দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার টিকা কারা আগে পাবে সে নিয়ে নানা মতামত সামনে আসছে। বিজ্ঞানীদের একাংশ দাবি করেছেন, প্রবীণ ব্যক্তি বা কোমর্বিডিটির রোগীদের আগে টিকা দেওয়া দরকার। আবার অন্যপক্ষের বক্তব্য, শুধু বয়সের বিচারে নয়, শরীর-স্বাস্থ্য, পেশা, মেলামেশার ধরন ইত্যাদি খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে টিকার অগ্রাধিকার কারা পাবেন। ভিন্ন মতামতের মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) শীর্ষ বিজ্ঞানী সৌম্যা স্বামীনাথন দাবি করেছেন, এই মুহূর্তে সুস্থ ও নীরোগ কমবয়সীদের টিকা না নিলেও চলবে। বরং অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বয়স্ক এবং জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্তদেরই এগিয়ে রাখা হোক।
গতকাল, বুধবার হু-র একটি ভিডিও কনফারেন্সে সৌম্যা বলেছেন, কমবয়সী যাদের স্বাস্থ্য ভাল, ক্রনিক রোগ নেই, তারা ২০২২ সাল অবধি অপেক্ষা করতে পারবে। কিন্তু প্রবীণ ব্যক্তি বা কোমর্বিডিটির রোগীদের এতদিন অপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তাছাড়া ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী সহ যারা জরুরি পরিষেবার সঙ্গে জড়িত তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। তাই রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা যাদের বেশি তাদেরই আগে টিকা দিতে হবে বলেই বক্তব্য সৌম্যা স্বামীনাথনের।
ভার্চুয়াল কনফারেন্সে সৌম্যা বলেছেন, টিকার ডোজে কতটা হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হবে সে নিয়ে আলোচনা চলছে নানা মহলে। কিন্তু এখন লক্ষ্য সেটা নয়। বিশ্বের কতজনের মধ্যে টিকা পৌঁছে দেওয়া যাবে সেটাই চিন্তার বিষয়। বিশ্বজুড়ে যদি ৭০ শতাংশও টিকার ডোজ নিতে পারেন তাহলে সংক্রমণের হার কমার সম্ভাবনা আছে।
করোনা টিকা বিশ্বের বাজারে চলে এলেও সকলের কাছে পৌঁছবে কিনা সে নিয়ে ইতিমধ্যেই সংশয় প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিজ্ঞানীরা বলাবলি করছেন, টিকার ডোজের যদি সমবন্টন না হয়, তাহলে করোনা অতিমহামারীকে ঠেকানো অসম্ভব ব্যাপার। মইক্রোসফট কর্তা বিল গেটসও টিকার সমবন্টন নিয়ে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন। তাঁরও মত, বিশ্বের পিছিয়ে পড়া দেশ এবং যেখানে সংক্রমণের হার বেশি সেখানেই টিকা আগে পৌঁছনো দরকার। কোন দেশ বেশি পয়সা দিচ্ছে বা কার ক্ষমতা বেশি, এই দেখে যদি টিকার বিতরণ শুরু হয় তাহলে মহামারী রোখা যাবে না। নিঃস্বার্থভাবে সংহতির পথে টিকার বিতরণ হওয়া দরকার, ক্ষমতা ও রাজনৈতিক স্বার্থ দেখে নয়।
টিকার বিতরণের জন্য বিশ্বের নানা দেশকে জুড়ে গ্লোবাল কমিটি বানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। এর নাম ‘কোভিড ভ্যাকসিন গ্লোবাল অ্যাকসেস’ তথা ‘কোভ্যাক্স’। এর উদ্দেশ্য হল চাহিদা অনুযায়ী সব দেশেই করোনার টিকা পৌঁছে দেওয়া, বিশেষত যে দেশগুলিতে সংক্রমণের হার ও মৃত্যু বেশি তাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া। কোভ্যাক্সের নেতৃত্বে আছে হু। তাদের সঙ্গে ভ্যাকসিন বন্টন ব্যবস্থার তত্ত্বাবধান করবে কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ারডনেস ইনোভেশন ও আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা গাভি। হু জানাচ্ছে এই গ্লোবাল কমিটির কাজই হল টিকার সমবন্টনের দিকে খেয়াল রাখা। কারণ ইতিমধ্যেই টিকার ডোজ ‘বুক’ করে রাখতে বিশ্বের ধনী দেশগুলির মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে গেছে। ২০২১ সালের শেষে ২০০ কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ চলে আসবে। আক্রান্ত দেশগুলি অন্তত ২০ শতাংশ করে টিকার ডোজ পাবে।