দ্য ওয়াল ব্যুরো: অতিমহামারীর দাপট দক্ষতার সঙ্গে রুখে দিয়েছে চিন। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছেন দেশের ডাক্তার, বিজ্ঞানী, স্বাস্থ্যকর্মীরা। বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের মোকাবিলা করতে চিনের ভূমিকা ব্যতিক্রমী, এমনই দাবি করলেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
বেজিংয়ে বাণিজ্য মেলা শুরু হয়েছে গত ৫ সেপ্টেম্বর থেকে। সেখানে করোনা ভ্যাকসিনের প্রদর্শনী চলছে। এর পাশাপাশিই করোনা যোদ্ধা ডাক্তারদের সম্মানিত করতে বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন শি। শতাধিক মানুষের সমাবেশ লক্ষ্য করা যায় সেখানে। চিনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, মাস্ক ও সোশ্যাল ডিস্টেন্সিংয়ের বিধি মেনেই অ্যাওয়ার্ড সেরিমনির আয়োজন করা হয়। সেখানে চার ডাক্তারকে সোনার মেডেল দিয়ে সম্মানিত করেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
শি বলেন, করোনা মহামারীর দাপটে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভাঙন ধরেছে। কিন্তু চিন দ্রুততার সঙ্গে সেই ক্ষত মেরামত করছে। পাশাপাশি, দেশে ভাইরাস সংক্রমণও প্রায় নির্মূল হয়েছে বলেই দাবি করেন তিনি। সংক্রমণ ঠেকানোর পিছনে মূল ভূমিকা যাঁদের সেই চারজন ডাক্তারকে ‘পিপল’স হিরো’ বলে উল্লেখও করেন তিনি। চিনের প্রবীণ জনপ্রিয় চিকিৎসক ৮৩ বছরের ঝং নানশানকে সোনার মেডেল দিয়ে সম্মান জানান শি। বাকি তিনজনের মধ্যে একজন উহান হাসপাতালের প্রধান বায়োকেমিক্যাল সায়েন্টিস্ট চেন উই। আর দু’জনের নাম এখনও জানা যায়নি।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, চলতি মাসের শুরুতেই চিনের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছিল, করোনা সংক্রমণ সারিয়ে ওঠার পরেও রোগের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে শরীরে। এমনকি চিনে দু’জনের শরীরে ভাইরাসের পুণঃসংক্রমণ বা ‘রিইনফেকশন’ ধরা পড়েছিল এর মধ্যেই। বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, ভাইরাসের সংক্রমণে ৮০ শতাংশ বেশির রোগীর ফুসফুসের অবস্থা বেহাল। সুস্থ হলেও কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে হচ্ছে অনেককেই। করোনার দ্বিতীয় ধাক্কাও যে দেখা দিয়েছে বেজিংয়ে সেই খবরও সামনে এসেছিল। স্যামন মাছের বাজারে হু হু করে ছড়িয়ে পড়েছিল সংক্রমণ। আক্রান্ত হয়েছিলেন অনেকেই। তবে সে সব কথাই চেপে গিয়েছে বেজিং প্রশাসন।
করোনার টিকা আনার দৌড়ে এখন রাশিয়ার সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে চিন। রাশিয়া ইতিমধ্যেই প্রথম দফায় ভ্যাকসিনের ডোজ নিয়ে এসেছে। চিনের সিনোভ্যাক ও সিনোফার্মও অতি দ্রুত ভ্যাকসিন বাজারে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। চিনের সরকারি সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছিল, ক্যানসিনো বায়োফার্মাসিউটিক্যালকে টিকার স্বত্ত্ব দিয়েছে চিন সরকার। জরুরি ভিত্তিতে এই সংস্থাও টিকা নিয়ে আসতে পারে।
ভাইরাসের সংক্রমণে চিনে মৃত্যু যে লক্ষাধিক সেটা এর মধ্যেই দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, চিন দেখাচ্ছে ভাইরাসের সংক্রমণে মাত্র ৬ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এটা হাস্যকর। ওই ৬ শতাংশের মৃত্যু করোনা সংক্রমণে হয়েছিল ঠিকই, তবে বাকিদের মৃত্যুর কারণও যে করোনাভাইরাস সেটা চেপে গিয়েছে চিন। ট্রাম্পের দাবি, চিনে সাম্প্রতিক সময় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে ফুসফুসের সংক্রমণজনিত রোগে অথবা হার্ট অ্যাটাক, ডায়াবেটিস বা কিডনি বিকল হয়ে। এই সব রোগের বাড়াবাড়ির কারণও যে করোনাভাইরাস সেটা সুকৌশলে গোপন করে গেছে চিন। তাঁর দাবি, চিন যে তালিকা সামনে এনেছে তার থেকেও দশ হাজার গুণ বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ভাইরাসের সংক্রমণে।