
শেষ আপডেট: 10 April 2019 18:30
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে ফিদায়েঁ হামলা চালায় জইশ। তার উপযুক্ত জবাবে ২৬ ফেব্রুয়ারি নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাকিস্তানে ঢোকে ভারতীয় বায়ুসেনা। পাক অধিকৃত কাশ্মীর, বালাকোট এবং চাকোটিতে, মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমান থেকে প্রায় ১০০০ কেজির বোমা ফেলে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় জইশের একাধিক প্রশিক্ষণ শিবির। বায়ুসেনার দাবি ছিল, এই হামলায় খতম হয়েছে জইশ, লস্কর-সহ প্রায় ৩০০ জঙ্গি, যার মধ্যে জইশ মাথা মাসুদ আজহারের ভাই ও আত্মীয়েরাও রয়েছে।
ভারতীয় বায়ুসেনার বালাকোট অভিযানের পর প্রশ্ন ওঠে অসংখ্য। প্রমাণ, পাল্টা প্রমাণ দেখিয়ে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংসের কথা অস্বীকার করে পাকিস্তান। ৪ মার্চ নিজেদের একটি উপগ্রহকে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পাঠায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর প্ল্যানেট ল্যাবস আইএনসি সংস্থা। এই উপগ্রহ চিত্রকে হাতিয়ার করে আলাদা আলাদা দাবি করতে থাকে বিদেশি সংবাদ সংস্থাগুলি।
রয়টার্সের সেই ছবি
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, বালাকোটের জাবা গ্রামে জইশের জঙ্গিঘাঁটি মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে। অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে মাদ্রাসা-সহ মোট ছ’টি বাড়ি। ভারত সরকার যে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলে ধরছিল, তার কোনও প্রমাণ মেলেনি বলেই দাবি করে তারা। সংবাদ সংস্থা প্রিন্ট জানায়, যে এলাকায় জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরের তাঁবু ছিল, সেখানে বিস্ফোরণের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ সেদিন যে বিস্ফোরণ হয়েছিল, তা নিশ্চিত। সংবাদ সংস্থা টাইমস নাও দাবি করে, এই হামলায় স্পাইস ২০০০ গ্লাইড বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল। এই বোমার নিয়মই হচ্ছে, যেখানে পড়ে, সেখান থেকে গর্ত করে ভেতরে ঢোকে। আর উপগ্রহ চিত্রে পরিষ্কার দেখা গেছে, কমপক্ষে ১০ থেকে ১২টি গর্ত রয়েছে মূল প্রশিক্ষণ শিবিরের ছাদে। সংবাদসংস্থাগুলির এই দাবির প্রেক্ষিতে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করে পাকিস্তান ও ভারতের বিরোধী শিবিরগুলি। যদিও ভারত সরকার বালাকোটে জঙ্গি নিধনের দাবিতে অটল থাকে।
এর পরের গন্তব্য তালিম-উল-কোরান মাদ্রাসা। পাক সেনাদের কথামতো এটিই নাকি সেই বিতর্কিত মাদ্রাসা যার অস্তিত্ব নিয়ে নানা রকম প্রশ্ন ওঠে। ভাইরাল উপগ্রহ চিত্রে এই মাদ্রাসার ছবি দেখে কেউ দাবি করে বিমান হানার পরেও এটি অক্ষত রয়েছে, আবার কেই প্রশ্ন তোলে ফটোশপ করে এমন ছবি বানানো হয়েছে। বিবিসি ও আল-জাজিরার সাংবাদিকদের দাবি, মাদ্রাসাটিতে প্রায় ২,৫০০ পড়ুয়ার পড়াশোনা করার মতো জায়গা রয়েছে। একসঙ্গে অন্তত ২০০ জন ছাত্রকে বসে কোরান পড়তে দেখেছেন তাঁরা।
পাক সেনার মুখপাত্র মাজ-গেন-আসিফ গাফুরের কথায়, “ভারতের দাবির কোনও ভিত্তি নেই। এই মাদ্রাসা একই রকম রয়েছে। সামান্যতম ক্ষতিও হয়নি।”
বালাকোটে কয়েকশো জঙ্গি মারা যাওয়ার সারবত্তা নিয়ে যতই সংশয় থাক আর পাক সেনারা যতই প্রমাণ দেওয়ার চেষ্টা করুক, ভারত সরকার অবশ্য তাদের দাবিতে অটল রয়েছে। এই সব ভুয়ো খবর ছড়িয়ে ভারতের নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও দাবি উঠেছে নানা মহলে।