
শেষ আপডেট: 22 February 2020 18:30
২৪ তারিখ ট্রাম্পের আমদাবাদ সফর, ‘নমস্তে ট্রাম্প’ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। বিমানবন্দর থেকে মোতেরা স্টেডিয়াম পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার পথ সেজে উঠেছে নানা রঙিন পোস্টার-হোর্ডিংয়ে। পিঠে ট্রাম্প-মোদীর রঙিন ট্যাটু এঁকে তৈরি তরুণীরাও। মার্কিন প্রেসিডেন্টের থেকে ফার্স্ট লেডিকে দেখতেই বেশি উৎসাহী আমদাবাদিরা, বলেছেন শর্মিলা। মেলানিয়াকে সামনে থেকে দেখতে সোমবার কোনও কাজ রাখবেন না কেশিবেন বালাভাই সারানিয়া। বলেছেন, “শুনেছি মেলানিয়া খুব সুন্দরী। ওকে দেখারই ইচ্ছা আছে। তবে জানি না এত ভিড়ে কাছাকাছি পৌঁছতে পারব কিনা।”
জাফর খান ওরফে প্রথম মজফফর শাহের নাতি প্রথম আহমেদ শাহ ১৪১১ সালে সবরমতী নদীর তীরে আহমেদাবাদ শহরের প্রতিষ্টা করেন। আহমেদাবাদকে তিনি উপাধি দিয়েছিলেন শহর-ই-মুয়াজ্জাম অর্থাৎ মহান শহর। স্থানীয়রা অবশ্য আহমেদাবাদকে ‘আমদাবাদ’ বলতেই অভ্যস্ত। ট্রাম্প-মেলানিয়ার সফরের দু’দিন পরেই আহমেদাবাদের ৬০৯তম জন্মদিন। দিল্লি-মুম্বইকে পিছনে ফেলে ভারতের প্রথম হেরিটেজ শহরের মর্যাদা পেয়েছে আহমেদাবাদ। প্রাচীন এই শহর মহাত্মা গাঁধীর স্বাধীনতা সংগ্রামের নিদর্শন বহন করছে। এখানে ৩৬টির বেশি ঐতিহ্যশালী স্থাপত্য রয়েছে। এ ছাড়া এই শহরে রয়েছে কয়েকশো পুরনো স্তম্ভ। বহু হিন্দু এবং জৈন মন্দিরের পাশাপাশি ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্য বা হিন্দু-মুসলিম শিল্পের অবস্থান আদতে এই শহরের ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা বহন করে।
শর্মিলা বলেছেন, এই শহরের উৎসবই দেখেননি মেলানিয়া। তাজমহলের চর্চা যতটা বিশ্বমানের, আহমেদাবাদের সংস্কৃতি তার আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে। বার্ষিক ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব ‘উত্তরায়ণ’, নবরাত্রির ‘গরবা নাচ’, দিওয়ালির রঙ্গোলি কেমন হয়, সব বলা হবে মেলানিয়াকে। সবরমতীর তীরে ধর্মের ভেদাভেদ নেই। হিন্দু-মুসলিম ঐতিহ্য সমান্তরালভাবে শহরের গর্বের ভিত তৈরি করেছে।
‘নিরামিষের চল বেশি হলেও হতাশ হবেন না মেলানিয়া,’ বলেছেন শর্মিনা। এখানকার জৈন-কুইসিন বিখ্যাত। মানেক চকের বিখ্যাত স্ট্রিটফুড মাখন, চিজ আর আনারসের স্যান্ডউইচের তুলনা হয় না। মেলানিয়া তো ফ্যাশনিস্তা, তাই তাঁর জন্য আমদাবাদিরা সাজিয়ে রেখেছে ঝারোখা ও আশাবলী শাড়ি।
আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভারতীয় বংশোদ্ভূত (বিশেষ করে গুজরাতি) ভোট ব্যাঙ্কের আয়তনের কথা মাথায় রাখছে ট্রাম্প শিবির। ভারতে এসে আমদাবাদে গিয়ে মোদীকে পাশে নিয়ে সম্প্রীতির বার্তা দেওয়াটা ট্রাম্পের ভোট-রাজনীতির অঙ্গ হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। জানা গেছে, আমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে ইন্দিরা সেতু পর্যন্ত আধ কিলোমিটার রাস্তার দু’পাশে ছ-সাত ফুট উঁচু প্রাচীর বানানো হবে। যাতে রাস্তার পাশে বস্তি ও ঝুপড়ি মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘দৃশ্য দূষণ’ না ঘটাতে পারে! বস্তি-আড়াল, দেওয়াল রং ইত্যাদি সব মিলিয়ে আমদাবাদের সৌন্দর্যায়নে খরচ হতে পারে প্রায় ১০০ কোটি। তবে শর্মিলা বলছেন, কৃত্রিম সৌন্দর্যায়ণের চাকচিক্যে আহমেদাবাদের আসল রূপ ঢাকা পড়ে গেলে, সেটা ভারতের সংস্কৃতির জন্য মোটেও গর্বের ব্যাপার হবে না।