দ্য ওয়াল ব্যুরো: “আহ্ অফিসার... আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। পা টা তুলুন। আপনি কি আমাকে মেরে ফেলতে চাইছেন.. আহ্ নিঃশ্বাস নিতে পারছি না! মাম্মা মাম্মা!..”
আমেরিকার মিনেসোটা শহরে ক’দিন আগে পুলিশ হেফাজতে এক কৃষ্ণাঙ্গকে হত্যার ঘটনা আন্দোলিত করে দিয়েছে গোটা দুনিয়াকে। জর্জ ফ্লয়েড নামে ওই কৃষ্ণাঙ্গকে আটক করেছিল মিনেসোটার পুলিশ। পথ চলতি এক ব্যক্তি তা ক্যামেরা বন্দি করে রাখেন। দেখা যায়, রাস্তার উপরেই হাত দুটো বেঁধে তাঁকে উল্টো করে ফেলে রাখা হয়েছে। তার পর এক পুলিশ অফিসার তাঁর গলার উপর হাঁটু দিয়ে চেপে রেখেছেন। আর নিঃশ্বাস নিতে না পেরে কাতরাচ্ছেন ওই কৃষ্ণাঙ্গ। জল চাইছেন। ছটফট করছেন। তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার কাকুতি মিনতি করছেন। কিন্তু পুলিশ অফিসারের কোনও হেলদোল নেই। মিনিট খানেকের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন জর্জ।
দেখুন সেই মর্মান্তিক ভিডিও:
https://twitter.com/nowthisnews/status/1265662293280542720
এই ভয়ঙ্কর ও মর্মান্তিক দৃশ্য থেকেই ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে আমেরিকার বিভিন্ন শহরে। মিনেসোটা তথা মিনেপোলিসে কৃষ্ণাঙ্গদের উপর পুলিশি অত্যাচার এই প্রথম নয়। আগেও হয়েছে। কিন্তু এ ঘটনার ভয়াবহতা যেন অতীতের সব ঘটনাকে ছাপিয়ে গিয়েছে। পৃথিবীর সব থেকে উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের এমন জঘন্য ঘটনা নিয়ে ছিঃ ছিঃ পড়ে গিয়েছে গোটা বিশ্বে।
https://twitter.com/zinny_blog/status/1266630607259475968
করোনাভাইরাসের সংক্রমণে গোটা পৃথিবীর এখনও পর্যন্ত সবথেকে মৃত্যু হয়েছে আমেরিকায়। লক্ষাধিক মানুষ সেখানে মারা গিয়েছেন। সব থেকে বেশি সংক্রমণ ছড়িয়েছে নিউইয়র্ক শহরে। কিন্তু শুক্রবার দেখা গিয়েছে করোনার ভয়কে উপেক্ষা করে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী নেমে পড়েছে নিউ ইয়র্কের রাস্তায়। বার্কলে সেন্টারের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ঢুকে পড়েছেন তাঁরা।

তীব্র বিক্ষোভ আছড়ে পড়েছে ব্রুকলিনে। শুক্রবার সেখানে বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার করে হাতে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। কিন্তু তাতে বিক্ষোভ থামেনি বরং আরও বেড়ে গিয়েছে। পুলিশ লক্ষ্য করে বোতল ছুড়ে মেরেছে ক্ষিপ্ত জনতা। ওদিকে ‘উই কান্ট ব্রিদ’ স্লোগান তুলে ম্যানহাটানে বিক্ষোভ জমায়েত করেছে মানুষ। তাতে মিলে মিশে গিয়েছেন শেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গরা।

এ হেন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে আটলান্টায় এক জমায়েতে আবেগঘন বক্তৃতা দিয়েছেন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ছোট মেয়ে বার্নিস কিং। তিনি বলেছেন, “অহিংসার পথেই প্রতিবাদ জানাব। যে অপরাধ হয়েছে, এবং বহুকাল ধরে যে অপরাধ হয়ে আসছে তার প্রতিবাদ অহিংস পদ্ধতিতেই হওয়া উচিত।”

শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধে ৮টা। মিনেপোলিসের রাস্তায় দেখা যায় হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারীর ভিড়। গতকাল রাত থেকে জমা ক্ষোভের আগুন এদিন সকালেও আছড়ে পড়ে রাজপথে। “এই প্রজন্ম হিংসা চায় না, বর্ণবৈষম্যের ঘৃণ্য আচরণ চায় না। আমরা দৃপ্ত কণ্ঠে এই পরিস্থিতির বদল চাইছি”, বলেছেন বছর পঁচিশের পল সেলম্যান। গতকাল রাত থেকেই প্রতিবাদ মিছিলে সামিল পল। মিনেসোটার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরাজি সাহিত্য নিয়ে মাস্টার্স করছেন তিনি।
এদিন দুপুরের পর থেকই বড় জমায়েত দেখা যায় ডেট্রয়েটের রাস্তায়। হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান তোলেন, “যেখানে বিচার নেই, সেখানে শান্তিও নেই।” বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ডেনভারও। তবে শান্তিপূর্ণভাবেই সেখানে প্রতিবাদ মিছিল করতে দেখা গেছে শতাধিক বিক্ষোভকারীকে।