তন ১৬০০ বর্গমিটার। লিকুইফায়েড ন্যাচরাল গ্যাসের (এলএনজি) সাহায্যে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের এতটা নিচে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। ২২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা সর্বক্ষণ নজরদারি চালায় ঘরের ভেতরে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খুব কড়া। কোম্পানির সিইও কিম বলেছেন, ফাইজারের ২ কোটি টিকার ডোজের জন্য সরকারের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এই পরিমাণ টিকার ডোজ রাখার ব্যবস্থা আছে শুধুমাত্র এই হিমঘরেই। তাছাড়া মোডার্নার টিকার রাখার জন্য মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রারও ব্যবস্থা আছে। এই ঠান্ডায় মোডার্নার টিকা অন্তত তিন মাস সংরক্ষণ করে রাখা যাবে।
ভারতে এখনও অবধি ফাইজারের টিকা রাখার মতো কোল্ড-স্টোরেজের বন্দোবস্ত নেই। কারণ এত ঠান্ডা হিমঘর এখনও অবধি তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তবে শোনা যাচ্ছে, লুক্সেমবার্গের নামী সংস্থা বি মেডিক্যাল সিস্টেমের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে সরকারের। লুক্সেমবার্গের প্রধানমন্ত্রী জেভিয়ার ব্যাটেলের সঙ্গে একদফা আলোচনাও হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। সবচেয়ে কম মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় টিকা তাজা রাখার মতো প্রযুক্তি আছে বি মেডিক্যাল সিস্টেমের। তাদের তৈরি কোল্ড-চেন অনেক উন্নতমানের। টিকার ভায়াল সঠিক তাপমাত্রায় রাখাই শুধু নয়, বিমানে চাপিয়ে টিকার ভায়াল নিয়ে যাওয়ার সময়েও নির্দিষ্ট তাপমাত্রার ট্রান্সপোর্টেশন বক্সের ব্যবস্থা করতে পারবে তারা। জানা গিয়েছে, গুজরাটে কোল্ড-চেন তৈরি করতে পারে এই ইউরোপিয়ান সংস্থা।