দ্য ওয়াল ব্যুরো: শয়ে শয়ে মৃত্যু। আতঙ্ক। আর্তনাদ। গুজব। ঘরবন্দি মানুষজন এক অদ্ভুত প্যানিকে ভুগছেন। মানুষ তো বটেই, পোষ্যদের থেকেও ছড়াতে পারে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ, এমন বিশ্বাস চেপে বসেছে অধিকাংশেরই মনে। তার ফলও হয়েছে মারাত্মক। উঁচু বিল্ডিং, টাওয়ার থেকে পোষ্যদের ছুঁড়ে ছুঁড়ে রাস্তায় ফেলে হত্যা করছেন চিনের বাসিন্দারা। শুক্রবার থেকেই উহান-সহ অন্যান্য শহরের রাস্তাজুড়ে শুধুই কুকুর-বিড়ালের শব।
হুবেই প্রদেশের তিয়ানজিন শহরের রাস্তায় পোষ্য কুকুরদের মৃতদের ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। সেইসব দেহে পচনও ধরছে। কিন্তু সংক্রমণ ছড়ানোর ভয়ে দেহ উদ্ধারের কাজে এগিয়ে আসেননি প্রশাসনের লোকজনও। সূত্রের খবর, গতকাল সন্ধে থেকেই সাংঘাইয়ের রাস্তা থেকে পাঁচ-ছ’টি বিড়ালের দেহ উদ্ধার হয়েছে। উঁচু বিল্ডিং থেকে এদের ছুঁড়ে ফেলা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রে চিনের রাস্তায় পড়ে থাকা পোষ্য কুকুর-বিড়ালদের মৃতদেহের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরালও হয়েছে। জানা গেছে, শুক্রবার থেকেই পোষ্য-নিধনে মেতেছে অধিকাংশ পরিবার। মানসিক অসুস্থতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, অনেকে আবার উঁচু বিল্ডিং থেকে পোষ্যদের ছুঁড়ে ফেলেও শান্তি পাননি, গাড়ি চালিয়ে সেই দেহ পিষেও দিয়েছেন।

চিনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের রিপোর্ট বলছে, পোষ্যদের থেকে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াচ্ছে না। কিন্তু একশ্রেণির সংবাদমাধ্যম ভুয়ো খবর রটায় যে আক্রান্ত মানুষের সংস্পর্শে থাকা পোষ্যদের থেকেই মহামারীর চেহারা নিয়েছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। এই খবর সামনে আসার পর থেকেই এমন নির্মম হত্যালীলায় মেতেছেন মানুষজন। পশু নিধন রুখতে কড়া নির্দেশও জারি করা হয়েছে।
চিনের 'পিপল ফর দ্য এথিকাল ট্রিটমেন্ট অব অ্যানিম্যালস' (পেটা)-র প্রেস অফিসার কেইথ গুয়ো বলেছেন, “আমরা আশা করছি এমন ঠাণ্ডা মাথার খুনিদের শনাক্ত করতে পুলিশ উপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে। পশু-খুনিদের কঠোর শাস্তি চাই।”
একদিকে নির্মম হত্যা অন্যদিকে পশুদের ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে অনেককেই। ৩৩ বছরের ঝোউ তিয়ানজিও একমাসের মধ্যে কুকুর-বিড়ালদের জন্য ১৫০টি মাস্ক বেচেছেন। পোষ্যদের জন্য তিনি বিশেষ ধরনের মাস্ক তৈরিও করছেন।
গত বছরের শেষের দিকে উহানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়। এখনও পর্যন্ত চিনে মারা গিয়েছেন অন্তত ২৫৯ জন। আক্রান্ত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। চিন থেকে অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে ওই রোগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গ্লোবাল হেলথ এমার্জেন্সি জারি করেছে।