
শেষ আপডেট: 1 April 2019 18:30
আগামী ৩ এপ্রিল থেকে দেশে বলবৎ হবে এমন আইন। সমকামিতা ও বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্ক রোধ করতেই এই আইন কার্যকরী করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসানল। ব্রুনেইয়ের প্রশাসন সূত্রে খবর, এই আইনটি প্রণয়নের কথা প্রথম ঘোষণা করা হয় ২০১৪ সালে। পরে ২০১৮ সালে ব্রুনেইয়ের একটি সরকারি ওয়েবসাইটে পাথর ছুড়ে মৃত্যুদণ্ডের কথা ফলাও করে লেখা হয়। মদ এমনিতেই নিষিদ্ধ ব্রুনেইতে। চুরি বা ডাকাতির শাস্তি হিসেবে অঙ্গচ্ছেদের বিধানও আছে দেশে। এ বার তার সঙ্গে যুক্ত হলো সমকামিতা।
নতুন আইনের খবর সামনে আসতেই দেশ জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ‘সুলতান হঠাও’ দাবি তুলে পথে নামেন ‘এলজিবিটি’-র সদস্যেরা। আন্দোলনকারী জেন জানিয়েছেন, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সাহায্য চাওয়া হয়েছে। তবে আন্দোলন ছেড়ে ভয়েতে অনেক সদস্যই পাড়ি দিচ্ছেন অন্য দেশে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষক রাচেল ছাওয়া-হাওয়ার্ড বলেছেন, “অত্যন্ত নিষ্ঠুর, অমানবিক এবং পাশবিক দণ্ডবিধি। মানুষের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার অধিকার দেশের শাসকের নেই। এমন বর্বর আইনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা উচিত।”
অস্কারপ্রাপ্ত তারকা জর্জ ক্লুনি ইতিমধ্যেই এই আইনের কার্যকারিতা রোধের জন্য আওয়াজ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, “এমন বর্বর প্রথা রোধের জন্য আমাদের এগিয়ে আসা উচিত। নিরাপরাধ দেশবাসীর জন্য আমরা কি কিছুই করতে পারি না।” আন্দোলনকে সমর্থন করেন গায়ক এলটন জনও। বলেছেন, ‘‘শুধুমাত্র যৌনতার উপর বিচার করে এমন ভেদাভেদ সঠিক পথ নয়। সমাজ একে কখনওই মেনে নেবে না।’’
শরিয়তি বিধি মেনে এমন বর্বর আইন শুধু ব্রুনেইতেই নয়, রয়েছে তার প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়াতেও। ২০০১ সালে ইন্দোনেশিয়ায় আচেহতে জুয়া, মদ কিংবা সমকামে জড়িত থাকাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে ঘোষণা করা হয়। এমনকি সমকামী যুগলকে বেত্রাঘাতের নির্দেশও রয়েছে এই দেশে।