দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকায় ভ্যাকসিন দৌড়ে কে এগিয়ে থাকবে মোডার্না বায়োটেক নাকি ফাইজার সেই নিয়ে জোর চর্চা চলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির দুই ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থাই তাদের চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়ালে রয়েছে। দুই সংস্থার তৈরি আরএনএ ভ্যাকসিনের ট্রায়ালেই সাফল্য মেলার দাবি করা হয়েছ। সম্প্রতি ফাইজার জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরেই করোনার টিকা নিয়ে আসতে পারে তারা। জরুরি ভিত্তিতে টিকা নিয়ে আসার জন্য মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কাছে সেফটি ট্রায়ালের ডেটাও জমা দেবে ফাইজার।
আমেরিকার কোনও ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থাই এখনও অবধি টিকা নিয়ে আসার টাইমলাইন দেয়নি। প্রথমবার মার্কিন ফার্মা জায়ান্ট ফাইজার জানাল, নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহেই টিকার ডোজ নিয়ে আসতে চায় তারা। ক্নিনিকাল ট্রায়ালের রিপোর্ট তার আগেই জমা করা হবে। টিকার পর্যাপ্ত উৎপাদনের পরিকাঠামোও তৈরি। বেশি সংখ্যক মানুষকে যাতে টিকার ডোজ দেওয়া যায় সে চেষ্টা করা হচ্ছে সংস্থার তরফে।
ফাইজারের চিফ একজিকিউটিভ অফিসার অ্যালবার্ট বোরলা বলেছেন, টিকার চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়ালে আশা জাগছে। টিকার ডোজের মাত্রাও নির্ধারণ করা হয়ে গেছে। উৎপাদন শুরু হচ্ছে। জার্মান সংস্থা বায়োএনটেকের সহযোগিতায় টিকার সুরক্ষা ও কার্যকারীতা নিশ্চিত করা গেছে। প্রায় ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে টিকার ইঞ্জেকশন দিয়ে কোনও অ্যাডভার্স সাইড এফেক্টস দেখা যায়নি। আরও বেশি জনের উপরে এখন টিকার ট্রায়াল শুরু হয়েছে। অক্টোবরের মধ্যেই সেফটি ট্রায়ালের রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের রেগুলেটরি কমিটির কাছে। এরপর এফডিএ সায় দিলেই টিকা চলে আসবে দ্রুত।
জার্মান বায়োটেকনোলজি ফার্ম বায়োএনটেক এসই-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কোভিড ভ্যাকসিন বানিয়েছে ফাইজার। এই আরএনএ ভ্যাকসিন দেহকোষকে ভাইরাল প্রোটিন তৈরিতে বাধ্য করে যাতে তার প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি শরীরেই তৈরি হয়ে যায়। এই গবেষণার নেতৃত্বে রয়েছেন জার্মানির বায়োএনটেকের অধ্যাপক উগার সাহিন। তিনি জানিয়েছেন এই আরএনএ ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের নাম BNT162। মানুষের শরীরে ‘মেমরি বি সেল’ তৈরি করবে যা থেকে দেহকোষে ভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হবে। অ্যান্টিবডি বেসড ইমিউন রেসপন্স বা অ্যাডাপটিভ ইমিউন রেসপন্স তৈরি করবে এই ভ্যাকসিন। ফলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।
নভেম্বরের পেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই করোনার টিকা আনার কথা বলেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্ডি অ্যান্ড ইনফেকশিয়াস ডিজিজের প্রধান অ্যান্থনি ফৌজিও বলেছিলেন, বছর শেষের আগেই টিকা চলে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মোডার্না না ফাইজার, কার টিকা আগে আসবে সেটাই এখন দেখার।