
শেষ আপডেট: 16 May 2019 18:30
‘‘আমার মেয়ের জ্বর হয়েছিল। রক্ত পরীক্ষায় দেখা গেল এইচআইভি পজিটিভ। কী করে এমন হলো বুঝতে পারছি না,’’ হাহাকার মুখতার পারভেজের। একই দশা নিশাল আহমেদেরও। তাঁর এক বছরের মেয়ে এইচআইভি আক্রান্ত। তিনি বা তাঁর স্ত্রী এই সংক্রমণের শিকার হয়েছেন কি না সেটা জানতে রক্ত পরীক্ষা করাতে এসেছেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। তাঁর অভিযোগ, ‘‘গ্রাম বা আধা শহরগুলিতে রমরমিয়ে ব্যবসা খুলে বসেছে হাতুড়ে ডাক্তাররা। তাদের গাফিলতিতেই এই সংক্রমণ মহামারীর আকার নিচ্ছে। ঘরে ঘরে আক্রান্ত হয়েছে শিশুরা।’’
নিজের নাতি বটেই, পাঁচ সন্তানও এইডস আক্রান্ত কি না সেটা বুঝে উঠতে পারছেন না বৃদ্ধ ইমাম জাদি। বলেছেন, ‘‘আমার পুরো পরিবার শেষ হতে বসেছে। কে জানে ভাগ্যে কী লেখা আছে।’’
দেশজুড়ে এইচআইভি সংক্রমণের কথা শিকার করে নিয়েছে পাকিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রকও। ঘটনায় হাতুড়ে ডাক্তারদের দিকেই অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দাবি, পাকিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের গাফিলতিতেই এই ঘটনা ঘটেছে। কী ভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের নজর এড়িয়ে গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্যকেন্দ্র খুলে বসেছেন হাতুড়ে ডাক্তাররা, এতদিন প্রশাসন সব দেখেও চুপ করেছিল কেন?
আন্তর্জাতিক সমীক্ষা বলছে, ২০১৭ সালে পাকিস্তানে ২০ হাজার মানুষ এইচআইভি সংক্রমণের শিকার হয়েছিলেন। হালে এইচআইভি সংক্রমণে বিশ্বের মধ্যে পাকিস্তানের স্থান দ্বিতীয়। পাক স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, এই মুহূর্তে গোটা দেশে প্রায় ৬ লক্ষ হাতুড়ে ডাক্তার রয়েছেন। শুধু মাত্র সিন্ধু প্রদেশেই সেই সংখ্যাটা আড়াই লক্ষের বেশি। সঠিক প্রশিক্ষণ না থাকলেও যাঁরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে প্রসব থেকে অস্ত্রোপচার সবই করেন।
‘সিন্ধ এইডস কন্ট্রোল প্রোগ্রাম’-এর অধিকর্তা শিকান্দার মেমনের কথায়, ‘‘পয়সা বাঁচানোর জন্য এই হাতুড়ে ডাক্তাররা একটাই ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ বহু মানুষের জন্য ব্যবহার করেন। এই অভিশাপ তাঁদের কারণেই ছড়িয়েছে।’’ একই অভিযোগ বুশরা জামিলেরও। করাচির আগা খান ইউনিভার্সিটির গবেষক বুশরার দাবি, ‘‘একই সিরিঞ্জের বার বার প্রয়োগ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিনা পরীক্ষা নিরীক্ষায় রক্তদান, লাইসেন্স ছাড়াই বা ভুয়ো লাইন্সেসে হাতুড়েদের চিকিৎসা পদ্ধতি, এই সব কিছুই এই মহামারীর জন্য দায়ী। এটা একদিনের ঘটনা নয়, দিনের পর দিন এই অন্যায় চলে আসছে পাকিস্তানে। সার্বিক ভাবে তারই প্রতিফল ঘটেছে। ’’