দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার টিকার যাবতীয় ফর্মুলা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে চিনের হ্যাকাররা। সায়েন্স রিসার্চ ফার্ম ও ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থাগুলির গবেষণার তথ্য চুরির চেষ্টাও হয়েছে। চিনের দিকেই সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলল আমেরিকা।
চিনের ভাইরাস সারা বিশ্বের ক্ষতি করছে এমন অভিযোগ আগেই করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার সাইবার অপরাধেও চিনকে কাঠগড়ায় তুলল আমেরিকা। মার্কিন বিচার বিভাগের কৌঁসুলি জন ডেমার্সের দাবি, আমেরিকা শুধু নয় বিশ্বের শতাধিক বায়োটেকনোলজি কোম্পানি ও ফার্মাসিউটিক্যালসের ভ্যাকসিন গবেষণার জরুরি ও গোপন নথি চুরির চেষ্টা করছে চিনের হ্যাকাররা। লি জিয়াউ (৩৪) ও ডং জিয়াঝি (৩৩) নামে চিনের দুই হ্যাকারকে শনাক্ত করাও হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ডেমার্সের বক্তব্য, এই দুই হ্যাকার বিজ্ঞানী, ভাইরোলজিস্টরা ছাড়াও মানবাধিকার কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্যেও আড়ি পাতা শুরু করেছে। হ্যাকারদের সঙ্গে চিনা সরকারের যোগসাজশ আছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
মার্কিন বিচার বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে, লি এবং ডং চিনের একই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে পাশ করেছে। দু’জনেই ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার। গত দশ বছর ধরে তারা কম্পিউটার হ্যাকিংয়ের কাজ করছে। অ্যাসিস্টান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল জন ডেমার্সের দাবি, চিনের সরকারের হয়ে কাজ করছে এই দুই হ্যাকার। কোন কোম্পানিতে ভ্যাকসিনের গবেষণা কীভাবে হচ্ছে, টিকা তৈরি হচ্ছে কী করে তার যাবতীয় ফর্মুলা চুরির চেষ্টা চালাচ্ছে ওই দুই হ্যাকার লি এবং ডং।
ডেমার্সের বক্তব্য, রাশিয়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মতো চিনও সাইবার অপরাধের জঘন্য খেলায় মেতেছে। চিনা সরকারের নিরাপদ আশ্রয়েই সেখানে হ্যাকারদের রমারমা বাজার। আমেরিকা ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, জার্মানি, জাপান, নেদারল্যান্ড, স্পেন, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইডেন ও ব্রিটেনের কোম্পানিগুলোও তাদের টার্গেট।
ভ্যাকসিনের তথ্য চুরির চেষ্টা চালাচ্ছে চিনের হ্যাকাররা এমন অভিযোগ আগেও করেছিল এফবিআই ও মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার বিশেষজ্ঞরা। আমেরিকার অভিযোগ, ভ্যাকসিন গবেষণার তথ্য তো বটেই, দেশের হাই টেক ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট, মেডিক্যাল কোম্পানি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং, গেমিং সফটওয়্যার কোম্পানিগুলির তথ্য চুরিরও চেষ্টা করছে চিনের হ্যাকাররা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গোপন তথ্য চুরিরও চেষ্টা করেছে লি ও ডং, এমন অভিযোগও করেছেন ডেমার্স। তাঁর দাবি, উপগ্রহ চিত্র, সেনাবাহিনীর ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক থেকে গোপন তথ্য হাতানোর চেষ্টা করে এই দুই হ্যাকার। দাবি, এই হ্যাকার চক্রে জড়িত রয়েছে আরও সংগঠিত সাইবার অপরাধীরা।
রাশিয়া সরকারের মদতপুষ্ট হ্যাকাররা কোভিড গবেষণার তথ্য চুরির চেষ্টা করছে সম্প্রতি এমন অভিযোগ করেছে ব্রিটেনের সাইবার নিরাপত্তা সেন্টারের গোয়েন্দারা। অভিযোগ, মার্কিন, ব্রিটিশ ও কানাডিয়ান গবেষণা সংস্থাগুলিকে নিশানা করছে রাশিয়ার হ্যাকাররা। এর পিছনে ক্রেমলিনের ভূমিকা রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ করেছে ব্রিটেন।