
শেষ আপডেট: 12 February 2019 18:30
‘‘গত মঙ্গলবার রাতে জঙ্গলের ভিতরে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় বাঘটিকে। তার সঙ্গে ছিল একটি চিতা। সম্ভবত সেটিই তার মা। তবে সেই চিতার গায়ের রং কালো ছিল না,’’ নিকের দাবি, লয়সাবায় দেখা যাওয়া এই কালো বাঘটি বিরল প্রজাতির আফ্রিকান ব্ল্যাক প্যান্থার। ব্ল্যাক প্যান্থারে আসলে চিতাবাঘ, যার শরীরের মেলানিন বেশি থাকায় কালো রঙের প্রভাব বেশি থাকে। আফ্রিকান ব্ল্যাক প্যান্থারদের গায়ের রং হয় আরও মিশমিশে কালো। অন্ধকারে ঘাপটি মেরে থাকলে এদের তফাৎ করা যায় না। স্বভাবেও অনেক বেশি হিংস্র।
সান দিয়েগো জু’র জীববিজ্ঞানী বুরার্ড-লুকাস জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির প্রথমে ক্যামেরায় কালো বাঘের অস্পষ্ট ছবি ধরা পড়ে। তখনও ঠিক বোঝা যায়নি বিষয়টা ঠিক কি, পরে গোটা জঙ্গলেই হাই কোয়ালিটি ডিএসএলআর, ওয়্যারলেস মোশন সেন্সর বসিয়ে দেওয়া হয়। তাতেই ধরা দেয় বাঘ বাবাজী। লুকাসের কথায়, ‘‘কেনিয়ায় কালো বাঘ ভাবাই যায় না। গত কয়েকদিনের ভিডিও ফুটেজ দেখে আমি তাজ্জব হয়ে যাই। এই অভয়ারণ্যে একটিই এমন দেখা গেছে। বিরল প্রজাতির এই আফ্রিকান ব্ল্যাক প্যান্থারটিকে সংরক্ষণ করাই এখন আমাদের কাজ। ’’

আফ্রিকার উপজাতিদের কাছে এই ব্ল্যাক প্যান্থার বিভীষিকা। স্থানীয়রা বলেন ‘কালো শয়তান’। নিকের কথায়, সাধারণত জিনের মিউটেশনের ফলেই ত্বকের রঙে মেলানিনের তারতম্য ঘটে এমন কালো রং হয় চিতাদের। তাদেরই ব্ল্যাক পান্থার বলে। ১১ শতাংশ ক্ষেত্রে এমনটা ঘটে। তাই স্বভাবতই এদের সংখ্যা অনেক কম। তার উপর চোরাশিকারিদের দৌরাত্ম্য তো আছেই। ব্ল্যাক প্যান্থারেরা খুব হিংস্র ও চতুর হয়। মানুষের রক্তের স্বাদ পেলে এদের মেজাজই বদলে যায়। তাই ভয় ও আতঙ্কের কারণে এই বাঘ দেখা দিলেই গ্রামবাসীরাও এদের পিটিয়ে হত্যা করে। নেচার’স রেড লিস্টে বিরল প্রজাতির প্রাণিদের তালিকায় এদের নাম প্রথমেই রয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি দেখা মেলে ব্ল্যাক প্যান্থারের। উত্তর আফ্রিকার আটলাস পার্বত্য এলাকায়, দক্ষিণ আফ্রিকা ও উত্তর ইরানে কখনও সখনও দেখা দেয় এরা। উত্তর ভারতের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে ২০১৭ সালে খোঁজ মিলেছিল একটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী ব্ল্যাক প্যান্থারের। তা ছাড়া, কর্নাটকের ডানডেলি, কাবেনি ও ভদ্রা অভয়ারণ্য, অসমের মানস সহ দেশের কয়েকটি জায়গায় আগে ক্যামেরাবন্দি হয়েছে কালো বাঘ।