দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলওয়ামায় আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার পর ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রায় তলানিতে। বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে গোটা দেশ। অশান্ত উপত্যকা। দু’দেশের এই উত্তপ্ত সম্পর্কের মধ্যেই করাচির স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ভিডিও ভাইরাল হতেই যেন আগুনে ঘি পড়ল। ভারতের জাতীয় পতাকা দুলিয়ে পাক পড়ুয়াদের নাচানাচি করতে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন প্রশাসনিক কর্তারা। পত্রপাঠ বাতিল করা হল স্কুলের রেজিস্ট্রেশন।
করাচির ‘মামা বেবি কেয়ার কেমব্রিজ’ স্কুলের ওই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল গত সপ্তাহে। সম্প্রতি সেই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিওতে দেখা যায়, স্টেজের উপর জ্বলজ্বল করছে ভারতের জাতীয় পতাকা। তার সামনে নাচছে খুদে পড়ুয়ারা। ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছে ‘ফির ভি দিল হ্যায় হিন্দুস্তানি।’ গানের তালে তালে দিব্যি হাসিমুখে নেচে চলেছে খুদেরা। মুখে আওড়াচ্ছে গানের কলি।
https://youtu.be/dvdgwZzLSfE
এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় অশান্তি। পাকিস্তানে ভারতীয় সংস্কৃতির প্রচার চালাচ্ছে এই স্কুল, এমন অভিযোগ তুলে স্কুল কর্তৃপক্ষকে শোকজ নোটিশ ধরায় ডিরেক্টরেট অফ ইন্সপেকশন অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অফ প্রাইভেট ইন্সটিটিউশন সিন্ধ (ডিআইআরপিআইএস)। অনুষ্ঠানের দিন ঠিক কী কী হয়েছিল তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। ডিআইআরপিআইএস-এর রেজিস্ট্রার রাফিয়া জাভেদ বলেন, ‘‘পাকিস্তানের যে কোনও স্কুলে বা শিক্ষাক্ষেত্রে ভারতীয় ভাবধারা ও সংস্কৃতির প্রচার দেশের জাতীয় মর্যাদার বিরোধী। দেশের সম্মান নষ্ট হবে এমন কোনও কাজই বরদাস্ত করা হবে না।’’ জাভেদের দাবি, এমন ঘটনা দেশের মানুষের রাগ ও হিংসাকে অনেক বাড়িয়ে দেবে।
ঘটনার স্বপক্ষে যদিও মুখ খোলেননি স্কুল কর্তপক্ষ তবে ডিআইআরপিআইএস-এর এই পদক্ষেপে নিন্দার ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল ফতিমা জানিয়েছেন, দেশের মর্যাদা নষ্ট হবে এমন কোনও কাজই করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তোলাই ছিল এই অনুষ্ঠানের লক্ষ্য। তার মধ্যে ভারত যেমন ছিল, তেমনি ছিল সৌদি আরব, মিশর, আমেরিকা, পাকিস্তান-সহ অন্যান্য দেশও।’’ ফতিমার কথায়, অনুষ্ঠানের একটা অংশ শুধু ভাইরাল করা হয়েছে। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, রাজনৈতিক হিংসা ছড়ানোর জন্যই কেউ এমন কাজ করেছে।