দ্য ওয়াল ব্যুরো: একের পর এক প্রশ্ন করে যাচ্ছেন দুঁদে পুলিশ কর্তারা। নির্লিপ্ত মুখে উত্তর দিয়ে যাচ্ছে যুবক। মুখের অভিব্যক্তিতে কোনও পরিবর্তন নেই। অনুশোচনার কোনও ছাপও নেই। স্বাভাবিক গলায় যুবক জানায়, গত কয়েক বছরে ২৭৬ জন শিশু তার যৌন লালসার শিকার হয়েছে। পুলিশের হাতে ধরা না পড়লে, সেই সংখ্যাটা আরও বাড়ত।
কলম্বিয়ার এই যুবকের নাম জুয়ান কার্লোজ স্যানচেগ। মধ্য ত্রিশের এই যুবক এক সময় হয়ে উঠেছিল কলম্বিয়ার ত্রাস। পুলিশ জানিয়েছে, বিকৃত কাম ও হিংস্র প্রবৃত্তির জুয়ানকে ধরতে নাজেহাল হতে হয়েছে অফিসারদের। শিশু ধর্ষণ, অপহরণ, চাইল্ড পর্নোগ্রাফি-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বুধবার কলম্বিয়ার একটি আদালত জুয়ানকে ৬০ বছরের হাজতবাসের সাজা শোনায়।
শপিং মল, স্কুল চত্বর, খেলার মাঠের আশপাশে আনাগোনা ছিল জুয়ানের। শিশু দেখলেই খাবার বা চকোলেটের লোভ দেখিয়ে তাদের তুলে আনত নিজের ডেরায়। এরপর চলত লাগাতার যৌন নিপীড়ন। পুলিশ জানিয়েছে, দুঃস্থ কিশোর-কিশোরীদের পয়সার লোভ দেখিয়েও তুলে আনত জুয়ান। দিনের পর দিন তাদের আটকে রেখে ধর্ষণ করত। ধর্ষণের ভিডিও তুলে রাখত সে। পরে সেগুলো আপলোড করত বিভিন্ন পর্নোগ্রাফি সাইটে। গত কয়েক বছরে হাজারেরও বেশি চাইল্ড পর্নোগ্রাফি বানিয়েছে জুয়ান।
ভেনেজুয়েলায় একের পর এক শিশু ধর্ষণ ও অপহরণের ঘটনা বাড়তে থাকায় টনক নড়ে পুলিশের। নির্যাতিত শিশুদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। সাইবার ক্রাইম শাখার সাহায্যে পুলিশের হাতে আসে চাইল্ড পর্নোগ্রাফির অসংখ্য ভিডিও। ওই সবগুলোই বানিয়েছিল জুয়ান।
গত বছর ভেনেজুয়েলা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রথমে প্রমাণের অভাবে ছেড়ে দিলেও ফের পাকড়াও করা হয় তাকে। জেরায নিজের অপরাধ স্বীকার করে জুয়ান। বিপুল পরিমাণে ছবি ও ভিডিয়ো ছাড়াও তার কাছ থেকে বেশ কিছু আনডেভেলপড ফিল্ম, আনডেভেলপড ছবিও পাওয়া গিয়েছে। সেগুলিও চাইল্ড পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত বলেই জানিয়েছে পুলিশ।