করোনা পরীক্ষা ঘরে বসেই, বিশ্বে প্রথম এমন অ্যান্টিজেন টেস্ট কিট আনছে আমেরিকা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা পরীক্ষার জন্য আর কোনও ক্লিনিকে যাওয়ার দরকার পড়বে না। ঘরে বসেই করা যাবে র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট। প্রথম এমন টেস্ট কিট আনছে আমেরিকা। মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ কন্ট্রোলের অনুমোদনে আগামী বছর থেকেই এই র্যাপিড টেস্ট কিট
শেষ আপডেট: 15 December 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা পরীক্ষার জন্য আর কোনও ক্লিনিকে যাওয়ার দরকার পড়বে না। ঘরে বসেই করা যাবে র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট। প্রথম এমন টেস্ট কিট আনছে আমেরিকা। মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ কন্ট্রোলের অনুমোদনে আগামী বছর থেকেই এই র্যাপিড টেস্ট কিট পৌঁছে দেওয়া হবে ঘরে ঘরে।
ক্যালিফোর্নিয়ার কোম্পানি এলামের তৈরি অ্যান্টিজেন টেস্ট কিটে সায় দিয়েছে মার্কিন এফডিএ। কমিশনার স্টিফেন হান জানিয়েছেন, করোনা পরীক্ষার জন্য আর আলাদা করে স্বাস্থ্যকর্মীদের দরকার পড়বে। ল্যাবরেটরিতে ভিড়ও বাড়বে না। প্রত্যেকে বাড়িতে বসেই নিশ্চিত হতে পারবেন তাঁর শরীরে সংক্রমণ আছে কিনা। টেস্ট কিটের রেজাল্ট দেখা যাবে মোবাইল অ্যাপে। ঘরে বসে করোনা পরীক্ষা শুরু হলে নতুন মাইলস্টোন তৈরি হবে। ক্লিনিকগুলিতে ভিড় করে সংক্রমণ ছড়ানোর ভয় থাকবে না।
মার্কিন স্বাস্থ্য দফতর বলেছে, সংক্রমণ বেড়ে চলেছে আমেরিকায় এবং হাসপাতাল, নার্সিংহোম বা কোভিড কেয়ার সেন্টারগুলিতে ভিড় বাড়ছে, সেখানে সেল্ফ-টেস্টিং কিট হলে সময় অনেক বাঁচে। ১৪ বছরের উপর থেকে যে কোনও বয়সীরাই এই টেস্ট কিটে নিজেদের শরীর থেকে নেওয়া নমুনা পরীক্ষা করতে পারবেন। মুখ ও নাক থেকে নেওয়া নমুনা কীভাবে পরীক্ষা করতে হবে তা বলা আছে টেস্ট কিটের ম্যানুয়ালে। অনেকটা র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের মতোই তবে আরও কিছুটা ভাল বলেই দাবি মার্কিন স্বাস্থ্য আধিকারিকের। নমুনা টেস্ট কিটে ফেললে তা রেজাল্ট দেখিয়ে দেবে ২০ মিনিটের মধ্যেই। পরীক্ষার ফলও নির্ভুল হবে বলেই দাবি করা হয়েছে। লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে পরীক্ষা করানোর দরকার পড়বে না।

রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর (রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ-পলিমারেজ চেন রিঅ্যাকশন) টেস্টে রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয় অনেকগুলো জটিল প্রক্রিয়ায়। এতে সময় বেশি লাগে। আর অ্যান্টিজেন টেস্টে সে তুলনায় সময় অনেক কম লাগে। এই টেস্ট কিট দেখতে অনেকটা প্রেগন্যান্সি টেস্ট স্ট্রিপের মতো। এই টেস্ট কিটে থাকে কোভিড অ্যান্টিজেন টেস্ট ডিভাইস, ভাইরাল এক্সট্র্যাকশন টিউব যার মধ্যে ভাইরাল প্রোটিন ছেঁকে নেওয়ার মতো বাফার এবং নমুনা সংগ্রহের জন্য স্টেরাইল টিউব থাকে। রোগীর থেকে নেওয়া নমুনা স্ট্রিপে ফেলতে হয়। এর পরেই স্ট্রিপে দু’রকম লাইন ফুটে ওঠে যাদের বলে টেস্ট লাইন ও কন্ট্রোল লাইন। এই দুই লাইনের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপরেই নির্ভর করবে নমুনায় ভাইরাল স্ট্রেন আছে না নেই। অ্যান্টিজেন টেস্টে অনেক কম সময় ২০-৩০ মিনিটের মধ্যে সংক্রমণ পরীক্ষা করা সম্ভব।
এই টেস্ট কিটের আরও একটা সুবিধা হল, সংক্রমণের সামান্য লক্ষণ দেখলেই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যাবে। রিয়েল টাইম-আরটি পিসিআর টেস্টে সময় অনেক বেশি লাগে। তাছাড়া কোনও ক্লিনিক ছাড়া এই টেস্ট করানো সম্ভব নয়। সামান্য উপসর্গ থাকলে বা সংক্রমণ রয়েছে কিনা নিশ্চিত করে জানতে বাড়ি বসে এই পরীক্ষা করে নেওয়াই অনেক সহজ বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।