
শেষ আপডেট: 30 October 2020 18:30
মোডার্না বায়োটেক
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকসিয়াস ডিজিজের ডিরেক্টর এবং হোয়াইট হাউসের মুখ্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এপিডেমোলজিস্ট অ্যান্থনি ফৌজির তত্ত্বাবধানে এমআরএনএ ভ্যাকসিন বানিয়েছে মোডার্না। এই গবেষণায় রয়েছেন এনআইএইচের অধীনস্থ ভ্যাকসিন রিসার্চ সেন্টারের (VRC)বিজ্ঞানীরা। সুইৎজারল্যান্ডের অন্যতম বড় ভ্যাকসিন ও ওষুধ নির্মাতা সংস্থা লোনজ়া গ্রুপ এজির সঙ্গে ১০ বছরের চুক্তিও হয়েছে মোডার্নার। তাদের তরফেই দাবি করা হয়েছে, কুড়ি সালের শেষেই টিকা নিয়ে আসতে পারে মোডার্না। টিকার বিপুল উৎপাদনের প্রস্তুতিও চলছে। বছরে প্রায় ৩০ কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মোডার্নার ভ্যাকসিন ট্রায়ালের প্রথম পর্বের রিপোর্ট চলে এসেছে আগেই। সেই রিপোর্টে গবেষকরা দাবি করেছিলেন, টিকার ডোজে অন্তত ৯০ শতাংশ মানুষের শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। তবে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের ট্রায়ালের রিপোর্টই সামনে এনেছিল মোডার্না। পরে জানা যায়, ৫৫ বছরের বেশী বয়সীদেরও টিকার ইঞ্জেকশন দিয়ে সম্ভাব্য ফল খতিয়ে দেখেছেন ভাইরোলজিস্টরা। সাধারণত দেখা যায়, ৫০ বছরের বেশী বয়সীদের শরীরে টিকার ডোজে তেমনভাবে ইমিউনিটি তৈরি হয় না। কিন্তু মোডার্না ভ্যাকসিনের ডোজে রোগ প্রতিরোধ শক্তি তৈরি হচ্ছে বয়স্কদের মধ্যেও।
ফাইজার
জার্মান বায়োটেকনোলজি ফার্ম বায়োএনটেক এসই-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কোভিড ভ্যাকসিন বানিয়েছে ফাইজার। এই আরএনএ ভ্যাকসিন দেহকোষকে ভাইরাল প্রোটিন তৈরিতে বাধ্য করে যাতে তার প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি শরীরেই তৈরি হয়ে যায়। এই গবেষণার নেতৃত্বে রয়েছেন জার্মানির বায়োএনটেকের অধ্যাপক উগার সাহিন। এই আরএনএ ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের নাম BNT162। মানুষের শরীরে ‘মেমরি বি সেল’ তৈরি করবে যা থেকে দেহকোষে ভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হবে। অ্যান্টিবডি বেসড ইমিউন রেসপন্স বা অ্যাডাপটিভ ইমিউন রেসপন্স তৈরি করবে এই ভ্যাকসিন। ফলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।
ফাইজারের চিফ একজিকিউটিভ অফিসার অ্যালবার্ট বোরলা বলেছেন, টিকার চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়ালে আশা জাগছে। টিকার ডোজের মাত্রাও নির্ধারণ করা হয়ে গেছে। উৎপাদন শুরু হচ্ছে। জার্মান সংস্থা বায়োএনটেকের সহযোগিতায় টিকার সুরক্ষা ও কার্যকারীতা নিশ্চিত করা গেছে। প্রায় ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে টিকার ইঞ্জেকশন দিয়ে কোনও অ্যাডভার্স সাইড এফেক্টস দেখা যায়নি।