শেষ আপডেট: 1 December 2019 01:16
টাকার দাম কমে যাওয়ায় জিম্বাবোয়েতে এভাবেই কেনাবেচা হত।[/caption]
[caption id="attachment_163911" align="aligncenter" width="600"]
১০০ ট্রিলিয়ন ডলারের নোট।[/caption]
তবে চিরকাল তো এ ভাবে চলে না। সম্প্রতি জিম্বাবোয়েও টাকাপয়সা চালু করেছে নতুন করে।
ব্যাগে করে টাকা
এয়ার লিফট ছবিটি দেখেছেন হয়তো। ইরাক যখন কুয়েত আক্রমণ করল, তখন কুয়েতের টাকাপয়সার কোনও দাম রইল না। তবে ইরাকও যে খুব ভালো অবস্থায় রইল এমন নয়। সেখানেও টাকার দাম পড়ল। যদিও হাল জিম্বাবোয়ে বা ভেনেজুয়েলার মতো হয়নি।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় একবার টাকার দাম এমন কমে গেল যে, সেখানেও ব্যাগে করে টাকা নিয়ে গিয়ে বাজার করা শুরু হল। নতুন করে টাকা ছাপানো শুরু হয়ে গেল। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে এখানে আড়াই লক্ষ বলিভারের দাম হয়েছিল ১ ডলারের সমান। ভাবুন, এ দেশে টাকার দাম ডলার সাপেক্ষে ৫০ পয়সা পড়ে গেলে কী হইচই হয়।
[caption id="attachment_163912" align="aligncenter" width="600"]
বলিভার বনাম মার্কিন ডলার[/caption]
অর্থনীতির এমন খারাপ হাল অবশ্য আরও অনেক দেশেই হয়েছে। য়েমন সোমালিয়া, যুগোস্লাভিয়া (দেশটা এখন টুকরো হয়ে গেছে), জার্মানি প্রভৃতি। তবে বিভিন্ন সময়ে।
বড় টাকা
সবচেয়ে বড় অঙ্কের টাকা ছাপিয়েছিল হাঙ্গেরি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। তবে সেই নোট কোনও দিনই বাজারে তারা ছাড়েনি। এটি ছিল ১ মিলিয়ন বিলিয়ন পেঙ্গো। পেঙ্গো হল তাদের মুদ্রার নাম। ১ মিলিয়ন বিলিয়ন মানে ১-এর পিঠে ২১টা শূন্য।
[caption id="attachment_163917" align="aligncenter" width="524"]
১ মিলিয়ন বিলিয়ন পেঙ্গো।[/caption]
১৯৯৩-৯৪ সালে মুদ্রাস্ফীতির সময় যুগোস্লাভিয়াও কাছাকাছি অঙ্কের নোট ছেপেছিল, ৫-এর পিঠে ২০টা শূন্য। তখন যুগোস্লাভিয়ার ছ’লক্ষ কোটি দিনার ছিল ১ মার্কিন ডলারের সমান।
বড় অঙ্কের পয়সা
এত বড় অঙ্কের টাকা যেমন আছে, তেমন বড় অঙ্কের ধাতুর টাকাও আছে, মানে যাকে সহজ কথায় আমরা পয়সা বলে বুঝি। সাম্প্রতিক কালে সবচেয়ে বড় অঙ্কের ধাতুর টাকা বার করেছে তুরষ্ক। দশ লক্ষ লিরা। তুরষ্কের মুদ্রার নাম হল লিরা। ভেবে দেখুন, পকেটে বেশ কয়েকটা লাখি অঙ্কের মুদ্রা নিয়ে বাজারে যাচ্ছেন এক ঠোঙা বাদামভাজা কিনতে!
[caption id="attachment_163913" align="aligncenter" width="350"]
তুরষ্কের লিরা।[/caption]
এ তো গেল অঙ্কের হিসাব। কথায় আছে সাইজ ম্যাটারস। মানে বড় মাপের কথা বলছি।
সবচেয়ে বড় মাপের নোট
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ১৯৯৮ সালে ফিপিপিন্স একটি নোট বার করেছিল যার মাপ এক দিকে সাড়ে আট ইঞ্চি আরেক দিকে ১৪ ইঞ্চি। নোটটি খুব কম সংখ্যক ছাপা হয়েছিল। এক লক্ষ পেসোর এই নোট তৈরি করা হয়েছিল সংগ্রাহকদের কথা ভেবেই।
[caption id="attachment_163914" align="aligncenter" width="600"]
ফিলিপিন্সের সবচেয়ে বড় নোট[/caption]
এ ব্যাপারে বিশ্বরেকর্ডটি আপাতত মালয়েশিয়ার দখলে। তাদের নোটটির মাপ একদিকে ২২ সেমি ও আরেক দিকে ৩৭ সেমি। মানে ৮.৬৬ ইঞ্চি ও ১৪.৬৬ ইঞ্চি। মালয়েশিয়ার মুদ্রার নাম রিঙ্গিট। এটি ৬০০ রিঙ্গিটের নোট। স্বাধীনতার ৬০ বছর উপলক্ষে তারা এই বিশেষ স্মারক নোট বার করেছে।
[caption id="attachment_163915" align="aligncenter" width="600"]
বিশ্বের সবচেয়ে বড় নোট।[/caption]
এই নোটটিও খুবই কম সংখ্যায় ছাপা হয়েছে। এমন নোট তো আর ভাঁজ করে পকেটে রাখা যায় না!
সবচেয়ে বড় মুদ্রা
রাই হল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুদ্রা। মাইক্রোনেশিয়ায় যে সব ছোট ছোট দ্বীপ আছে ইয়াপ হল তাদের অন্যতম। ইয়াপের লোকজন বাণিজ্যের জন্য বিশাল বিশাল পাথরের মুদ্রা ব্যবহার করতেন। পালাউ, গুয়াম প্রভৃতি ছোট ছোট দেশে এগুলি চালু ছিল। মুদ্রাগুলির ব্যাস ৩.৬ মিটার পর্যন্ত হত, ওজন ৪,০০০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত। তাই পাথরের ভারী মুদ্রা কখনও গড়িয়ে, কখনও আবার বয়ে নিয়ে যেতে হত। মুদ্রাগুলি নিয়ে যাবার সুবিধার জন্য মাঝে একটা করে গর্ত থাকত। সবচেয়ে ছোট মুদ্রাগুলির ব্যাস হত ৭-৮ সেন্টিমিটার।
[caption id="attachment_163916" align="aligncenter" width="600"]
বাড়ির পাশে রাখা ইয়াপের রাই[/caption]
এখনও এই মুদ্রা ব্যবহার হয় সেই সব দ্বীপে, তবে সামাজিক কারণে। যেমন বিয়ের যৌতুক দেওয়া, চুক্তি সই, পণ প্রভৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে। মালিকানা বদল হলেও অনেক সময়ই মুদ্রা থেকে যায় একই জায়গায়, বছরের পর বছর ধরে।