দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনের থেকেই ছড়িয়ে পড়ছে বিউবনিক প্লেগের মতো ভয়ঙ্কর মহামারী। এবার অভিযোগের আঙুল তুলল রাশিয়া। মঙ্গোলিয়ার যে এলাকাগুলিতে প্লেগের আতঙ্ক ছড়িয়েছে তার সীমান্ত লাগোয়া রাশিয়ার কয়েকটি পাহাড়ি এলাকাতেও বিউবনিক প্লেগের মতো সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে দাবি।
রাশিয়ার ফেডারেশন রসপোট্রবনেডজ়র জানিয়েছে, পূর্ব সাইবেরিয়ার বুরিশিয়া এলাকায় প্লেগের মতো সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইঁদুর, রডেন্ট জাতীয় প্রাণীদের অ্যান্টিজেন টেস্টিং করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানা হয়েছে মঙ্গোলিয়ার যে এলাকা দুই ভাইয়ের শরীরে বিউবনিক প্লেগের মতো সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল ওই এলাকার সীমান্ত লাগোয়া টুভা ও আল্টাই রাশিয়ার দুই পাহাড়ি অঞ্চল। এখানকার বাসিন্দাদের খাদ্যাভ্যাসেও মঙ্গোলিয়ার ছোঁয়া রয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে যাতায়াতও চলে। এর আগেও চিন থেকে বিউবনিক প্লেগের মতো সংক্রমণ এই দুই পাহাড়ি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইঁদুর বা ওই জাতীয় ছোট প্রাণীর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করেছিল প্রশাসন। খোলা বাজারে ইঁদুর বা রডেন্ট জাতীয় প্রাণীর মাংস বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞাও জারি হয়েছিল।
রাশিয়ার ফেডারেশন জানিয়েছে, বুরিশিয়া, আল্টাই ও টুভাতে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি হয়েছে। আর কোনও এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়েছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চিনের সীমান্ত লাগোয়া রাশিয়ার এই অঞ্চলগুলিতে প্লেগের মতো সংক্রমণ হামেশাই দেখা দেয়। রাশিয়ার দাবি, চিন থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বহু মানুষের যাতায়াতের কারণেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। বুরিশিয়ার স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, এই ধরনের প্লেগ পশুদের থেকে মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে। একবার হিউম্যান ট্রান্সমিশন শুরু হয়ে গেলে মহামারীর চেহারা নেবে এই সংক্রমণ।
এদিকে মঙঅগোলিয়ার বায়ান্নুর এলাকায় প্লেগের আতঙ্ক মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারি তরফে গোটা ব্যাপারটা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হলেও কিছু সংবাদমাধ্যমের তরফে খবর ছড়িয়েছে যে সংক্রামিতেদর সংস্পর্শে আসা চারশোর বেশি মানুষকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। করোনার অতিমহামারীর আগেও চিনের খোলা বাজার থেকে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া ঘটিত সংক্রমণ ছড়াবার বহু ঘটনা সামনে এসেছে। বিশেষত কাঁচা মাংসের দেদাড় বিক্রি, ইঁদুর, কুকুর, বাদুড় খাওয়ার অভ্যাস থেকে বিভিন্ন সময় প্লেগের মহামারী ছড়িয়েছে চিনের নানা প্রদেশে। চিনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশন জানিয়েছে, ২০১৪ সালেই বিউবনিক প্লেগের মতো সংক্রমণ ছড়িয়েছিল কয়েকটি প্রদেশে। সরকারি খাতায় পাঁচ জনের মৃত্যু দেখানো হয়েছিল। তবে বেসরকারি হিসেবে সেই সংখ্যা ছিল বেশি।
ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস নামে একধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে এই রোগ হয়। ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের অন্তত সাতদিন পরে জ্বর, সর্দি-কাশি, পেট খারাপ-বমির মতো উপসর্গ দেখা দিতে থাকে। ত্বকের যেখান দিয়ে ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে সেখানকার লসিকাগ্রন্থি ফুলে ফেটে যায়। জ্বালাপোড়ার মতো ব্যথা শুরু হয়। এই জাতীয় সংক্রামক রোগ ছড়ায় মূলত ইঁদুর বা ওই জাতীয় প্রাণীর থেকে। মধ্যবর্তী বাহক হল মাছি। প্রাণীর মৃতদেহ, মল-মূত্র থেকে মাছি বাহিত হয়ে এই ব্যাকটেরিয়া মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে। চিনে বিউবনিক প্লেগের আতঙ্কের কথা জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও। সংক্রমণ কী পর্যায়ে ছড়িয়েছে বা ছড়াতে পারে সেই বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে হু।