দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধোঁয়া-দূষণের বাড়বাড়ন্ত বিশ্বজুড়ে। একবিংশ শতাব্দীর ডিজিটাল যুগে দাঁড়িয়েও মানব সভ্যতার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বায়ু দূষণ। দূষণের কালো মেঘ ধীরে ধীরে গ্রাস করছে পৃথিবীকে। বিপন্ন মানবসভ্যতা। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাম্প্রতিক একটি রিপোর্টেও সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট।
গোটা বিশ্বের কাছেই বায়ুদূষণ হল ‘সাইলেন্ট কিলার।’ প্রতি বছর প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয় দূষণের জেরে। এমনটাই বলা হয়েছে সেই রিপোর্টে। এই ৭০ লক্ষ মানুষের মধ্যে আবার ৬ লক্ষ শিশু। বায়ুদূষণের ফলে শ্বাসজনিত সমস্যা, ফুসফুসের সংক্রমণ, হৃদযন্ত্রের সমস্যা ছাড়াও ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ফি বছর প্রাণ যায় অন্তত ৬ লক্ষ শিশুর।
https://twitter.com/UN_News_Centre/status/1102645735844139008
‘‘প্রতি ঘণ্টায় ৮০০ লোকের মৃত্যু হয় বায়ুদূষণের জন্য। ক্যানসার, হৃদযন্ত্রের জটিল রোগ, শ্বাসজনিত সমস্যায় দীর্ঘ বছর ভোগার পর এই মৃত্যুগুলি হয়। এর জন্য সরাসরি বায়ুদূষণ দায়ী,’’ বলেছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষ দূত ডেভিভ আর বয়েড। তাঁর কথায়, শুধু মৃত্যু নয়, আক্রান্তের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০০ কোটি মানুষের ফুসফুস আক্রান্ত বায়ুদূষণের জেরে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের সমীক্ষা বলছে, আগামী এক বছরের মধ্যে বায়ুদূষণের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে সাঙ্ঘাতিক ভাবে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি হল দক্ষিণ এশিয়ার। ২০১৮ সালে প্রথম ২০টি দূষিত শহরের মধ্যে ১৮টিই ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের। তালিকায় একাদশ স্থানে রয়েছে দিল্লি। সেখানে বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা (পিএম২.৫) প্রতি ঘনমিটারে ১১৩.৫ মাইক্রোগ্রাম। বেজিং এক সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম স্থানে থাকলেও বর্তমান ক্রমানুসারে ১২২তম স্থানে। কিন্তু, ভারতের অবস্থান কোনও রকম উন্নতি হয়নি। দিন দিন দূষণের মাত্রা সেখানেই বেড়েই চলেছে।