দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন বছরে শুভেচ্ছা জানাতে আসা এক মহিলার হাত চাপড় মারার জন্য ক্ষমা চাইলেন রোমান ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ ফ্রান্সিস। আশীর্বাদ নিতে গিয়ে ওই মহিলা এমনভাবে পোপের হাত টেনে ধরেন যে শেষ পর্যন্ত তাঁর হাতে কয়েকটা চাপড় মারতে দেখা যায় ভ্যাটিকানের পোপকে। তাঁর মুখেও ফুটে উঠেছিল বিরক্তির ছায়া। এই সবকিছুর জন্যই প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন পোপ ফ্রান্সিস।
৮৩ বছরের পোপের কথায়, “আমরা অনেক সময়ই ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলি। ছোট ছোট ব্যাপারে বিরক্ত হই, এগুলো খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরি করে। গতকালের ঘটনার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।”
দেখুন সেই ভিডিও:
https://twitter.com/CNN/status/1212324137936605185?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1212324137936605185&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.news18.com%2Fnews%2Fbuzz%2Fpope-francis-apologises-for-slapping-womans-hand-to-free-himself-from-her-grip-2442583.html
নতুন বছরের শুরুর লগ্নে সেন্ট পিটার্স স্কোয়ারে জমায়েত হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। পোপ ফ্রান্সিসও তাঁদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন। হাত মিলিয়ে অভিনন্দন জানাচ্ছিলেন অনুগামীদের। একটি শিশুর সঙ্গে হাত মেলানোর পরেই ভিড়ের মধ্যে থেকে পোপের হাত টেনে ধরেন এক মহিলা। পোপ আশীর্বাদ করার পরেও হাত ছাড়তে চাইছিলেন না তিনি। বাধ্য হয়েই হাত ছাড়াতে মহিলার হাতে কয়েকটা চাপড় মারেন পোপ ফ্রান্সিস। এই ঘটনার ভিডিও মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। পোপের মুখে বিরক্তি দেখে শুরু হয় বিতর্ক। আজ, বৃহস্পতিবার এই ঘটনা প্রসঙ্গেই পোপ বলেন, “আমার বিরক্ত হওয়া উচিত হয়নি। এটা আচরণের একটা খারাপ দিক। তার জন্য আমি দুঃখিত।”

এদিন সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকায় নারী নির্যাতন নিয়ে নিজের বক্তব্য রাখেন রোমান ক্যাথলিক চার্চের প্রধান। তিনি বলেন, “নারী শরীরের অবমাননা এখন সর্বত্র। নারী নির্যাতন ঈশ্বরের কাছে অপবিত্র। বিজ্ঞাপন, পর্নোগ্রাফিতে নারী শরীরকে ভোগ্যপণ্য করে বেচা হচ্ছে। নারী ভোগের বস্তু নয়, সম্মানের, এটা আমাদের সবার মনে রাখা উচিত।“
পোপের কথায়, নারীদের সর্বদা দ্বিতীয় শ্রেণির মনে করার প্রবণতার মধ্যেই এই ধরনের নির্যাতন ও হেনস্থার শিকড় পোঁতা রয়েছে। নারীরাই সৃজন করেন, অথচ তাঁদেরই ধর্ষণ, অত্যাচার, দেহব্যবসার মতো ঘৃণ্য, নারকীয় নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। নারীরা সম্মান না পেলে সমাজ অন্ধকারে ঢেকে যাবে।