
শেষ আপডেট: 13 May 2019 18:30
প্রশাসন সূত্রে খবর, রবিবার থেকে উত্তেজনার আঁচ টের পাওয়া গিয়েছিল। সোমবার রাত থেকে সেটা আরও ভয়ানক চেহারা নেয়। রমজানের নমাজ পড়তে গতকাল সিলবামের বেশ কিছু মসজিদে জড়ো হয়েছিলেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। তাদের উপরেই হামলা চালায় জনতা। ভাঙচুর চালিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় কয়েকটি মুসলিম দোকানেও। রণক্ষেত্রে পরিণত হয় শ্রীলঙ্কার পশ্চিম উপকূল লাগোয়া কুরুঙ্গেলা, পুত্তালাম জেলা। ঘটনায় প্রাণ গিয়েছে ৪৫ বছরের এক ব্যক্তির। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় কয়েকজন ক্যাথলিক ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় ওই ব্যক্তির উপর। মাটিতে ফেলে কোপাতে থাকে তাঁকে। সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনায় এই প্রথম একজনের প্রাণ গেল বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সঙ্গে সঙ্গেই এলাকা ঘিরে ফেলে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
পুলিশের দাবি, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপে ছড়ানো গুজবের জেরেই এই সংঘর্ষ। সবুকে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ৩৮ বছরের ব্যক্তি আব্দুল হামিদ মহম্মদ হাসমারকে। মুসলিমদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের তাতিতে তোলার অভিযোগে কুরুঙ্গেলা জেলা থেকে আরও কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।
দেশের পশ্চিম উপকূলে যখন সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ চূড়ান্ত পর্যায়ে তখন একই ভাবে উত্তেজনা ছড়ায় কলম্বোর উত্তর প্রান্তে মিনুওয়ানগোডা টাউনে। মুসলিমদের বেশ কয়েকটি হোটেল-রেস্তোরাঁ ও মসজিদে ভাঙচুর চালায় জনতা। হেট্টিপোলা শহরে তিনটি দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার মুসলিম কাউন্সিল অল- সেইলন জামিয়াতুল উলামা (ACJU) জানিয়েছে, ইস্টারের বিস্ফোরণের পর থেকে শ্রীলঙ্কায় মুসলিম-বিরোধী হাওয়া প্রবল হয়ে উঠেছে। সুযোগ পেলেই মুসলিমদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে স্থানীয় ক্যাথলিকরা। চলতি মাসের প্রথমেই কলম্বোর পরুটোটা গ্রামে এক মুসলিম রিক্সাচালককে বেধড়ক মারে এলাকার খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষজন। কয়েকটি দোকানও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংহ বলেছেন, ‘‘মুসলিম বিরোধী প্রচার ও ভুয়ো খবর ছড়িয়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা বন্ধ করুন। ইস্টার বিস্ফোরণে জড়িত জঙ্গিদের খুঁজে বার করছে পুলিশ, সেনা। চরম সংকটের মুহূর্তে সাম্প্রদায়িকতার আগুন ছড়িয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করবেন না।’’