
শেষ আপডেট: 26 July 2019 18:30
নাইগ্লেরিয়া ফোলেরি (Naegleria fowleri) বা মগজ-খেকো অ্যামিবা। নদী, পুকুর হ্রদ থেকে সুইমিং পুল, যে কোনও জলেই এদের অবাধ বাস। উষ্ণ জল হলে তো কথাই নেই। দ্রুত বংশবৃদ্ধি থুড়ি কোষ বিভাজন করে অ্যামিবারা। সে জন্য বট ওয়াটার লেক বা উষ্ণ প্রস্রবণগুলিতে এদের দেখা মেলে অনেক বেশি। শিল্পাঞ্চলের কাছাকাছি এলাকায়, দূষিত জলেও দেখা মেলে এদের। দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার না করা সুইমিং পুল বা ক্লোরিনেটেড নয় এমন বদ্ধ জলে দ্রুত ছড়ায় অ্যামিবারা।
এককোষী হলেও এদের প্রভাব মারাত্মক। মানুষের স্নায়ুকোষকে নিমেষে জখম করতে পারে এই ্অ্যামিবারা। বিশেষজ্ঞরা বলেন, কোনও ভাবে জলের মাধ্যমে এই প্রাণীকে গিলে ফেললে ততটা ক্ষতি হয়না। তবে কোনও ভাবে নাক দিয়ে যদি সে শরীরে এন্ট্রি পায় তাহলেই এরা ভয়ঙ্কর আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশির খিঁচুনি দিয়ে উপসর্গ শুরু হয়। দ্রুত অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ড্রাগ না দিলে মস্তিষ্কের কোষ ছিঁড়েখুঁড়ে দেয় এই প্রাণীরা। একে বলে নাইগ্লেরিয়াসিস বা প্রাইমারি অ্যামিবিক মেনিনগোএনসেফেলাইটিস (PAM)।
১৯৬০ সালে অস্ট্রেলিয়ার একটি হ্রদের জলে প্রথম এই মগজ-খেকো অ্যামিবাদের সন্ধান মিলেছিল। মার্কিন মুলুকে এই অ্যামিবায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক। উত্তর ক্যারোলিনার স্বাস্থ্য দফতরের সমীক্ষা বলছে, ১৯৬২ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই এককোষী প্রাণীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১৪৫ জন। যার মধ্যে চার জনের অবস্থা ছিল ভয়ঙ্কর।
উত্তর ক্যারোলিনার এপিডেমোলজিস্ট জ্যাক মোরে জানিয়েছেন, এই ধরনের লেকে শুধু প্রাপ্তবয়স্করা নয়, শিশুরাও সাঁতার কাটে। কাজেই সচেতনতা বাড়ানোটা অনেক বেশি প্রয়োজন।