দ্য ওয়াল ব্যুরো: জীবনের সুরক্ষা সবচেয়ে আগে। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে অফিসে আসার কোনও দরকার নেই। বাড়িতে বসেই নিরাপদে কাজ করুন কর্মীরা। চাইলে পাকাপাকিভাবে ওয়ার্ক ফ্রম হোমও করা যেতে পারে, সে ব্যবস্থা নেবে মাইক্রোসফট।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কর্মীদের স্থায়ীভাবে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের অনুমতি দিতে পারে সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফট। যদিও সংস্থার তরফে এখনও কিছু ঘোষণা করা হয়নি, তবে আগামী দিনে কর্মীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য এই পদক্ষেপ নিতে পারে বিল গেটসের সংস্থা।
মাইক্রোসফট আগেই জানিয়েছিল, করোনা অতিমহামারীর আতঙ্ক না কাটা অবধি কর্মচারীরা বাড়িতে বসেই কাজ করতে পারবেন। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে অফিসে হাজিরা দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। এই ওয়ার্ক ফ্রম হোমের সময়সীমা কতদিন হবে সেটা না জানালেন শোনা গিয়েছিল আগামী বছর জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি অবধি এই সুবিধা পাবেন সংস্থার সকল কর্মীরা। মাইক্রোসফটের চিফ পিপল অফিসার ক্যাথলিন হোগান বলেছেন, “করোনার জন্য বেশিরভাগ কর্মীরা এখন বাড়ি থেকেই কাজ করছেন। টেকনিক্যাল ল্যাবরেটরি এবং প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ যাঁরা করেন তাঁদের জন্য অন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। জীবনের দাম অনেক বেশি। করোনা অতিমহামারীতে নতুনভাবে বাঁচার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।“
কর্মচারীরা কাজের প্রতি নিষ্ঠাবান হলে এবং দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে সেটাই সংস্থার লাভ। তার জন্য জোরজবরদস্তি করার দরকার নেই। বলেছেন ক্যাথলিন। তাঁর বক্তব্য, আগামী দিনের পরিকল্পনা করার জন্য কর্মচারীদের এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, প্রতিজন কর্মী বাড়িতে বসেই আরও ভালভাবে ও মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারবেন। অফিসে আসার দরকার নেই। এই সময়ে তাঁরা পরিবার-পরিজনদেরও সময় দেবেন আবার পেশার দিকেও নজর দিতে পারবেন।
সারা বিশ্বেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে চলেছে। টিকা না আসা পর্যন্ত এই বাইরাস থেকে কার্যত মুক্তি নেই। টিকা কবে বিশ্বের বাজারে আসবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। এই পরিস্থিতিতে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের পথেই হেঁটেছে বেশিরভাগ তথ্য প্রযুক্তি সংস্থা। একুশ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ি থেকেই কাজ করার জন্য কর্মীদের অনুমতি দিয়েছে গুগল। বিশ্ব জুড়ে গুগলের সবকটি প্রতিষ্ঠানে লক্ষাধিক কর্মী এই সুবিধা পাবেন। আরও এক কদম এগিয়ে মাইক্রো ব্লগিং সাইট টুইটার আবার কর্মীদের অনির্দিষ্টকালের জন্য ওয়ার্ক ফ্রম হোমের সুবিধা দিয়েছে। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুকও একই রকম ঘোষণা করেছে। ফেসবুক জানিয়েছে, শুধু ওয়ার্ক ফ্রম হোম নয়, বাড়িতে অফিসের পরিকাঠামো তৈরির জন্য ১০০০ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৭৫ হাজার টাকা) আর্থিক সাহায্যও কর্মীদের দেওয়া হবে। অন্যদিকে, আমেরিকান রিয়েল এস্টেট জ়িলো গ্রুপের চেয়ারম্যান রিচ বার্টন টুইট করে জানিয়েছেন, এই বছরের শেষ অবধি ওয়ার্ক ফর্ম হোমের সুবিধা নিতে পারবেন সংস্থার কর্মীরা।