দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিরাপত্তা ও তথ্য চুরির অভিযোগে চিনা ভিডিও অ্যাপ টিকটক নিষিদ্ধ করেছে ভারত। আমেরিকাও একই পথে হেঁটেছে। তাই বলে পাকিস্তান!
চিনের ‘বন্ধু’ বলে যাদের এত নামডাক, সেই পাক সরকারই নাকি টিকটক ভিডিও অ্যাপ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিচে চলেছে। পাক সরকারের তিন উচ্চপদস্থ কর্তা সংবাদমাধ্যমকে এমনটাই জানিয়েছে। সরকারি বিবৃতি এখনও না এলেও, প্রাথমিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে চিনা ভিডিও অ্যাপ বন্ধ করে দিতে পারে পাক সরকার।
কারণটা কী? পাক সরকারের আধিকারিক বলছেন, নিরাপত্তা ইস্যু নয়। তথ্য চুরির কোনও অভিযোগ তাঁরা তোলেননি। পাকিস্তানের দাবি, টিকটকে দেদাড় অনৈতিক পোস্ট করা হয়। অশ্লীল ছবি ও ভিডিও আপলোড হয়। আপত্তির মূল কারণ এখানেই। টিকটকে পোস্ট হওয়া অশ্লীল ছবি, ভিডিও পাক জনগনের উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে দাবি ইমরান খান সরকারের।
আপত্তিটা উঠেছিল সেই জুলাই মাস থেকেই। টিকটক অনৈতিক পোস্ট শেয়ার করছে বলে সতর্ক করেছিল পাকিস্তানের টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষ। আপত্তিকর পোস্ট বন্ধ না হলে টিকটক নিষিদ্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানানোও হয়েছিল। সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাক সরকারের এক আধিকারিক বলেছেন, “আমরা ওদের বারে বারেই বলেছি আপত্তিকর পোস্ট শেয়ার বন্ধ করতে। অশ্লীল, অনৈতিক ভিডিও আমাদের যুব সমাজের উপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। টিকটকে খুশি নয় পাক সরকার। তাই এই ভিডিও অ্যাপ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।”
এর আগে লাইভ স্ট্রিমিং অ্যাপ বিগো নিষিদ্ধ করেছিল পাকিস্তান। সেখানেও অনৈকিতকার প্রশ্ন উঠেছিল। পাক সরকারের আধিকারিকদের দাবি, চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়ার পরেও টিকটকে অশ্লীল পোস্ট বন্ধ হয়নি। তাই পাকিস্তানের টেলিকমিউনিকেশনকে এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পাক সরকার। যদিও এ ব্যাপারে টিকটক এখনও পর্যন্ত কিছু জানায়নি।
দেশের নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে মোট ৫৯টি চিন অ্যাপ ব্লক করা হয়েছে ভারতে। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল টিকটক, ইউসি ব্রাউজারের মতো চিনা অ্যাপগুলি দেশের সার্বভৌমত্ব, সংহতি, প্রতিরক্ষা, দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক। নিষেধাজ্ঞা জারির পরে টিকটকের মালিক সংস্থা বাইটড্যান্সের পক্ষে দাবি করা হয়, তারা তথ্য সংক্রান্ত গোপনীয়তা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত ভারতীয় আইন মেনে চলে। এটাও জানানো হয় যে, ভারতের কোনও গ্রাহকের কোনও তথ্যই তারা চিন কিংবা অন্য কোনও বিদেশি সরকারকে দেয় না। যদিও সেই দাবিকে আমল দেয়নি নয়াদিল্লি।
ভারতের পর পর আমেরিকাও টিকটক নিষিদ্ধ করার পথে হাঁটে। সম্প্রতি টিকটক অ্যাপ সংস্থার সঙ্গে সবরকম আর্থিক লেনদেন বন্ধ করার নির্দেশও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প প্রশাসন নির্দেশিকা জারি করেছে, অ্যাপল ও গুগল স্টোর থেকে এই ভিডিও অ্যাপ ডাউনলোড করতে পারবেন না মার্কিন বাসিন্দারা। অন্যদিকে মেসেজিং অ্যাপ উইচ্যাট পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার কথা বলেছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, দেশের জাতীয় নিরাপত্তায় হস্তক্ষেপ করছে টিকটক ও উইচ্যাট। তথ্য চুরির চেষ্টাও করেছে এই দুই চিনা অ্যাপ। তাই দেশের জনগনের নিরাপত্তার স্বার্থে এই দুই অ্যাপ বন্ধ করে দেওয়ারই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা।