
শেষ আপডেট: 3 February 2020 18:30
বিশাল কর্মযজ্ঞ উহানে
পাহাড়প্রমাণ ওই বিশাল হাসপাতাল অবশ্য একটা হচ্ছে না। একজোড়া হাসপাতাল বানানো হচ্ছে। একটি হাজার বেডের, অন্যটি ১৬০০ বেডের। উহানের বাসিন্দা জু উইংয়ের কথায়, ‘’২৪ জানুয়ারি যখন এসেছিলাম এখানে বড় লেক ছিল। এখন চেনাই যায় না।’’
[caption id="attachment_183748" align="aligncenter" width="600"]
উপগ্রহ চিত্রে পাওয়া ২০ জানুয়ারি নির্মাণস্থলের ছবি। জায়গা জুড়ে তখন বিরাট লেক।[/caption]
উহানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দেখিয়েছে কী প্রচণ্ড দ্রুত গতিতে কাজ চলছে হাসপাতাল বানানোর। একজনও যাতে বিনা চিকিৎসায় মারা না যায়, তার জন্যই এই ব্যস্ততা। নির্মানস্থলে সাজো সাজো রব। সেনার ট্রাক ডজনখানেক, অসংখ্য এক্সক্যাভেটর, নির্মাণের সরঞ্জাম। দিবারাত্র কাজ করে যাচ্ছেন প্রায় সাত হাজার শ্রমিক। রয়েছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। নির্মাণস্থলের চারদিকের রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গাড়ি চলাচলও বন্ধ। সেনার ট্রাক এবং নির্মাণের গাড়ি ছাড়া আর কোনও কিছুকেই সেখানে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।


নির্মাণকর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রয়েছে মেডিক্যাল টিম। কোনওভাবেই যাতে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াতে না পারে নির্মাণস্থলে। জায়গার তাপমাত্রাও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বারে বারে। ফি দিন কাজ শুরুর আগে স্ক্রিনিংও চলছে কর্মীদের। উহানের মেয়র ঝউ জিনওয়াং বলেছেন, হাজার বেডের হাসপাতালের কাজ প্রায় শেষ। এই হাসপাতালের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে সেনাদের হাতে। সেনা-ডাক্তাররা এর তদারকির ভার নেবেন। তাছাড়াও দেশের নানা প্রান্তের হাসপাতাল থেকে অভিজ্ঞ ডাক্তার ও নার্স আনা হয়েছে। উহানের স্থানীয় টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, রবিবার কয়েকটা ঘর খুলে দেওয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগীদের নিয়ে আসাও শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কাজ চলছে অন্য হাসপাতালের। সেটাও আগামীকালের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মৃত্যু বেড়েই চলেছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সংক্রমণ ছড়াচ্ছে মহামারীর মতো। নোভেল করোনাভাইরাসের গ্রাসে চিনের আকাশ বাতাসে এখন স্বজন হারানোর যন্ত্রণা। চিনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের রিপোর্ট বলছে, চিনের মূল ভূখণ্ডেই আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দশ হাজারের কাছাকাছি। সংক্রমণ ছড়াচ্ছে অন্যান্য প্রদেশেও। চিনের উহান থেকে যে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছিল সেটা এখনও থাবা বসিয়েছে দেশের অন্যান্য শহরেও। বেজিংয়ে ১১১ জনের ভাইরাস-জনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। সাংঘাই শহরে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০০। এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে বার্তা দিয়েছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি চিনফিংও।
করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে হংকংয়ে সোমবার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন চিকিৎসাকর্মীদের একাংশ। হংকংয়ে আজ ভাইরাস আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুর খবর মিলেছে। সংক্রামিত প্রায় ২০০ জন। চিনের সঙ্গে তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে মঙ্গোলিয়া, রাশিয়া ও নেপাল। বিদেশি নাগরিকদের ঢোকা ইতিমধ্যেই বন্ধ করে দিয়েছে বেশ কয়েকটি দেশ। সামগ্রিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই চিন সরকার নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণ আপাতত স্থগিত রাখার আর্জি জানিয়েছে। অভিবাসন দফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সীমান্ত পারাপারের বিষয়টির দিকেও কড়া নজর রাখা হচ্ছে। দেশের কোনও প্রান্তে ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর খোঁজ মিললেই তাঁকে নতুন হাসপাতালে উড়িয়ে আনা হবে। শুধুমাত্র ভাইরাস আক্রান্তদেরই এখানে ভর্তি করা হবে।