দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা ইঙ্গিত ছিল। সেটাই সত্যি হলো। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বরিস জনসন দায়িত্ব নেওয়ার পরে, ভারতীয় বংশোদ্ভূত কনজারভেটিভ নেত্রী প্রীতি পটেলকে নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আনাচে কানাচে। সব জল্পনাকে সত্যি করে ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্বভার তুলে নিলেন মোদী অনুরাগী প্রীতি।
বাকিংহাম প্রাসাদে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে থেকে বিদায় নিয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে। বরিস দায়িত্বে আসার পর পরই পদত্যাগ করেছেন ১২ জন মন্ত্রী। কনজারভেটিভ পার্টির অন্দরে গুঞ্জন ছিলই নতুন করে ক্যাবিনেট সাজাতে পারেন বরিস। সে ক্ষেত্রে বরিস-ক্যাম্পেনের অন্যতম মুখ প্রীতি পটেলের গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়াটা মোটেই আশ্চর্যের নয়।
ব্রিটেনের রাজনীতির আঙিনায় প্রীতি পটেল নতুন মুখ নন। বরং ভারতীয় বংশোদ্ভুত রাজনীতিবিদদের মধ্যে তিনিই বেশি পোড়খাওয়া। এসেক্সের উইথাম থেকে পুনর্নির্বাচিত হয়ে ক্যামেরন-ঘনিষ্ঠ এই এমপি হিসেবে উত্থান ঘটে প্রীতি পটেলের।
একটা সময়ে ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন দফতর-সহ বিদেশ সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দফতরের ভার ছিল তাঁর উপর। ব্রিটিশ বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীও হয়েছিলেন প্রীতি। পরে পার্লামেন্টের নিয়ম ভেঙে ইজরায়েলের দুই উচ্চপদস্থ আধিকারিকের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সমালোচনার মুখে পড়ে বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে তিনি ইস্তফা দেন তিনি।
ষাটের দশকে প্রীতির পরিবার ইংল্যান্ডে আসে। আদতে তাঁরা গুজরাতের বাসিন্দা। ১৯৭২ সালে লন্ডনেই জন্ম তাঁর। হ্যারোতে বেড়ে ওঠা। ওয়াটফোর্ডে পড়াশোনা। এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। তার পর যোগ দেন ব্রিটিশ রাজনীতিতে। ২০১০ সালে কনজারভেটিভদের হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন প্রীতি। প্রথম বারেই জয়। তখন থেকেই ক্যামেরনের আস্থাভাজন হয়ে উঠতে শুরু করেন প্রীতি।
২০১৩ সালে ক্যামেরনের ভারত সফরের সময় তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন প্রীতি। কলকাতা এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখাও করেছিলেন সেই সময়। ২০১৪ সালে ভারতে লোকসভা নির্বাচনের সময় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের একাংশ যখন তৎকালীন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তুলোধোনা করছে, সে সময় রুখে দাঁড়ান প্রীতি। ফলে ভারতীয় তথা এশীয়দের ভোট টানার ক্ষেত্রে প্রীতি বরাবরই ছিলেন ‘এক্স ফ্যাক্টর’।