
শেষ আপডেট: 6 October 2023 16:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাইকোর্টের অর্ডারে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগে সিবিআই স্পেশাল কোর্টের বিচারক অর্পণ চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। শুক্রবার শুরু হল সেই প্রক্রিয়া। এদিন এজলাসে বসেই বিচারপতি জানান, আইনমন্ত্রীর চাওয়া সময় শুক্রবারই শেষ হচ্ছে। এদিনই বিচারক বদলির অর্ডার কপি আদালতের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে। সেই নির্দেশ পাঠানো হবে আইনমন্ত্রীকেও।
ঘটনার সূত্রপাত, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত কুন্তল ঘোষ সম্প্রতি সিবিআই আদালতে অভিযোগ করেছিলেন যে জেরার নামে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাকে হেনস্থা করছে। কুন্তলের অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্য পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন সিবিআই স্পেশাল কোর্টের বিচারক অর্পণ চট্টোপাধ্যায়।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর নিয়োগ মামলার শুনানিতে বিষয়টি শুনে রেগে যান বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। হাইকোর্টের অর্ডারে নিম্ন আদালত কীভাবে হস্তক্ষেপ করে সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। সেদিন এজলাসেই বিচারপতি বলেন, “আমি জানতে পেরেছি, সিবিআই স্পেশাল কোর্টের বিচারক অর্পণ চট্টোপাধ্যায় জেলে থাকা এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশকে তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। সিবিআই বিচারকের কোনও ভাবেই হাইকোর্টের অর্ডারে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। এটি তাঁর এক্তিয়ার বহির্ভূত কাজ। শুনেছি, বিচারক অপর্ণ চট্টোপাধ্যায়ের বদলির নির্দেশ হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। তাঁর মাথায় কারও হাত রয়েছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থাকছে।”
এরপরই রাজ্যের জুডিশিয়াল সেক্রেটারিকে তলব করেন বিচারপতি। জুডিশিয়াল সেক্রেটারি আদালতকে জানায়, সিবিআই আদালতের বিচারক অর্পণ চট্টোপাধ্যায় বদলি হয়ে নতুন জায়গায় এখনও নিয়োগ পাননি। কারণ, তাঁর ফাইল আটকে রয়েছে আইনমন্ত্রীর অফিসে।
বিচারপতি তাঁর কাছে জানতে চান, কবে থেকে এই ফাইল আটকে রয়েছে। জুডিশিয়াল সেক্রেটারি আদালতকে জানান, ২৫ অগস্ট থেকে তার ফাইল আটকে রয়েছে রাজ্যের আইনমন্ত্রীর ঘরে। এরপরই রাজ্যের আইনমন্ত্রীকে ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেলেই তলব করেন বিচারপতি। সেদিন আইনমন্ত্রী আদালতকে জানিয়েছিলেন,, অসুস্থতার কারণে তিনি মাঝে কয়েকদিন অফিসে যেতে পারেননি। ফাইলে সই করার জন্য ৬ অক্টোবর পর্যন্ত আদালতের কাছে সময় চেয়েছিলেন তিনি।