
শেষ আপডেট: 25 July 2020 18:30
বিজ্ঞানীরা বলছেন, সার্স-কভ-২ দু’ভাবে কোষে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। প্রথমত, দেহকোষের রিসেপটর প্রোটিন অ্যাঞ্জিওটেনসিন-কনভার্টিং এনজাইম-২ (ACE-2)-এর সঙ্গে জোট বেঁধে কোষে ঢুকতে পারে। দ্বিতীয়ত, কোষে ঢোকার পরে এন্ডোজ়োম নামে একটি বিশেষ উপাদানে মিলেমিশে যেতে পারে। এই দুই প্রক্রিয়া ঠিকঠাক ভাবে হলেই কোষের ভেতরে দ্রুত বিভাজিত হতে শুরু করে ভাইরাস। আর বিভাজন শুরু মানেই প্রতিলিপি তৈরি করে শেষে গোটা ফুসফুসকেই সংক্রামিত করে ফেলে। তবে ভাইরাস কোন কোষে কীভাবে ঢুকবে এবং সংক্রমণ ছড়াবে সেটা নির্ভর করে কোষের ধরনের উপরেও।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, কিডনির কোষে সংক্রমণ ছড়াতে হলে সার্স-কভ-২ ভাইরাসের প্রয়োজন ক্যাথেপসিন-এল (Cathepsin-L) নামে এনজাইম। এই ক্যাথেপসিন এনজাইম আবার ভাইরাসকে কোষে জায়গা দেওয়ার জন্য
অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়াতে থাকে। হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন এই অ্যাসিডের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। ফলে এনজাইম ঠিকঠাকভাবে কাজ করতে পারে না। ভাইরাসও কিডনির কোষে সংক্রমণ ছড়াতে পারে না।
আবার ফুসফুসের কোষে সংক্রমণ ছড়াতে হলে ভাইরাসের দরকার হয় TMPRSS2 এনজাইম। এই এনজাইম থাকে কোষের সারফেসে। এই এনজাইম আবার অনেক বেশি চালাক। ভাইরাসকে চুপি চুপি কোষে ঢুকতে দেয়। আলাদা কোনও বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি করে না যেটা হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের মতো ওষুধ চিহ্নিত করতে পারবে। তাই ভাইরাল স্ট্রেন যদি এই এনজাইমের সঙ্গে মিশে ফুসফুসের কোষে ঢোকে তাহলে তাকে আটকানোর ক্ষমতা হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের থাকে না। এটাই সবচেয়ে বড় কারণ কেন হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ও ক্লোরোকুইন ফুসফুসের সংক্রমণ ঠেকাতে পারছে না।
ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের বায়োকেমিস্ট্রির অধ্যাপক ক্যাথেরিন সেলে বলেছেন, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের প্রয়োগ নিয়ে আরও গবেষণা চালানো হচ্ছে। এই ওষুধকে কীভাবে ব্যবহার করলে লাভজনক হতে পারে সেটাও পরীক্ষা করে দেখা হবে।