বর্ষবরণের উৎসব বদলে গেল বিষাদে, ইরাকের টাইগ্রিস নদীতে নৌকা ডুবে মৃত শতাধিক, নিখোঁজ বহু
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানি নববর্ষ শুরু হয়ে গেছে। ‘নওরোজ’ উৎসব পালন করতে গিয়ে বড় বিপর্যয় ঘটে গেলে ইরাকের মসুলে। টাইগ্রিস নদীতে নৌকাডুবি হয়ে প্রাণ গেল শতাধিক মানুষের। মৃতদের মধ্যে মহিলা ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। সরকারি সূত্রে খবর মৃতের সংখ্যা ৯৪। তব
শেষ আপডেট: 21 March 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানি নববর্ষ শুরু হয়ে গেছে। ‘নওরোজ’ উৎসব পালন করতে গিয়ে বড় বিপর্যয় ঘটে গেলে ইরাকের মসুলে। টাইগ্রিস নদীতে নৌকাডুবি হয়ে প্রাণ গেল শতাধিক মানুষের। মৃতদের মধ্যে মহিলা ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। সরকারি সূত্রে খবর মৃতের সংখ্যা ৯৪। তবে বেসরকারি সূত্রে সেই সংখ্যাটা ১০০ ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিখোঁজ বহু মানুষ।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার টাইগ্রিস নদী ধরে ওই নৌকাটি একটি বিনোদন দ্বীপের দিকে যাচ্ছিল। নৌকাতে অন্তত ২০০ জন যাত্রী ছিলেন। মাঝ নদীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে উল্টে যায় সেটি। উদ্ধারকারী দল পৌঁছবার আগেই স্থানীয় মানুষরা ঝাঁপিয়ে পড়ে উদ্ধারের কাজে হাত লাগান। পরে একাধিক স্টিমার বোট ও হেলিকপ্টার নামিয়ে য়ুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধারকাজ।
ইরাকের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রকের মুখপাত্র মেজর জেনারেল সাদ মানের কথায়, বিপর্যয়ে অন্তত ৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার করা গেছে ৫৫ জনকে। মৃতদের মধ্যে ৬১জন মহিলা, ১৯টি শিশু। তবে, উদ্ধারকারী দল এবং অন্যান্য সূত্রে খবর, নৌকাডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা শতাধিক। নিখোঁজদের মধ্যে অধিকাংশেরই বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।

‘নওরোজ’ হলো ইরানি নববর্ষ। ইরানি বর্ষপঞ্জী অনুসারে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া, উত্তরপশ্চিম চিন-সহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে এই দিনটিকে ‘নওরোজ’ ছাড়াও ‘পারস্য নববর্ষ’ নামেও ডাকা হয়। উৎসব পালনে ইরাকের মসুলে এখন বহু মানুষের ভিড়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, নৌকাটির অভিকাংশ যাত্রীই এই উৎসব পালনের জন্যই যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, শয়ে শয়ে মানুষ জলে হাবুডুবু খাচ্ছেন, কোনও কিছু আঁকড়ে ধরে বাঁচার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে উদ্ধার করতেও দেখা যায় কয়েকজনকে।
https://twitter.com/vitaxnewsroom/status/1108757777361588225
মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদিল আবদুল মাধি। নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বেঁচে যাওয়া মানুষদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাইয়ের কারণে নাকি এই দুর্ঘটনার পিছনে অন্য কারণ রয়েছে সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইরাকের উদ্ধারকারী দল সূত্রে খবর, ঘটনার দিন মসুলের নদী বাঁধ থেকে অতিরিক্ত জল ছাড়া হয়েছিল। নদীতে জলস্ফীতি ছিল খুব বেশি। সতর্কবার্তাও জারি করা হয়েছিল, তা সত্ত্বেও এতজন যাত্রী নিয়ে নদী পারাপার কেন করা হচ্ছিল, উঠেছে সেই প্রশ্নও।