
শেষ আপডেট: 29 February 2020 18:30
ক্ল্যামাইডোমোনাস নিভালিস (Chlamydomonas nivalis)নামে ওই শ্যাওলা এককোষী। সাধারণত মেরুপ্রদেশেই এদের খোঁজ মেলে। বরফের উপর দলে দলে জন্মায় এরা। ক্যারোটিনয়েড রঞ্জকের জন্য এদের রঙ এমন টকটকে লাল হয়। এই রঞ্জকের কমবেশিতে গোলাপি, কমলা শৈবালও দেখা যায়। বরফের ভেতর ২০ সেন্টিমিটার গভীরতা পর্যন্ত এদের বিস্তার হয়। সূর্যের অতিবেগুলি রশ্মি শোষণ করতে পারে এরা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যেখানে এই শৈবাল জন্মায় সেখানকার বরফ গলতে থাকে। গলিত বরফ জলের সঙ্গে রঞ্জক ক্যারোটিনয়েড মিশে গিয়ে লাল রঙ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।
https://www.facebook.com/UAMON/posts/3335112826515272
আন্টার্কটিকায় এখন গ্রীষ্ম চলছে। এই সময়তেই ক্ল্যামাইডোমোনাসরা বেশি পরিমাণে জন্মায়। আন্টার্কটিকার ব্রিটিশ রিসার্চ স্টেশনের কাছে এমন রক্ত-লাল বরফ বেশি পরিমাণে দেখা গেছে। ইউক্রেনের বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু বদলের সঙ্গে এদের একেবারেই সম্পর্ক নেই সেটা বলা চলে না। বরং উষ্ণায়ণের প্রভাব পড়েছে এদের উপরেও। যে বরফের উপর এই শ্যাওলা জন্মাচ্ছে সেখানকার বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে। যেটা মোটেও ভাল দিক নয়।
আন্টার্কটিকার গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা রেকর্ড করে ফেলছে। দক্ষিণ মেরুর উত্তর প্রান্তের ‘এসপ্যারেঞ্জা বেসে’র তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ছুঁয়ে ফেলেছে ১৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফারেনহাইটের নিরিখে যেটা ৬৪.৯৪ ডিগ্রি। ‘ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএমও)’ জানিয়েছে, ২০১৫ সালে আন্টার্কটিকার একটি অংশের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে পৌঁছেছিল ১৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা সাড়ে ৬৩ ডিগ্রি ফারেনহাইটে। কিন্তু উষ্ণায়ণের কারণে আন্টার্কটিকার এই তাপমাত্রার বাড়বাড়ন্ত সব রেকর্ডই ভেঙে দিয়েছে। গত তিন বছরে আন্টার্কটিকার ওই অংশের তাপমাত্রা বেড়েছে প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জলবায়ু বদলের ভয়ঙ্কর প্রভাব আটকাতে না পারলে ২১০০ সালে পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অন্তত ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাবে। তাতে দুই মেরুর বরফ খুব দ্রুত গলতে শুরু করবে। যার জেরে উদ্বেগজনক ভাবে উঠবে সমুদ্রের জল-স্তর।