Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

লালচে-কমলা রঙ ধরেছে আকাশে, ছাই বৃষ্টি হচ্ছে, ভেসে বেড়াচ্ছে আগুনের ফুলকি, রহস্য ক্যালিফোর্নিয়ায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সকালেই কি সূর্যাস্তের মেঘ ঘনাল?  ঘুম ভেঙে ঠিক ঠাওর করতে পারেনি ক্যালিফোর্নিয়াবাসী। গোটা আকাশে তখন লালচে-কমলা রঙ ধরেছে। গোধূলীর মতো নরম আলো নয়, যেন আগুনের হল্কা ছুটছে আকাশে। কখনও তার রঙ কমলা আবার কখনও গাঢ় লালচে আলোয় ভরে যাচ

লালচে-কমলা রঙ ধরেছে আকাশে, ছাই বৃষ্টি হচ্ছে, ভেসে বেড়াচ্ছে আগুনের ফুলকি, রহস্য ক্যালিফোর্নিয়ায়

শেষ আপডেট: 9 September 2020 18:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সকালেই কি সূর্যাস্তের মেঘ ঘনাল?  ঘুম ভেঙে ঠিক ঠাওর করতে পারেনি ক্যালিফোর্নিয়াবাসী। গোটা আকাশে তখন লালচে-কমলা রঙ ধরেছে। গোধূলীর মতো নরম আলো নয়, যেন আগুনের হল্কা ছুটছে আকাশে। কখনও তার রঙ কমলা আবার কখনও গাঢ় লালচে আলোয় ভরে যাচ্ছে আকাশ। কী রহস্য ঘনাচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়ায়? বুধবার ভোর থেকেই ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশে কমলা রঙ ধরেছে। ঘন ধোঁয়ায় ভরে গেছে চারপাশ। আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো নেমে আসছে ছাই। আতঙ্কে ঘুম উড়েছে সকলের। দিনের বেলাতেও যেন সন্ধ্যের আঁধার নেমে এসেছে ক্যালিফোর্নিয়ায়। রাজ্যের আবহাওয়া দফতরের তরফে টুইট করে জানানো হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার ভয়ঙ্কর দাবানলই আকাশের রঙ বদলের মূল কারণ। আগুনের ধোঁয়া, ছাইয়ে ভরে গেছে আকাশ। তার মধ্যে দিয়ে সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে লালচে কমলা রঙ ধরেছে। আমেরিকার ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আকাশের নীল রঙ হয় সূর্যের রশ্মি প্রতিফলনের কারণেই। ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশজুড়ে এখন পোড়া ছাই আর আগুনের ফুলকি ভরে গেছে। এর মধ্যে দিয়েই সূর্যের রশ্মির প্রতিফলনে এমন রঙের বদল হয়েছে। https://twitter.com/sfchronicle/status/1303763177994297349 আগুনের গ্রাসে জ্বলছে ক্যালিফোর্নিয়া। ৭২ ঘণ্টায় প্রায় ১১ হাজার বজ্রপাতে জঙ্গলের পর জঙ্গল আগুন ধরে গেছে। বনাঞ্চল ছাড়িয়ে মানুষের বসতি এলাকাতেও আগুনের আঁচ ছড়িয়েছে। প্রায় পাঁচ লক্ষ একর অঞ্চল আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া। আহত বহু। https://twitter.com/alex_dils/status/1303801496123789314 রাজ্য প্রশাসন জানাচ্ছে, আগুন যেভাবে একরের পর একর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে তার ভয়াবহ ফল দেখা যাচ্ছে শহরগুলিতে। কোথাও কোথাও ধোঁয়া ঘন হয়ে জমে ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। মাঝে মধ্যেই আগুনের ফুলকি উড়তে দেখা যাচ্ছে আকাশে। চড়চড় করে বাড়ছে তাপমাত্রা। সেই সঙ্গে পোড়া গন্ধে ভরে গেছে চারপাশ। এমনই সর্বগ্রাসী আগুনের বীভৎসা দেখেছিল অস্ট্রেলিয়া। পুড়ে খাক হয়ে গিয়েছিল ১০ লক্ষ হেক্টরেরও বেশি কৃষিজমি, ঝোপ-জঙ্গল। দাবানলের তাণ্ডবে অস্তিত্ব মুছে গিয়েছিল শতাধিক বাড়িঘরের। