দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ। দেশের বা বিদেশের নানা সঙ্কটে একাধিক বার সমাধান বাতলে দিয়েছেন নানা ভাবে। কঠিন থেকে কঠিন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দামি মতামত রেখেছেন। অর্থনীতির জটিল থেকে জটিলতর অঙ্ক জলভাতের মতোই ঠেকে তাঁর কাছে। সেই মানুষটাই নাকি হাতি, মাছ, পাখির মতো শেপে ছোট ছোট নিমকি বানিয়ে ভেজে সময় কাটাচ্ছেন!
তিনি কৌশিক বসু। ২০১২ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত বিশ্ব ব্যাঙ্কের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ছিলেন। বর্তমানে নিউ ইয়র্কের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। এক সময়ে ভারত সরকারের মুখ্য অর্থনীতিক উপদেষ্টাও ছিলেন তিনি। সাম্প্রতিক করোনাভাইরাস মহামারীতে অর্থনীতির যে বিপুল ক্ষতি হতে পারে তা রুখতেও একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, এই টাস্ক ফোর্সে অর্থনীতিবিদ, স্বাস্থ্য ও ভূরাজনৈতিক-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের ২০ জন বিশেষজ্ঞ থাকতে পারেন।
তাঁর মতামত প্রশংসিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। মোট কথা বিশ্ববিখ্যাত এক কৃতী বাঙালি তিনি। তাঁর বিভিন্ন প্রবন্ধ ও পেপার অর্থনীতির আঙিনায় অতি জরুরি পাঠ্য হিসেবে বিবেচিত।
কিন্তু তবু, লকডাউনে 'কাবু' হয়েছেন তিনিও। একে অবশ্য কাবু না বলে ফুরসৎ করতে পারা বলা যায়। হয়তো পেশাগত চাপে, পরিস্থিতির জটিলতায় যা যা কখনও করা হয় না, যে সব ছোটখাটো আনন্দ উপভোগ করার সুযোগই হয় না, সে সবেরই সুযোগ করে দিচ্ছে এই লকডাউন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখলেই দেখা যায়, কত মানুষ এই সময়টাকে কত ভাবে কাজে লাগাচ্ছেন। কেউ বহু দিন পরে কম উপাদানে সুন্দর রান্না করে ফেলার পুরনো দক্ষতা ঝালিয়ে নিচ্ছেন, কেউ বা বার করেছেন ধুলোপড়া হারমোনিয়াম। কেউ আবার ছেলেমেয়েদের সঙ্গে অনাবিল আনন্দের সময় কাটাচ্ছেন বহু দিন পরে। কাজের চাপে নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় মিলত না যাঁদের, তাঁরা এই অখণ্ড অবসরে এমন অনেক কিছুই করে ফেলছেন, যা কখনও ভাবেনওনি।
তাই জন্যই সময় কাটাতেই হোক বা একঘেয়ে বন্দিজীবনে একটু মজা আনতেই হোক, মাছ, পাখি, হাতির আকারে ছোট ছোট নিমকির মতো লুচি ভেজে ফেললেন আন্তর্জাতিক দরবারের মহীরুহ-সম মানুষটিও! আসলে একঘেয়েমি তো মানুষ মাত্রেই আসতে পারে। কাঁহাতক ঘরের ভিতরে সারা দিন চেনা কাজ করতে ভাল লাগে মানুষের! তাই হয়তো এই মজা করে বসলেন কৌশিক বসু।
https://twitter.com/kaushikcbasu/status/1245378638192586760
শুধু তাই নয়, টুইটারে নিজের কীর্তির ছবি পোস্টও করেন তিনি। লেখেন. "এই মহামারীর লকডাউনে আমি নিজের রান্নার প্রতিঙা আর শিল্পের প্রতিভা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছিলাম। এখন আমি পরের ধাপে পৌঁছে, দুটোকে মিশিয়ে দিয়েছি। তাই জন্য এখানে একটা পাখি-পুরি, মাছ-পুরি আর হাতি-পুরি তৈরি হয়েছে দিব্য।"