দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুখবর কি আসতে চলেছে? অক্টোবরেই কি টিকার অনুমোদন পেয়ে যাবে মার্কিন ফার্মা জায়ান্ট ফাইজার? জল্পনা চলছেই।
মোডার্না বায়োটেকের পরে আমেরিকায় ভ্যাকসিন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে ফাইজারই। জার্মান বায়োটেকনোলজি সংস্থা বায়োএনটেকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আরএনএ (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) টেকনোলজিতে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ডিজাইন করেছে ফাইজার। কিছুদিন আগেই ভ্যাকসিনের প্রথম পর্বের ট্রায়ালের রিপোর্ট সামনে এনেছে ফাইজার। সেই রিপোর্টে জানানো হয়েছে, টিকা মানুষের শরীরে খুব ভাল কাজ করছে। প্রথম দফায় যাঁদের টিকা দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হতে শুরু করেছে।
ফাইজারের চিফ একজিকিউটিভ অফিসার অ্যালবার্ট বোরলা জানিয়েছেন, তৃতীয় স্তরের ট্রায়াল চলছে ফাইজারের। অক্টোবরের মধ্যে ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটির কাছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্বের ট্রায়ালের বিস্তারিত রিপোর্ট জমা করতে হবে। টিকার ট্রায়ালের ফলাফল, মানুষের শরীরে এর প্রভাব, কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছে কিনা বা হলেও কতদিন স্থায়ী ছিল, ইত্যাদি নানা বিষয় খুঁটিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এই টিকা মানুষের শরীরে সম্পূর্ণ নিরাপদ মনে হলেই ক্লিনচিট দিয়ে দেবে রেগুলেটরি কমিটি। তাহলে অক্টোবরেই প্রথম দফায় ভ্যাকসিনের ডোজ চলে আসবে বাজারে। বোরলা জানিয়েছেন, এখন থেকেই কয়েক লাখ ভ্যাকসিনের ডোজ তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।
https://twitter.com/pfizer/status/1296473332372639746
জার্মান বায়োটেকনোলজি ফার্ম বায়োএনটেক এসই-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কোভিড ভ্যাকসিন বানাচ্ছে ফাইজার। ফাইজারের ভ্যাকসিন রিসার্চ বিভাগের প্রধান ক্যাথরিন জ্যানসেন বলেছেন, এই আরএনএ ভ্যাকসিন দেহকোষকে ভাইরাল প্রোটিন তৈরিতে বাধ্য করে যাতে তার প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি শরীরেই তৈরি হয়ে যায়। এই গবেষণার নেতৃত্বে রয়েছেন জার্মানির বায়োএনটেকের অধ্যাপক উগার সাহিন। তিনি জানিয়েছেন এই আরএনএ ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের নাম BNT162। মানুষের শরীরে ‘মেমরি বি সেল’ তৈরি করবে যা থেকে দেহকোষে ভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হবে। অ্যান্টিবডি বেসড ইমিউন রেসপন্স বা অ্যাডাপটিভ ইমিউন রেসপন্স তৈরি করবে এই ভ্যাকসিন। ফলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।
মে মাস থেকে BNT162 ভ্যাকসিনের প্রয়ম পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু করেছিল ফাইজার-বায়োএনটেক। ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সীদের বেছে নেওয়া নেওয়া হয়েছিল প্রথম পর্যায় অর্থাৎ ফেজ-১ ট্রায়ালের জন্য। ফাইজারের ভ্যাকসিন রিসার্চ বিভাগের প্রধান ক্যাথরিন জ্যানসেন বলেছেন, প্রথম ধাপে ৪৫ জন সুস্থ ব্যক্তির শরীরে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। তাদের দুটি দলে ভাগ করে ২৪ জনকে হাই ডোজে ভ্যাকসিনের দুটি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। বাকিদের দেওয়া হয় কম ডোজে। এরপরে তাদের শারীরিক পরিবর্তন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। দেখা গেছে, যাদের বেশি ডোজে ভ্যাকসিনের দুচি শট দেওয়া হয়েছিল তাঁদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে শুরু করেছে। শুধু তাই নয় অ্যান্টিবডির পরিমাণও বেশি। প্রথম ট্রায়ালের সাফল্য দেখেই ভ্যাকসিনের ডোজ তৈরি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ১০ কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। চূড়ান্ত পর্যায়ে সাফল্য এলে আগামী বছরের মধ্যে ১২০ কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ তৈরি করে ফেলা হবে বলে জানিয়েছে ফাইজার।