দ্য ওয়াল ব্যুরো: হংকংয়ে আধিপত্য কায়েম করতে মরিয়া চিন। গণতন্ত্রের দাবিতে ফুঁসে উঠছেন মানুষ। বড় আকার নিচ্ছে আন্দোলন। অশান্ত হংকংয়ের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়টা খতিয়ে দেখার জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জকে আবেদন করল ভারত।
স্বশাসিত হংকংয়ে নিজেদের অধিকার কায়েম করতে পার্লামেন্টে নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইনের খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছে চিন। সে দেশের আইনসভার বার্ষিক অধিবেশনে এই নতুন প্রস্তাব পেশও হয়ে গেছে। তারই প্রতিবাদে ফের তুমুল বিক্ষোভ-আন্দোলন চলছে হংকংয়ে। লকডাউন ভেঙেই রাস্তায় নেমেছে হাজার হাজার মানুষ। স্বাধীন হংকং-এর দাবিতে স্লোগান উঠেছে। একদিনে গালওয়ান উপত্যকায় চিন-ভারত সীমান্ত সংঘাতের পরিস্থিতি চরমে. অন্যদিকে হংকংয়ে গণতন্ত্রের দাবিতে বিক্ষোভ চরম আকার নিতে থাকায় সেখানকার ভারতীয়দের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। এই প্রসঙ্গেই জেনেভার প্রেস কনফারেন্সে কথা তোলেন রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের প্রতিনিধি রাজীব কুমার চান্দের। তিনি বলেন, “চিনের নতুন আইনে হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে। এখানে বহু সংখ্যক ভারতীয়ের বাস। আমরা আশা করব এই বিষয়টা সঠিকভাবে ও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। গোটা পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছে ভারত।”
হংকংয়ে ভারতীয় কনসুলেট জেনারেলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের বলা হয়েছে, অন্তত ৩৮ হাজার ভারতীয় বসবাস করেন সেখানে। ম্যাকাউ এলাকায় ভারতীয়দের কমিউনিটিও রয়েছে। একেই লাদাখে ভারতীয় ভূখণ্ডের উপরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চিনের সঙ্গে অশান্তি চলছে। এরপরে হংকংয়ে চিনের নয়া আইন লাগু হলে সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের অধিকারেও হাত পড়বে। তাছাড়া চিনের নয়া আইনে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক লগ্নিকারীরাও। চিন প্রতি পদক্ষেপে হংকংয়ের প্রতিটি বিষয়ে নাক গলালে সেখানে ব্যবসা করা মুশকিল হয়ে যাবে বলেও মনে করা হচ্ছে।
https://twitter.com/ANI/status/1278380194504544256?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1278380194504544256%7Ctwgr%5E&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.ndtv.com%2Findia-news%2Findia-at-united-nations-hong-kong-security-law-china-keeping-close-watch-is-ndias-message-at-un-over-hong-kong-china-2255526
দীর্ঘসময় ব্রিটিশ শাসনে থাকা হংকংয়ে নিজেদের পূর্ণ আধিপত্য কায়েম করতে বহুদিন ধরেই সচেষ্ট চিন। যদিও দু’দশক আগেই চিনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরিত হয়েছিল। তবে নিজেদের উচ্চতর গণতন্ত্র ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে হংকংয়ের। তাই চিনের আধিপত্যের নীচে চাপা পড়তে রাজি নন হংকংবাসী। এর আগে বিতর্কিত প্রত্যর্পণ বিলের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিলেন বিক্ষোভকারীরা। এবার নয়া আইনের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে আন্দোলন। চিনের নতুন আইনে বলা হয়েছে রাষ্ট্রদ্রোহ, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অপরাধ, বিচ্ছিন্নতাবাদী কাজকর্ম, সন্ত্রাসদমন ইত্যাদির জন্য পদক্ষেপ করতেই ওই আইন আনা হচ্ছে। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জাতীয় নিরাপত্তার নাম করে হংকংয়ের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে শিনফিং প্রশাসন। সন্ত্রাসদমন, বিচ্ছিন্নতাবাদী কাজকর্ম বন্ধ করার অছিলায় তারা হংকংবাসীর মানবাধিকারেও হস্তক্ষেপ করবে। চিনের নতুন আইনের বিরোধীতা করে সরব হয়েছে আমেরিকা, ব্রিটেন-সহ একাধিক দেশ।