দ্য ওয়াল ব্যুরো: জুন মাস থেকেই অ্যান্টিবডি টেস্টের ট্রায়াল শুরু করে দিয়েছিল ব্রিটিশ সরকার। কতজন মানুষের শরীর থেকে নমুনা দিয়ে টেস্ট করা হচ্ছিল সেই তথ্য গোপনই রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি সেই ক্লিনিকাল ট্রায়ালের রিপোর্ট সামনে এসেছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, ব্রিটেনে প্রথমবার অ্যান্টিবডি টেস্টের সবচেয়ে বড় ট্রায়ালে সাফল্য মিলেছে। এই টেস্টে নির্ভুলভাবে করোনা পরীক্ষা করা যায়। টেস্টের রিপোর্ট ৯৮.৬% সঠিক আসে।
করোনা পরীক্ষায়
ফিঙ্গারপ্রিক টেস্ট (Fingerprick Test) পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন দেশেই ট্রায়াল চলছে।
ব্রিটেনের র্যাপিড টেস্ট কনসোর্টিয়াম (UK-RTC) এই অ্যান্টিবডি টেস্ট কিটের প্রোটোটাইপ বানিয়েছে। এই গবেষণা ও ট্রায়ালের তত্ত্বাবধানে ছিল অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি।

অক্সফোর্ডের গবেষকরা জানিয়েছেন, আঙুল থেকে সামান্য রক্তের নমুনা নিয়ে অ্যান্টিবডি টেস্ট করা হবে। রোগীর রক্তে কী পরিমাণ অ্যান্টিবডি রয়েছে তার পরিমাণ নির্ণয় করেই সংক্রমণ পরীক্ষা করা হবে। ভাইরাসের সংক্রমণ হলে শরীর তার প্রতিরোধে অ্যান্টিবডি তৈরি করা শুরু করে। সাধারণত দেখা যায় সংক্রমণের দু’সপ্তাহ পর থেকে অ্যান্টিবডি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়। শরীরে এই অ্যান্টিবডির খোঁজ মিললেই নিশ্চিত হওয়া যায় যে রোগী কোভিড পজিটিভ। অ্যান্টিবডির পরিমাণ দেখে সংক্রমণ কতটা ছড়িয়েছে সেটাও ধরা যায়। এই টেস্ট কিট সেই কাজটাই করবে।
ব্রিটেনের র্যাপিড টেস্ট কনসোর্টিয়ামের প্রধান ক্রিস হ্যান্ড বলেছেন, গত একমাস ধরে এই অ্যান্টিবডি টেস্টের ট্রায়াল চলছিল। পুরো বিষয়টাই সংবাদমাধ্যমের থেকে গোপন রাখা হয়েছিল। টেস্টে সাফল্য আসার পরেই এই খবর সামনে আনা হয়। তাঁর দাবি, অন্যান্য অ্যান্টিজেন টেস্টের তুলনায় এই র্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্টে ৯৮.৬% সঠিক রিপোর্ট আসে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য দ্বিতীয়বার রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর টেস্ট করার প্রয়োজন হয় না।
আরটিসি ও অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে এই অ্যান্টিবডি টেস্ট গোটা দেশেই চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন ক্রিস। সরকারি অনুমোদনও মিলেছে। ইতিমধ্যেই দশ হাজার টেস্ট কিটের প্রোটোটাইপ তৈরি হয়ে গিয়েছে। ক্রিস আরও বলেছেন, বিনামূল্যে এই অ্যান্টিবডি টেস্ট কিট দেশের সমস্ত হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ব্রিটিশ সরকারের।
ভারতে অ্যান্টিবডি টেস্ট কিটের ট্রায়াল করছে থাইরোকেয়ার
করোনা পরীক্ষায় অ্যান্টিবডি টেস্টিং এলাইজা কিটের ব্যবহারে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। আইজিজি
(IgG) এলাইজা টেস্ট (ELISA) কিটের প্রোটোটাইপ তৈরি করেছে পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি। এলাইজা টেস্ট হল
‘এনজাইম লিঙ্কড ইমিউনোসরবেন্ট অ্যাসে’ যা দিয়ে রক্তে অ্যান্টিবডির পরিমাণ মাপা হয়। প্রথম দফায় এলাইজা টেস্ট কিট বানিয়েও ফেলেছে দেশের অ্যতম বড় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি জাইদাস ক্যাডিলা। সারা দেশে এই অ্যান্টিবডি টেস্ট কিটের ট্রায়াল করছে থাইরোকেয়ার। ভারত ছাড়াও নেপাল, বাংলাদেশ, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতেও ছড়িয়ে রয়েছে থাইরোকেয়ারের ইউনিট। সংস্থার কর্ণধার এ ভেলুমানি বলেছেন, প্রাথমিকভাবে পাঁচ হাজার এলাইজা টেস্ট করা হয়েছিল। এরপরে সারা দেশেই এলাইজা টেস্টিংয়ের বৃহত্তর কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে। থাইরোকেয়ার জানিয়েছে এলাইজা টেস্টে করোনা পরীক্ষা করার খরচ ৬০০ টাকার মতো। আরটি-পিসিআর টেস্টের থেকে অনেক কম।