
শেষ আপডেট: 9 September 2020 18:30
পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ুর বদল ভয়ঙ্কর চেহারা নিয়ে নেমে আসছে বিশ্বের সর্বত্রই। কখনও দাবানল, কখনও হিমবাহ গলে সমুদ্রের জল বাড়ছে। সেই সঙ্গেই তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে পৃথিবীর। বিশ্ব উষ্ণায়ন ছিল শুধুই বিপদের আগাম পূর্বাভাস। এবার সরাসরি তার ফল ভুগতে শুরু করেছে মানুষ। দাবানলের আঁচে পুড়ে ছাই উত্তর সাইবেরিয়া, উত্তর স্ক্যান্ডিনেভিয়া, আলাস্কা, গ্রিনল্যান্ড, মেরুপ্রদেশের একটা বিশাল অংশ। ব্রিটেন, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, জার্মানিকে পুড়িয়ে তাপপ্রবাহ এগিয়ে চলেছে মেরুপ্রদেশের দিকে। আবহবিদেরা বলছেন, শীঘ্রই এ গরমের আঁচ টের পাবেন নরওয়ে, সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের বাসিন্দারা। ৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধি মানেই সমুদ্রের জলস্তর আধ মিটার উঁচু হবে, মেরুপ্রদেশের বরফ গলে নির্গত হবে মিথেন। একটা সময় দেখা যাবে বরফ না-থাকায় সূর্যের তাপ আর রশ্মি শুষে নেওয়ার উপায় থাকবে না। আবহবিজ্ঞানীরা বলছেন, গত ৫০ বছরে মেরুপ্রদেশের তাপমাত্রা বেড়েছে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আন্টার্কটিকের এসপেরানজা বেসের অবস্থা বিপজ্জনক জায়গায় দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছরই একটু একটু করে তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে। আর্জেন্টিনার অন্য বেস মারাম্বিও, যা এসপেরানজা থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে, সেখানেও তাপমাত্রা বাড়ছে দ্রুত হারে। ২০১৩ সালে এই এলাকার তাপমাত্রা ছিল ১৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে ১৪.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
২০১৫ সালে ডিসেম্বরে প্যারিসে সংযুক্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের উদ্যোগে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো নিয়ে ১৯০টি দেশ একটি সমঝোতা পত্রে স্বাক্ষর করে। এটাই বিখ্যাত প্যারিস চুক্তি। এই চুক্তিতে ঠিক হয়েছিল, পৃথিবীর গড় উষ্ণতার বৃদ্ধি প্রাকশিল্পায়ন যুগের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে রাখতে হবে। কিন্তু পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপুঞ্জের ইন্টারগভর্মেন্টাল প্যানেল ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) ২০১৮ সালে বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ে একটি বিশেষ গাইডলাইন তৈরি করে। যেখানে বলা হয়,প্যারিস চুক্তিতে ঠিক হওয়া ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর বিপর্যয় তাঁদের আগের হিসাব থেকে অনেক বেশি হবে বলে তাঁরা মনে করছেন। তাই তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড রাখার চেষ্টা না করলে প্রলয় অনিবার্য। একের পর এক প্রাকৃতি বিপর্যয়ে মানব সভ্যতা ধ্বংসের মুখে চলে যাবে। ক্যালিফোর্নিয়ার কমলা আকাশ হয়ত তারই পূর্বাভাস দিচ্ছে।