Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ভারতের তুলনায় চিনে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অর্ধেক, তাতে এখন বিপদই দেখছে বেজিং

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইতিহাসের মোড় ঘুরছে। সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশ চিনে আজ এক নতুন সঙ্কট হাজির। জনস্ফীতির সাঁড়াশি চাপে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়বে এই আশঙ্কায় চিন যে ‘এক সন্তান নীতি’ চালু করেছিল, তাই এখন অভিশাপ হতে চলেছে। কমছে জনসংখ্যা, কমছে জন্মহা

ভারতের তুলনায় চিনে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অর্ধেক, তাতে এখন বিপদই দেখছে বেজিং

শেষ আপডেট: 23 January 2020 18:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইতিহাসের মোড় ঘুরছে। সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশ চিনে আজ এক নতুন সঙ্কট হাজির। জনস্ফীতির সাঁড়াশি চাপে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়বে এই আশঙ্কায় চিন যে ‘এক সন্তান নীতি’ চালু করেছিল, তাই এখন অভিশাপ হতে চলেছে। কমছে জনসংখ্যা, কমছে জন্মহার।  একজন উত্তরাধিকারের পরিবারে দারিদ্র্যের কালো ছায়া ঘনাচ্ছে।  ফলে একসময় বিপুল জনসংখ্যার জন্য উৎপাদন ক্ষেত্রে বিপ্লব এনে চিন যে অর্থনৈতিক উচ্চতা লাভ করেছিল, এখন তাও সঙ্কটের মুখে বলে অনেক মত। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সালের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে চিনের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ভারতের অর্ধেক।  

৭০ বছরে হুড়মুড়িয়ে কমেছে জন্মহার

চিনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিক্সের রিপোর্ট বলছে, ১৯৪৯ সালে চিনে যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল, ২০১৯ সালের হিসেবে সেটা অনেকটাই কম। শুধু কম নয়, রীতিমতো উদ্বেগজনক। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৪৯ সালের পর থেকে চিনে প্রতি হাজার জনে জন্মহার ছিল ১০.৯৪। উনিশে দাঁড়িয়ে প্রতি হাজার জনে জন্মহার কমেছে ১০.৪৮। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্মহারের এই পতন শুরু হয়েছে ১৯৮০ সালের পর থেকে। ১৯৭৯-তে চিনে ‘এক সন্তান নীতি’ চালু হওয়ার পর থেকেই হুড়মুড়িয়ে কমেছে শিশু জন্মের হার।  রিপোর্ট বলছে, এই নিয়ম চালু হওয়ার পর থেকে দেশ জুড়ে দশ লক্ষ পরিবার তাদের একমাত্র উত্তরাধিকারীকে হারিয়েছেন। আগামী ২০-৩০ বছরে আরও ৪০ থেকে ৭০ লক্ষ পরিবারকে এই অবস্থার শিকার হতে হবে। ২০১৬ সালেই ‘এক সন্তান নীতি’ প্রত্যাহার করে দুই সন্তানের অনুমোদন দিয়েছিল চিন। কিন্তু তার পরেও জন্মহারের পতন অব্যাহত। এখন চিনের পার্লামেন্টের সদস্যেরা দাবি করছেন, প্রজননের উপর নিয়ন্ত্রণমুক্তি, অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের জন্য বিশেষ কর-ছাড়, বিনামূল্যে শিক্ষা-স্বাস্থ্যের সুবিধা না বাড়ালে এই অন্ধকার পথের শেষ হবে না।

গোড়ায় গণ্ডগোল, চিনে ‘এক সন্তান নীতি’ আশীর্বাদ না অভিশাপ

১৯৭৯ সালে যখন এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল চিন, অনেক দেশই ভেবেছিল জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এটা বুঝি সঠিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয়েছিল অন্যজায়গায়। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, অনেক মহিলাকে সে সময় গর্ভপাতে বাধ্য করা হয়েছিল। বন্ধ্যাকরণ করানো হয়েছিল অনেক যুবতীকে। এই নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আঙুল তোলায় শত শত মানুষের কারাদণ্ড-জরিমানা দেখে চমকে উঠেছিল বিশ্ব। অভিশাপের সূত্রপাত এর পরেই। জন্মহার কমতে থাকায় জনসংখ্যায় কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমতে থাকে। দেখা যায়, পরিবারে আয় করার লোকের সংখ্যা কম, পরিবর্তে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের সংখ্যা অধিক। ফলে পরিবার পিছু আয়, সমৃদ্ধিও কম। যা দেশের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৭ সালের হিসেবে শিশুর জন্মের সম্ভাবনা ৬৬ শতাংশ কমেছে চিনে। বদলে ৬৫ বছর ও তার বেশি বয়সীদের সংখ্যা বেড়েছে ১১.৪ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২৫ বছর বয়সীদের মৃত্যুর সংখ্যা হিসেব করলে এবং সেই সঙ্গে জন্মহারের পতন যোগ করলে দেখা যাবে, আগামী দিনে খুব ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চলেছে এই দেশ। জনগণনা-বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০৫০ সাল নাগাদ চিনে জনসংখ্যার ৩০ শতাংশই দখল করে নেবেন ষাট পেরনো মানুষেরা। গোটা পৃথিবীর ক্ষেত্রে যে হার ২০ শতাংশ। আর ২০০০ সালে চিনে যে হার ছিল মাত্র ১০ শতাংশ।  

জন্মহারে চিনকে টেক্কা দিয়েছে ভারত

২০১৯ সালের হিসেবে চিনের জনসংখ্যা ১৪১ কোটি। ২০২৯ সালের মধ্যে সেটাই ১৪৪ কোটিতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্মহারের যেভাবে পতন শুরু হয়েছে তাতে ২০৬৫ সাল নাগাদ রেকর্ড পতন জনসংখ্যার। সেটা কমে দাঁড়াতে পারে ১১৭ কোটিতে। এদিকে শিশু জন্মের হারে উনিশেই চিনকে টেক্কা দিয়েছিল ভারত। ২০১৯ সালের প্রথম দিনে ভারতে ৬৯ হাজার ৯৪৪ জন নবজাতকের জন্ম হয়েছিল। ২০২০ সালের প্রথম দিনে ভারতে ৬৭ হাজার ৩৮৫ জন নবজাতকের জন্ম হয়েছে। ইউনিসেফের রিপোর্ট বলছে, চিনে বছরের প্রথম দিনে ৪২ হাজার ২৯৯ জন নবজাতকের জন্ম হয়েছে। সেক্ষেত্রে ভারত এগিয়ে অনেকটাই। চিনের ক্ষেত্রে যা সঙ্কট তাই ভারতের সুযোগ । জনগণনা-বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী চার-পাঁচ দশকে ভারতের জনসংখ্যায় কর্মক্ষম মানুষের অনুপাত থাকবে চিনের থেকে বেশি। তুলনায় নির্ভরশীল বৃদ্ধদের সংখ্যা থাকবে কম। ২০৩৬ সালে কর্মক্ষম মানুষ দাঁড়াবে সর্বোচ্চ, জনসংখ্যার পঁয়ষট্টি শতাংশ। অন্যদিকে, ২০২০ সালের পর থেকে ২০৪০ সাল পর্যন্ত চিনে ষাট পেরোনো মানুষের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৭৫ শতাংশ।

```