দ্য ওয়াল ব্যুরো: পর্যাপ্ত হাসপাতাল নেই। এই মূহূর্তে সব হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরির পরিকাঠামোও নেই। উহান সেন্ট্রাল সিটিতে দশ হাজার বেডের যে হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনা হয়েছে, তার কাজ সবে শুরু হয়েছে। এদিকে করোনাভাইরাসেল আস্ফালণ বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুও। সংক্রমণ ছড়াচ্ছে হুহু করে। পরিস্থিতির মোকাবিলায় পিপল লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ৪৫০ জন সেনা-ডাক্তারকে আপদকালীন অবস্থার জন্য নিয়োগ করল উহানের স্বাস্থ্য দফতর।
নোভেল করোনাভাইরাসের মূল কেন্দ্রস্থল চিনের উহান। এখানকার সি-ফুড বাজার থেকেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত কয়েকদিনে উহানে ভাইরাসজনিত রোগে মৃতের সংখ্যাও বেড়েছে। শনিবারের হিসেবে চিনে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে। মৃত অন্তত ২৬। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, দেশের নানা প্রান্ত থেকে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের নিয়ে আসা হয়েছে সংক্রামিত এলাকাগুলিতে। জায়গায় জায়গায় ক্যাম্প করে কাজে লেগে পড়েছেন সেনা-ডাক্তাররা।
চিনের উহান-সহ মোট তিনটি শহরের প্রায় দু’কোটি মানুষকে শহর থেকে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে সরকারি তরফে। হুবেই প্রদেশের উহান-সহ আরও মোট ১৩টি শহরের প্রবেশদ্বার কার্যত তালাবন্ধ করে দিয়েছে চিন প্রশাসন। সরকারের নির্দেশ, বাইরের কেউ ভিতরে ঢুকবে না, শহরের ভিতরে থাকা কেউ বেরোবে না। চিনা নববর্ষের আগে তাই কার্যত শুনশান চিনের একাধিক শহর। চিনা নববর্ষের অনুষ্ঠান তাই বন্ধের মুখে। চিনের ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে আজ জানানো হয়েছে, এ বছর ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান পালন করা হবে না বেজিংয়ের দূতাবাসে।

উহানেই প্রথম নোভেল করোনাভাইরাসের দেখা মিলেছিল ২০১৯ সালে। ২০২০-র জানুয়ারির মধ্যেই এর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে চিনের মূল ভূখণ্ডে। এমনকি উহান থেকে যাঁরা বাইরে গেছেন তাঁদের অনেকেই ভাইরাসের সংক্রমণ নিজের শরীরে বহন করে নিয়ে গেছেন। প্রাথমিকভাবে বিজ্ঞানীদের ধারণা, পশু-পাখির থেকেই এই ভাইরাস বাসা বেঁধেছে মানুষের শরীরে। তবে অনুমান করা হচ্ছে, মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস থেকেও ছড়াচ্ছে সংক্রমণ। শুধু হুবেই প্রদেশ নয়, উত্তর-পূর্ব হেলওংজিয়াং প্রদেশেও ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুর খবর মিলেছে। ডাক্তাররা বলছেন, সংক্রমিত অঞ্চলগুলো থেকে যাঁরা ফিরছেন, বেজিং, সাংহাই প্রশাসন তাঁদের ১৪ দিন বাড়িতেই ‘ইনকিউবেশন পিরিয়ড’-এ রাখা হবে।
চিনের পর ইতিমধ্যেই এই ভাইরাস সংক্রমণের খবর মিলেছে জাপান, হংকং, ম্যাকাউ, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, তাইল্যান্ড, আমেরিকা, সৌদি আরব, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুর থেকে। সৌদিতে এক ভারতীয় নার্সের শরীরে এই রোগের জীবাণু মিলেছিল বলে খবর। যদিও সৌদি প্রশাসন সেই দাবি উড়িয়ে বলেছে, করোনাভাইরাস নয়, ওই সংক্রমণ মিডলইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম বা মার্সের মতো।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে খবর, গত বুধবার পর্যন্ত দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাই ও কলকাতা বিমানবন্দর-সহ দেশের নানা বিমানবন্দরে প্রায় ১২ হাজার যাত্রীর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলিতে বসেছে থার্মাল-স্ক্রিনিং মেশিন। মুম্বই বিমানবন্দরে চিন-ফেরত দুই ব্যক্তির সর্দি-জ্বরের উপসর্গ দেখেই তাঁদের কস্তুরবা হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। সংক্রমণ ঠেকাতে জরুরীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে মুম্বই ও পুণের একাধিক হাসপাতালে তৈরি রাখা হয়েছে আলাদা কেবিন। কলকাতার বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালেও তৈরি রাখা হয়েছে আইসোলেশন ওয়ার্ড।