দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘সোনার দিনার নেই, দেনমোহর চেয়ো না হরিণী/ যদি নাও, দিতে পারি কাবিনবিহীন হাত দু’টি’, কবির লেখা এই সনেট একসময় ঘুরত লোকের মুখে মুখে। দুই বাংলার মাটিকেই সমৃদ্ধ করে কবি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। শুক্রবার রাত ১১টা নাগাদ ঢাকার ইবা সিনা হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে জনপ্রিয় কবি, লেখক আল মাহমুদ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন দীর্ঘদিন। চোখের দৃষ্টিও ক্ষীণ হয়ে এসেছিল। গত ৯ ফেব্রুয়ারি তাঁকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। পরিবার সূত্রে খবর, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন কবি। শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হচ্ছিল। শুক্রবার রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্ম কবির। চট্রগ্রামের সীতাকুন্ড হাইস্কুলে পড়াশুনা করেন তিনি। কর্মজীবন শুরু সাংবাদিকতার হাত ধরে। মীর আবদুর সুকুস আল মাহমুদ জনমানসে আল মাহমুদ নামেই অধিক পরিচিত। তিনি শুধু বাংলাদেশের বিশিষ্ট কবি নন, আদ্যোপান্ত বাংলা ভাষার কবি। কবিতা ছাড়া তাঁর দ্বিতীয় কোনও প্রেম নেই। প্রথম গ্রন্থ লোক লোকান্তর (১৯৬৩), তারপর কালের কলস (১৯৬৬)। সোনালি কাবিন (১৯৭৩) থেকে তাঁর মানসভুবন ভিন্ন মাত্রা পেয়ে যায়।
কবিতা, ছোট গল্প, উপন্যাস, সব শাখাতেই তাঁর বিচরণ থাকলেও কবি হিসেবেই জনপ্রিয়তা লাভ করেন। ১৯৭২ সালে তৎকালীন গণকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁর লেখার বেশিরভাগ অংশ জুড়েই রয়েছে বাংলার মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব। প্রথমে বামপন্থী ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হলেও ১৯৭৪ সালের পর থেকে তাঁর লেখায় ইসলামি ভাবধারা লক্ষ্য করা যায়। প্রবল ধর্মীয় বোধ, কবিতায় মুসলিম ঐতিহ্যের নানা প্রকাশ, শব্দ নির্বাচন, তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও মনোভঙ্গি এবং জীবনযাপনে ধর্মীয় বিষয়াবলির অধিক প্রাধান্য তাঁকে বারে বারে বিতর্কিত করেছে। তবুও পাঠক মনে তাঁর জনপ্রিয়তায় কখনও ভাটা পড়েনি। আজও আল মাহমুদের বহু কবিতা সাহিত্য পিপাসুদের মনে আলোড়ন তোলে।