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া প্রদেশের একাংশের তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গিয়েছিল। দাবানল ছাড় দেয়নি অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম শহর সিডনিকেও। শহরের আকাশ ঢেকে গিয়েছিল কালো ধোঁয়ায়। পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ুর বদল ভয়ঙ্কর চেহারা নিয়ে নেমে আসছে বিশ্বের সর্বত্রই। কখনও দাবানল, কখনও হিমবাহ গলে সমুদ্রের জল বাড়ছে। সেই সঙ্গেই তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে পৃথিবীর।  বিশ্ব উষ্ণায়ন ছিল শুধুই বিপদের আগাম পূর্বাভাস। এবার সরাসরি তার ফল ভুগতে শুরু করেছে মানুষ। দাবানলের আঁচে পুড়ে ছাই উত্তর সাইবেরিয়া, উত্তর স্ক্যান্ডিনেভিয়া, আলাস্কা, গ্রিনল্যান্ড, মেরুপ্রদেশের একটা বিশাল অংশ।  ব্রিটেন, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, জার্মানিকে পুড়িয়ে তাপপ্রবাহ এগিয়ে চলেছে মেরুপ্রদেশের দিকে। আবহবিদেরা বলছেন, শীঘ্রই এ গরমের আঁচ টের পাবেন নরওয়ে, সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের বাসিন্দারা। ৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধি মানেই সমুদ্রের জলস্তর আধ মিটার উঁচু হবে, মেরুপ্রদেশের বরফ গলে নির্গত হবে মিথেন। একটা সময় দেখা যাবে বরফ না-থাকায় সূর্যের তাপ আর রশ্মি শুষে নেওয়ার উপায় থাকবে না। আবহবিজ্ঞানীরা বলছেন, গত ৫০ বছরে মেরুপ্রদেশের তাপমাত্রা বেড়েছে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আন্টার্কটিকের এসপেরানজা বেসের অবস্থা বিপজ্জনক জায়গায় দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছরই একটু একটু করে তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে। আর্জেন্টিনার অন্য বেস মারাম্বিও, যা এসপেরানজা থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে, সেখানেও তাপমাত্রা বাড়ছে দ্রুত হারে। ২০১৩ সালে এই এলাকার তাপমাত্রা ছিল ১৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে ১৪.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০১৫ সালে ডিসেম্বরে প্যারিসে  সংযুক্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের উদ্যোগে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো নিয়ে ১৯০টি দেশ একটি সমঝোতা পত্রে স্বাক্ষর করে। এটাই বিখ্যাত প্যারিস চুক্তি। এই চুক্তিতে ঠিক হয়েছিল, পৃথিবীর গড় উষ্ণতার বৃদ্ধি প্রাকশিল্পায়ন যুগের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে রাখতে হবে। কিন্তু পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপুঞ্জের  ইন্টারগভর্মেন্টাল প্যানেল ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) ২০১৮ সালে বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ে একটি বিশেষ গাইডলাইন তৈরি করে। যেখানে বলা হয়,প্যারিস চুক্তিতে ঠিক হওয়া ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর বিপর্যয় তাঁদের আগের হিসাব থেকে অনেক বেশি হবে বলে তাঁরা মনে করছেন। তাই  তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড রাখার চেষ্টা  না করলে প্রলয় অনিবার্য। একের পর এক প্রাকৃতি বিপর্যয়ে মানব সভ্যতা ধ্বংসের মুখে চলে যাবে। ক্যালিফোর্নিয়ার কমলা আকাশ হয়ত তারই পূর্বাভাস দিচ্ছে।

```