দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর চার মাস পরেই অবসর। কলেজের প্রিয় অধ্যাপকের জন্য তাই আগে থেকেই ফেয়ারওয়েল পার্টির আয়োজন করেছিলেন সহ-অধ্যাপক ও পড়ুয়ারা। বেশ জাঁকজমকেই শুরু হয়েছিল পার্টি। ছন্দপতন হলো বিকট আর্ত চিৎকারে। অধ্যাপকের উপর চড়ে বসে তখন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে যাচ্ছে এক ছাত্র। চোখে হিংস্র দৃষ্টি, মুখে গালিগালাজ।
ঘটনাস্থল পূর্ব পাকিস্তান। ভাওয়ালপুরের সাদিক এগারটন কলেজের ইংরাজির অধ্যাপক খালিদ হামিদকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করে তাঁরই এক ছাত্র। ঘটনাস্থল থেকেই সেই ছাত্রকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতের নাম খাতিব হুসেন।
"পার্টিতে মহিলাদের নিমন্ত্রণ করা নাকি ইসলাম বিরোধী। তাই রাগে অধ্যাপককে কোপাতে শুরু করে খাতিব," বলেছেন পার্টিতে উপস্থিত কলেজের প্রিন্সিপাল ওয়ালি মহম্মদ। খুন করার সময় অভিযুক্ত নাকি শুধু এই কথাগুলোই আওড়াচ্ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, পার্টি শুরুর পর বেশ খোশ মেজাজেই ছিল খাতিব। একে একে যখন অনুষ্ঠানে কলেজের ছাত্রীরা উপস্থিত হতে শুরু করে তার মেজাজ গরম হয়ে যায়। নিজের মনেই নাকি গজগজ করতে শুরু করে সে। বার বার একটাই কথা বলে যাচ্ছিল, ''পার্টিতে এত মহিলার উপস্থিতি ধর্মবিরোধী। ইসলামিক নীতি বিরোধী কাজ চলছে এখানে। '' কোথা থেকে কী ভাবে সে ধারালো অস্ত্র জোগাড় করে আনে, সেটা টেরই পায়নি কেউ। হুঁশ ফেরে অধ্যাপকের আর্তনাদে। প্রিন্সিপাল জানিয়েছেন, নৃশংসভাবে অধ্যাপক খালিদকে কুপিয়ে যাচ্ছিল খাতিব। সকলে ছুটে তাকে ধরে ফেলে। রক্তাক্ত অধ্যাপককে তড়িঘড়ি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ভাওয়ালপুরের এই সরকারি কলেজে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের সংখ্যাই বেশি। প্রিন্সিপাল জানিয়েছেন, কলেজে ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৪,০০০ এবং ছাত্র দু'হাজারের কিছু বেশি। যে মহিলারা পার্টিতে এসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে কলেজ কর্তৃপক্ষ বাদে অনেকেই ছিলেন খাতিবের সহপাঠী। সব জেনেও কেন অধ্যাপকের উপর তার রাগ জন্মাল সেটা বোঝা যাচ্ছে না।
পুলিশ আধিকারিক ফারহান হুসেনের কথায়, জেরার সময়েও নাকি চুপ করেছিল খাতিব। একটাও শব্দ খরচ করেনি। অভিযুক্তের সঙ্গে কোনও ধর্মীয় দলের যোগ নেই বলেই জানিয়েছে পুলিশ। আগে কোনও অপরাধমূলক ঘটনার সঙ্গেও জড়িত ছিল না সে। তাহলে এমন কাজ কেন করলো সেটা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুরনো কোনও আক্রোশের কারণে এমন কাণ্ড সে ঘটিয়েছে সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খাতিবের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।