
শেষ আপডেট: 18 July 2020 18:30
আরএনএ ভাইরাসের প্রতিরোধী করেই তৈরি করা হয়েছে এই সমস্ত অ্যান্টিবডি। এদের বলা হচ্ছে ‘ন্যানোবডি’ (Nanobody) ।
লামা ফিফির রক্তে যে ন্যানোবডিগুলি তৈরি হয়েছে তারা অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। ল্যাবরেটরিতে এই ন্যানোবডিগুলি দিয়েই অ্যান্টিবডি ক্লাস্টার তৈরি হয়েছে বিশেষ বৈজ্ঞানিক উপায়। গবেষক জেমস বলছেন, এই অ্যান্টিবডি মানুষের শরীরে ঢুকিয়ে দিলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। দেহকোষের মেমরি বি-সেল সক্রিয় হয়ে উঠবে। সার্সের মতো ভাইরাস শরীরে ঢুকলে তার স্পাইক গ্লাইকোপ্রোটিন ভেঙে চুড়মার করে দিতে পারবে এই ন্যানোবডি। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে ফের করোনার মতো ভাইরাসের সংক্রমণ হলে তার প্রতিরোধী ব্যবস্থা শরীর আগে থেকেই তৈরি করে রাখবে।
‘নেচার স্ট্রাকচারাল অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি’ সয়েন্স জার্নালে এই গবেষণার রিপোর্ট সামনে এনেছেন রোসালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। বলেছেন, ন্যানোবডি টেকনোলজিতে করোনা মোকাবিলার নতুন হাতিয়ার হতে পারে লামা জাতীয় প্রাণীরা। লামা ফিফি ইতিমধ্যেই যে সম্ভাবনা দেখিয়েছে। এর আগে লামা উইন্টার, লামা বরিস ও জেরেমির রক্তেও ভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছিল। রোসালিন্ড ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা বলছেন, শুধু করোনা প্রতিরোধ নয়, যে কোনও সংক্রামক রোগের থেরাপিতে ন্যানোবডি টেকনোলজির প্রয়োগ করা যেতে পারে। মানুষের শরীর থেকে নেওয়া অ্যান্টিবডির তুলনায় যা অনেক বেশি কার্যকরী।
[caption id="attachment_241695" align="aligncenter" width="612"]
রোসালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন ইউনিস্টিটিউটের ডিরেক্টর জেমস নাইসমিথ[/caption]
ন্যানোবডি টেকনোলজি নিয়ে সেই ২০১৫ সাল থেকেই কাজ করছে ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অব রিডিং। ১৫টি লামার শরীরে তারা এমন অ্যান্টিবডি তৈরি করে গবেষণা শুরু করে। টেক্সাস ইউনিভার্সিটিও একইভাবে লামার শরীরে তৈরি অ্যান্টিবডি নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ এবং বেলজিয়ামের ঘেন্ট ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে টেক্সাসের বিজ্ঞানীরা লামা উইন্টারের শরীরে এমন অ্যান্টিবডি তৈরি করেছেন যা সার্স-কভ-১ ও মার্স ভাইরাস প্রতিরোধ করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগের গবেষক জেসন ম্যাকলেলান বলেছেন, বেলজিয়ামের পাহাড়ি এলাকার খামারে ১৩০ টি লামা ও আলপাকার মধ্যে উইন্টারকে বিজ্ঞানের গবেষণার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল সেই ২০১৬ সালেই। উইন্টার নামে সেই লামার তখন বয়স ছিল ৯ মাস। সার্স ভাইরাসের প্রোটিন ল্যাবরেটরিতে বিশেষ উপায় বিশুদ্ধ করে সেটা ছোট্ট লামার শরীরে ইনজেক্ট করা হয়। সার্স ভাইরাসের প্রোটিনের প্রভাবে লামার শরীরে যেসব অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছিল সেগুলো নিয়েই অ্যানালিসিস শুরু হয়। এই অ্যান্টিবডিগুলিকে করোনা প্রতিরোধী করে গড়ে তোলার কাজ চলছে।