
শেষ আপডেট: 30 October 2020 18:30
অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনিকাল শেফের প্রেসিডেন্ট দমন শ্রীবাস্তবের জার্নিটা খুব সহজ ছিল না। উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে জন্ম। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে ছোট। পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠা দিল্লিতে। সংসারে অভাব ছিল। এতগুলো পেট ভরাতে দিনরাত পরিশ্রম করত হত তাঁর বাবাকে। দমন বলেছেন, ১৯৮০ সাল নাগাদ তিনি ফার্মা ফ্যাক্টরিতে কাজ পেয়েছিলেন। ব্যান্ডেজ পৌঁছে দিতে হত দোকানে দোকানে। আয় ছিল সামান্যই। তারপর ছোটখাটো একটা হোটেলে কাজ। বয়স যখন ১৮ বছর, দিল্লির একটি রেস্তোরাঁয় ডিশ ধোওয়ার কাজ করতেন দমন।
হোটেলের চাকচিক্য টানত তাঁকে। হোটেল ম্যানেজমেন্ট পড়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর। কিন্তু বাধ সাধল অভাব। দমন বলেছেন, নানা হোটেল, রেস্তোরাঁয় কাজ করে পয়সা জমিয়েই পড়াশোনা করেন তিনি। হোটেল ম্যানেজমেন্ট পাশ করেন ১৯৮২ সালে। দিল্লির ওয়েরয়ে হোটেলে কাজ করার সময়েই সুযোগ চলে আসে বিদেশ যাওয়ার।
এরপর দিল্লি থেকে সোজা বাগদাদ। সেখানে অল-রশিদ হোটেলে শেফের কাজ। অল্পদিনেই নাম করে পেলেন দমন। ১৯৮৪ সালে বাদগাদ থেকে লন্ডনে গিয়ে ফের পড়াশোনা। এবার ডিগ্রি নিয়ে ফিরে আসেন বাগদাদে। আরও বড় চাকরি, নামও ছড়ায় আরও। সাদ্দাম হুসেনকে ধরতে সে সময়ে বাগদাদে বোম্বিং শুরু হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও হাল ছাড়েননি দমন। ভারতে ফিরে আসেননি। ইরাকের যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিবারগুলির মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন। ৯০ সালের পরে পাকাপাকিভাবে অস্ট্রেলিয়াতে চলে আসেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই শেফ।
৫৪ বছরের দমন বলেছেন, রাস্তায় রাস্তায় খিদের জ্বালায় শিশুদের কাঁদতে দেখেছেন। ঘরহারা পরিবারের যন্ত্রণা দেখেছেন। অতিমহারারীর সঙ্কটে তাই তাঁর পরিবারও এক লড়াইয়ে সামিল হয়েছে। খিদের যন্ত্রণা ঘোচানোর লড়াই। এতদিন নিজের জমানো সম্বল থেকেই খরচ করছিলেন। তবে এখন বহু মানুষ পাশে দাঁড়িয়েছেন। ফান্ড তৈরি হয়েছে। ফুড-ট্রাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দমন বলেছেন, দেশ ছেড়ে আসা পড়ুয়াদেরও দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। আরও বেশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর লক্ষ্য।