দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত সপ্তাহেই হঠাৎ টুইট করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছিলেন, তাঁর সোশ্যাল সাইটের অ্যাকাউন্টগুলি ছেড়ে দেবেন তিনি। কেন ছাড়বেন, সে অ্যাকাউন্টে কী হবে, তা নিয়ে কিছুই জানাননি প্রধানমন্ত্রী। সকলকে ধোঁয়াশায় রেখে জানিয়েছিলেন, জানাতে থাকবেন কী করবেন। এর পরে কৌতূহলের অবসান ঘটিয়ে তিনি জানান, তাঁর অ্যাকাউন্টগুলি দেশের অনুপ্রেরণাদায়ী মহিলাদের উদ্দেশে ছেড়ে দেবেন তিনি। সাত জন মহিলা তাঁদের লড়াইয়ের কথা সকলের সামনে বলতে পারবেন মোদীজির অ্যাকাউন্ট থেকে। আজ, রবিবার, নারী দিবসের সকালে তিনি সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী লগ আউট করে দেন অ্যাকাউন্টগুলি থেকে। জানান, তাঁর অ্যাকাউন্ট তিনি দিয়ে দিচ্ছেন সাত জন মহিলাকে।
এ দিন সকালে প্রধানমন্ত্রী টুইট করে জানান, ‘‘আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শুভেচ্ছা। আমরা আমাদের নারীশক্তির উদ্দীপনা ও সাফল্যকে স্যালুট জানাই। যেমন ক'দিন আগে বলেছিলাম সেভাবেই আমি সাইন অফ করলাম। সারাদিন ধরে সাত জন মহিলা অর্জনকারীরা নিজেদের জীবন যাত্রার কথা শেয়ার করবেন ও হয়তো আপনাদের সঙ্গে মতের আদানপ্রদানও করবেন আমার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে।''
তিনি আরও লেখেন, ‘‘দেশের সব অংশেই অসামান্য সব মহিলা অর্জনকারী রয়েছেন ভারতে। এই মহিলারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দারুণ কাজ করেছেন। তাঁদের লড়াই ও আকাঙ্ক্ষা লক্ষ লক্ষ মানুষকে উদ্দীপিত করছে। আসুন আমরা সেই সব মহিলাদের সাফল্যকে উদযাপন করি এবং তাঁদের থেকে শিখি।''
https://twitter.com/narendramodi/status/1236506349531357184
কিন্তু এর পরেও কৌতূহল ছিল, কে কে সেই সাত জন। কিছু ক্ষণ পর থেকেই সেই সাত মহিলার মধ্যে থেকে টুইটারে নিজেদের কথা পোস্ট করা শুরু হয়।
প্রথম মহিলা হিসেবে ‘ফুডব্যাঙ্ক ইন্ডিয়া'র প্রতিষ্ঠাতা চেন্নাইয়ের স্নেহা মোহান্দোস মোদীর টুইটার অ্যাকাউন্টে নিজের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেন। তিনি লেখেন, ‘‘দরিদ্রদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য ভাবার সময় এসেছে। হ্যালো আমি স্নেহা মোহান্ডোস। আমার মা গৃহহীনদের মুখে খাবার তুলে দিতেন। উনিই আমার অনুপ্রেরণা। তাই আমি শুরু করেছি ফুড ব্যাঙ্ক ইন্ডিয়া।''
https://twitter.com/narendramodi/status/1236509753892671488
স্নেহার পরে জানা যায় শ্রীনগরের এক মহিলা ব্যবসায়ীর জীবনকাহিনি। কাশ্মীরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চান আরিফা। টুইট করে তিনি জানান, ‘‘আমি সব সময়ই স্বপ্ন দেখি কাশ্মীরের ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে আবার সামনে নিয়ে আসতে। কারণ এর ফলে স্থানীয় মহিলারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন। ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটবে।''
https://twitter.com/narendramodi/status/1236539882027139072
হায়দরাবাদের ইন্টেরিয়র ডেকরেটার কল্পনা রমেশ আগামী প্রজন্মের জলের নিরাপত্তা সৃষ্টি করতে লড়াই করছেন। তিনি জানাচ্ছেন, ‘‘ছোট প্রচেষ্টা থেকে বড় প্রভাব তৈরি হতে পারে। জল এক মূল্যবান সম্পদ, যা উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা পেয়েছি। পরবর্তী প্রজন্মকে বঞ্চিত করা উচিত নয় আমাদের।''
https://twitter.com/narendramodi/status/1236556246003511297
রাজস্থানের মালবিকা আইয়ার কিশোর বয়সেই দু'টি হাত হারিয়েছিলেন। তার পরেও মনোবল না ভেঙে ইচ্ছাশক্তির জোরে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে জক্টরেট হয়েছেন। রাষ্ট্রপতি পুরস্কারও পেয়েছেন। তিনি লেখেন, ‘‘আমরা আমাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। কিন্তু আমরা জীবনের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।''
https://twitter.com/narendramodi/status/1236524595081097216
এই চার জন ছাড়াও আরও তিন জন নারী তাঁদের লড়াইয়ের ও সাফল্যের গল্প বলবেন। মোদী যেদিন প্রথম ঘোষণা করেছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেবেন বলে, সেদিন বিসেতর জল্পনা ঘনিয়েছিল। অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি হয়তো ছেড়েই দেবেন সোশ্যাল মিডিয়া। তবে তার পরে তিনি যে ঘোষণা করছেন, তাতে স্পষ্ট হয়েছে যে তাঁর কয়েক কোটি ফলোয়ার যাতে দেশের অনুপ্রেরণাদাত্রী নারীদের কথা জানতে পারেন, সে জন্যই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। তবে বিরোধীরা এখনও বলছেন, এ সবই নতুন প্রচারের কৌশল।