দ্য ওয়াল ব্যুরো: মৃত প্রাণীর মাংস খাওয়া যাবে না। বিশেষত ইঁদুর, রডেন্ট জাতীয় ছোট প্রাণীর। খোলা বাজারে ইঁদুরের মাংস বিক্রিও চলবে না। মঙ্গোলিয়ায় বিউবনিক প্লেগের আতঙ্ক ছড়াবার পরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।
মঙ্গোলিয়ার বায়ান্নুর এলাকায় প্লেগের আতঙ্ক মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২৭ বছর ও ১৭ বছর বয়সী দুই তরুণের শরীরে বিউবনিক প্লেগের মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। জানা গেছে, সংক্রমণ ধরা পড়ার আগে ওই দু’জনও মরা ইঁদুরের মাংস খেয়েছিল। তাঁদের সংস্পর্শে আসা অন্তত ৪০০ জনকে আইসোলেশনে রেখে পরীক্ষা করা হচ্ছে। বায়ান্নুরের যে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল রোগীদের সেখানকার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একজনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। আপাতত ভয়ের কারণ নেই।

তবে প্লেগের সংক্রমণ যে ছড়িয়ে পড়বে না এমন আশ্বাস দিতে পারেন চিনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের বিশেষজ্ঞরা। জানা গেছে, বছর পনেরোর এক কিশোরের শরীরেও বিউবনিক প্লেগের মতো সংক্রমণ ধরা পড়েছে। জ্বর, সর্দির সঙ্গে পেটে ব্যথা, বমি, পেশীর সংকোচন, সব উপসর্গই প্লেগের সঙ্গেই মিলছে বলে জানা গেছে। জিনহুয়া সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, ওই কিশোরও মরা ইঁদুরের মাংস খেয়েছিল। তার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। সংক্রমণ ছড়িয়ে গেছে তার শরীরে। ওই ছেলেটি কার কার সংস্পর্শে এসেছিল সেটা খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
করোনার অতিমহামারীর আগেও চিনের খোলা বাজার থেকে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া ঘটিত সংক্রমণ ছড়াবার বহু ঘটনা সামনে এসেছে। বিশেষত কাঁচা মাংসের দেদাড় বিক্রি, ইঁদুর, কুকুর, বাদুড় খাওয়ার অভ্যাস থেকে বিভিন্ন সময় প্লেগের মহামারী ছড়িয়েছে চিনের নানা প্রদেশে। চিনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশন জানিয়েছে, ২০১৪ সালেই বিউবনিক প্লেগের মতো সংক্রমণ ছড়িয়েছিল কয়েকটি প্রদেশে। সরকারি খাতায় পাঁচ জনের মৃত্যু দেখানো হয়েছিল। তবে বেসরকারি হিসেবে সেই সংখ্যা ছিল বেশি।
ফের এই বিউবনিক প্লেগের আতঙ্কই ফিরে এসেছে চিনে।
ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস নামে একধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে এই রোগ হয়। ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের অন্তত সাতদিন পরে জ্বর, সর্দি-কাশি, পেট খারাপ-বমির মতো উপসর্গ দেখা দিতে থাকে। ত্বকের যেখান দিয়ে ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে সেখানকার লসিকাগ্রন্থি ফুলে ফেটে যায়। জ্বালাপোড়ার মতো ব্যথা শুরু হয়। এই জাতীয় সংক্রামক রোগ ছড়ায় মূলত ইঁদুর বা ওই জাতীয় প্রাণীর থেকে। মধ্যবর্তী বাহক হল মাছি। প্রাণীর মৃতদেহ, মল-মূত্র থেকে মাছি বাহিত হয়ে এই ব্যাকটেরিয়া মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে। করোনার মতো বিউবনিক প্লেগও ছোঁয়াচে। মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে। জ্বর, সর্দি-কাশি, বমি, মাথাব্যথা, পেশী সংকোচন এই রোগের উপসর্গ। সংক্রমণ যদি বেশিমাত্রায় ছড়িয়ে পড়লে খিঁচুনি, রক্তবমির মতো উপসর্গও দেখা দেয়। চিকিৎসকরা বলেন, সঠিক সময় রোগীর ট্রিটমেন্ট না হলে মৃত্যু ঘটতে পারে।