
শেষ আপডেট: 5 May 2019 18:30
নিজের হাতে প্লেন বানানোর ধারণাটা আসে সেই ২০১২ সালেই, এমনটাই জানিয়েছেন ফৈয়াজ। ওই বছরই তিনি নাকি এমন একটা গাড়ি বানিয়েছিলেন যেটা জলেও দিব্যি চলতে পারে। তবে সেই গাড়ি নাকচ করে দিয়েছিল পুলিশ। এর পরেই এয়ারক্র্যাফ্ট বানানোর পরিকল্পনা। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকে প্লেন দুর্ঘটনার কোনও সিরিজ দেখালেই সেটা মন দিয়ে দেখতে বসে যেতেন ফৈয়াজ। কী ভাবে প্লেন উড়ছে, ল্যান্ড করছে খুঁটিয়ে সবটাই দেখতেন তিনি। তারপর অনলাইনে খোঁজাখুঁজি তো রয়েছেই। প্লেনের বড় বড় ব্লু-প্রিন্ট বার করে আনতেন দোকান থেকে, সেগুলি দেখেই নিজের প্লেনের নকশা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করতেন।
“একদিন মাথায় নিখুঁত প্ল্যান চলে এল। রোডকাটার দিয়ে বানালাম ইঞ্জিন, চটের ডানা আর রিকশার চাকা হলো প্লেনের চাকা। তৈরি হয়ে গেল মিনি এয়ারক্র্যাফ্ট,” যুবকের চোখে গর্ব। তবে এই প্লেন বানানোর জন্য কাঠখড় কিছু পোহাতে হয়নি। জানিয়েছেন, নিজের কিছুটা জমি বেচে আর একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কাছ থেকে ৫০,০০০ টাকা ধার নিয়ে ছোটখাটো একটা ল্যাবরেটরি বানিয়ে ফেলেছিলেন। সেখানেই নিজের স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিয়েছেন তিনি। ফেব্রুয়ারিতে একবার ট্রায়াল দেয় তাঁর এই মিনি এয়ারক্র্যাফ্ট। পরে মার্চে লোকজন ডেকে প্লেন উড়িয়ে দেখান ফৈয়াজ। ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে দু’আড়াই কিলোমিটার উড়েও ছিল এই প্লেন। তবে লাইসেন্স ছাড়াই যুবকের এমন প্লেন ওড়ানো দেখে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে ৩০০০ টাকা বন্ডে ছাড়া পান তিনি। তবে ফৈয়াজের সৃজনশীল প্রতিভার প্রশংসা করতে ভোলেননি পুলিশ কর্তারা।
সম্প্রতি বায়ুসেনার নজরে পড়েছে ফৈয়াজের এই প্লেন। বায়ুসেনার তরফে তাঁদে সার্টিফিকেট দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। “আগে ভাবতাম আমার স্বামী পাগলামি করছে। অভাবের সংসারে এমন খেয়ালকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়। কিন্তু এখন আমাদের গর্ব হচ্ছে,” জানিয়েছেন ফৈয়াজের স্ত্রী মুমতাজ বিবি।
তবে ফৈয়াজের আক্ষেপ লাইসেন্স এখনও হাতে পাননি তিনি। অফিসার জাফার ইকবাল বলেছেন, অপেক্ষা আর কিছুদিনের। লাইসেন্স পেলেই ইচ্ছামতো আকাশে ডানা মেলতে পারবে ফৈয়াজের এয়ারক্র্যাফ্ট।