দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন ফার্মা জায়ান্ট মোডার্না ও ফাইজারের সঙ্গে ভ্যাকসিন দৌড়ে এগিয়ে গেল আরও এক ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি নোভাভ্যাক্স।
প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্ট সামনে এনে নোভ্যাভ্যাক্স দাবি করেছে, করোনার টিকা মানুষের শরীরে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে। টিকার প্রভাব ইতিবাচক। টি-কোষ সক্রিয় হয়ে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তুলছে।
মেরিল্যান্ডের এই বায়োটেকনোলজি ফার্ম ভ্যাকসিন তৈরির জন্যই জনপ্রিয়। এর আগে এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি-এর ভ্যাকসিন বানিয়েছিল এই সংস্থা। নোভ্যাভ্যাক্সের ভ্যাকসিন গবেষণার প্রধান ভাইরোলজিস্ট ডক্টর গেগরি গ্লেন বলেছেন, প্রথম পর্বের ক্লিনিকাল ট্রায়ালে টিকার দুটি ডোজেই শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে। এই ভ্যাকসিন মানুষের শরীরে সম্পূর্ণ নিরাপদ। দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্টও ভাল। সেপ্টেম্বর থেকে টিকার তৃতীয় স্তরের ট্রায়াল শুরু হবে। হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবককে দুটি দলে ভাগ করে টিকা দেওয়া হবে। ভাইরোলজিস্টের বক্তব্য, সব ঠিক থাকলে ডিসেম্বরের আগেই ভ্যাকসিন চলে আসবে বাজারে। ১০০-২০০ কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
https://twitter.com/Novavax/status/1290743413155991552
কী দেখা গেছে প্রথম পর্বের ট্রায়ালে
প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্ট টুইট করে জানিয়েছে নোভাভ্যাক্স। ১৩১ জন সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক স্বেচ্ছাসেবককে বেছে নেওয়া হয়েছিল প্রথম পর্বের ট্রায়ালের জন্য। এঁদের বয়স ১৮ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে। ৫ ও ২৫ মাইক্রোগ্রামের ডোজে টিকা দেওয়া হয়। প্রথম ডোজ দেওয়ার ২৮ দিনের মাথায় দ্বিতীয় ডোজ ইনজেক্ট করা হয়। নোভাভ্যাক্স জানিয়েছে, প্রথমবার ডোজের পরে আট জনের শরীরে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল যেমন জ্বর, ঝিমুনি, বমিভাব ইত্যাদি। তবে মৃদু উপসর্গ। কিছুদিনের মধ্যেই তা সেরে যায়। দ্বিতীয়বার ডোজ দেওয়ার পরে স্বেচ্ছাসেবকদের পর্যবেক্ষণে রেখে দেখা যায় ১০০ শতাংশের শরীরেই করোনা প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। বি-কোষ সক্রিয় করে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি করছে। অন্যদিকে, ভ্যাকসিনের ম্যাট্রিক্স-এম (Matrix-M) উপাদান টি-কোষকে সক্রিয় করে তুলেছে। ফলে একদিকে অ্যান্টিবডি, অন্যদিকে টি-কোষ মিলিতভাবে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তুলছে।
মোডার্নার মতোই এমআরএনএ ভ্যাকসিন বানিয়েছে নোভাভ্যাক্স, তবে নতুনত্ব আছে
কোভিড ভ্যাকসিন তৈরির জন্য নানা রকম পন্থা নিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন বায়োটেকনোলজি ও সায়েন্স রিসার্চ ফার্ম। কোথাও ভাইরাসের জেনেটিক কোডকে কাজে লাগিয়ে ভ্যাকসিন ডিজাইন করা হচ্ছে, আবার কোথাও কোভিড সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়েছেন এমন ব্যক্তির রক্তে তৈরি অ্যান্টিবডি স্ক্রিনিং করে তার থেকে প্রতিষেধক তৈরি করার চেষ্টা চলছে। মেসেঞ্জার আরএনএ বা বার্তাবহ আরএনএ-র কাজই হল কোষে কোষে বার্তা পৌঁছে দেওয়া। কোন কোষে প্রোটিন তৈরি হচ্ছে, কোথায় কী রাসায়নিক বদল হচ্ছে সবকিছুর জিনগত তথ্য বা ‘জেনেটিক কোড’ জোগাড় করে সেটা শরীরের প্রয়োজনীয় জায়গায় পৌঁছে দেওয়া। এই মেসেঞ্জার আরএনএ সিকুয়েন্সকে কাজে লাগিয়ে ভ্যাকসিন বানিয়েছে মোডার্না। নোভাভ্যাক্সের ভ্যাকসিনও ডিজাইন করা হয়েছে এমআরএনএ সিকুয়েন্সকে কাজে লাগিয়েই। তবে তার পদ্ধতি মোডার্নার থেকে আলাদা।
NVX-CoV2373 নামের এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে ম্যাট্রিক্স-এম অ্যাডজুভেন্ট। এই উপাদান (Immunological Compound) শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তুলতে সাহায্য করে। ডক্টর গ্রেগরি বলছেন, ভ্যাকসিন তৈরির জন্য করোনার স্পাইক গ্লাইকোপ্রোটিনকে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ভাইরাল প্রোটিনকে আগে নিষ্ক্রিয় করে নেওয়া হয়েছে যাতে মানুষের শরীরে তার ক্ষতিকর প্রভাব না পড়ে। প্রতিলিপি তৈরি হলেও ভাইরাসের সংখ্যায় বাড়ার ক্ষমতা একটা নির্দিষ্ট গণ্ডিতেই থাকে।