Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

‘অভাব দেখেছি, খিদের যন্ত্রণা সয়েছি,’ হাজার হাজার অভুক্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন এই শেফ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৯০ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাগদাদে নিরন্ন, সর্বহারা মুখে খাবার তুলে দিয়েছিলেন। কুড়ি সালে করোনা অতিমহামারী কালেও খিদের যন্ত্রণা ঘোচাতে দু’হাত মুক্ত করে দিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই শেফ। নিজে রাঁধছেন, অভুক্তদের খাওয়াচ্ছেন নিজের

‘অভাব দেখেছি, খিদের যন্ত্রণা সয়েছি,’ হাজার হাজার অভুক্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন এই শেফ

শেষ আপডেট: 30 October 2020 18:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৯০ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাগদাদে নিরন্ন, সর্বহারা মুখে খাবার তুলে দিয়েছিলেন। কুড়ি সালে করোনা অতিমহামারী কালেও খিদের যন্ত্রণা ঘোচাতে দু’হাত মুক্ত করে দিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই শেফ। নিজে রাঁধছেন, অভুক্তদের খাওয়াচ্ছেন নিজের হাতেই। অস্ট্রেলিয়ার ভারতীয় বংশোদ্ভূত শেফ দমন শ্রীবাস্তব এখন ‘হাঙ্গার হিরো’ । মেলবোর্নের পাঁচ তারা, সাত তারা হোটেলের নামী শেফ। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন তাঁকে নিয়েই চর্চা। দমন বলেছেন, “কোভিড মহামারীতে কাজ হারিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। খাবার নেই অনেকের ঘরেই। মাথা গোঁজার ঠাঁইও হারিয়েছেন অনেকে। বাইরে থেকে পড়াশোনা করতে আসা পড়ুয়ারাও বিপাকে পড়েছেন। অভাবের যন্ত্রণা দেখেছি আমি। একসময় কা খুঁজতে এসে পেট ভরে খাবারও পায়নি। তাই অভুক্তদের খাওয়ানো আমার কর্তব্য।” SBS Language | Flavours of Multicuturalism with celebrity chef Daman  Shrivastav প্রতিদিন ১৫০টা করে মিল রাঁধেন দমন। বাড়ির রান্নাঘরে দমনের সহকারী তাঁর ছোট্ট মেয়ে দিয়া। সেই খাবার গাড়িতে চাপিয়ে পৌঁছে যান ঘরহারাদের কাছে। আজ এ শহরে, তো কাল অন্য শহরে, ছুটে বেড়াচ্ছেন দমন। বলেছেন, শুরুর দিকে দিনে হাজারের বেশি মিল রেঁধেছেন। সে সময় সংক্রমণ আরও মারাত্মক আকার নিয়েছিল। লকডাউনের পরে সমস্যায় পড়েছিলেন বহু মানুষ। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন দমন। From Gulf war to the pandemic, Indian chef is on a one-man mission to feed  the hungry | India News - Times of India অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনিকাল শেফের প্রেসিডেন্ট দমন শ্রীবাস্তবের জার্নিটা খুব সহজ ছিল না। উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে জন্ম। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে ছোট। পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠা দিল্লিতে। সংসারে অভাব ছিল। এতগুলো পেট ভরাতে দিনরাত পরিশ্রম করত হত তাঁর বাবাকে। দমন বলেছেন, ১৯৮০ সাল নাগাদ তিনি ফার্মা ফ্যাক্টরিতে কাজ পেয়েছিলেন। ব্যান্ডেজ পৌঁছে দিতে হত দোকানে দোকানে। আয় ছিল সামান্যই। তারপর ছোটখাটো একটা হোটেলে কাজ। বয়স যখন ১৮ বছর, দিল্লির একটি রেস্তোরাঁয় ডিশ ধোওয়ার কাজ করতেন দমন। হোটেলের চাকচিক্য টানত তাঁকে। হোটেল ম্যানেজমেন্ট পড়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর। কিন্তু বাধ সাধল অভাব। দমন বলেছেন, নানা হোটেল, রেস্তোরাঁয় কাজ করে পয়সা জমিয়েই পড়াশোনা করেন তিনি। হোটেল ম্যানেজমেন্ট পাশ করেন ১৯৮২ সালে। দিল্লির ওয়েরয়ে হোটেলে কাজ করার সময়েই সুযোগ চলে আসে বিদেশ যাওয়ার। From Iraq War to the pandemic, one chef's philanthropic journey - The  Indian Sun এরপর দিল্লি থেকে সোজা বাগদাদ। সেখানে অল-রশিদ হোটেলে শেফের কাজ। অল্পদিনেই নাম করে পেলেন দমন। ১৯৮৪ সালে বাদগাদ থেকে লন্ডনে গিয়ে ফের পড়াশোনা। এবার ডিগ্রি নিয়ে ফিরে আসেন বাগদাদে। আরও বড় চাকরি, নামও ছড়ায় আরও। সাদ্দাম হুসেনকে ধরতে সে সময়ে বাগদাদে বোম্বিং শুরু হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও হাল ছাড়েননি দমন। ভারতে ফিরে আসেননি। ইরাকের যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিবারগুলির মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন। ৯০ সালের পরে পাকাপাকিভাবে অস্ট্রেলিয়াতে চলে আসেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই শেফ। ৫৪ বছরের দমন বলেছেন, রাস্তায় রাস্তায় খিদের জ্বালায় শিশুদের কাঁদতে দেখেছেন। ঘরহারা পরিবারের যন্ত্রণা দেখেছেন। অতিমহারারীর সঙ্কটে তাই তাঁর পরিবারও এক লড়াইয়ে সামিল হয়েছে। খিদের যন্ত্রণা ঘোচানোর লড়াই। এতদিন নিজের জমানো সম্বল থেকেই খরচ করছিলেন। তবে এখন বহু মানুষ পাশে দাঁড়িয়েছেন। ফান্ড তৈরি হয়েছে। ফুড-ট্রাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দমন বলেছেন, দেশ ছেড়ে আসা পড়ুয়াদেরও দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। আরও বেশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর লক্ষ্য।

```