দ্য ওয়াল ব্যুরো: এর আগেও একটা বাচ্চা তিমি মারা যাওয়ার পর তার পেট থেকে পাওয়া গেছিল ৮ কেজি প্লাস্টিক, আর এবার তিমির পেটে পাওয়া গেল ৪০ কেজি প্লাস্টিক! ফিলিপিন্সে সমুদ্রের ধার থেকে মরা তিমি উদ্ধারের পর তার ময়নাতদন্তে পেট থেকে পাওয়া যায় এই প্লাস্টিক। দীর্ঘদিন অভুক্ত থাকা তিমিটি কেজি কেজি প্লাস্টিক খেয়েছে। পরিবেশবিদরা বলছেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সমুদ্রের দূষণ এতটাই বেশিমাত্রায় বেড়ে চলেছে যে সমুদ্রের প্রাণীরা বিপন্ন হয়ে পড়ছে। ফিলিপিন্স সে সব দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ সব জায়গায় এত বেশি পরিমাণে প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয় এবং সেগুলোকে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয় যে, সামুদ্রিক প্রাণীরা সেগুলোই খেয়ে ফেলছে এবং মরে যাচ্ছে পরপর।
কচ্ছপ থেকে তিমি, পরপর সেখানে মারা যাচ্ছে সব প্রাণীই। গত শনিবার ফিলিপিন্সের দক্ষিণ দিকের কমপেসতেলা ভ্যালিতে মারা যায় তিমিটি। ৪.৭ মিটার দৈর্ঘ্যের তিমিটিকে শুক্রবার যখন স্থানীয় মাবিনি টাওয়ার থেকে উদ্ধার করেন পরিবেশবিদরা। তখন প্রাণ ছিল তিমিটার। তবে প্রচণ্ড রক্তবমি এবং ডিহাইড্রেশনে ভুগছিল প্রাণীটি। ফিলিপিন্সের সরকারি আঞ্চলিক মৎস্য ব্যুরো অন্তত তেমনি জানাচ্ছে।
মৃত তিমিটির পেট থেকে যে ৪০ কেজি প্লাস্টিক পাওয়া গেছে তাতে চালের ব্যাগ থেকে শুরু করে মুদিখানার প্যাকেট সবই ছিল! স্থানীয় ডি বোন মিউজিয়ামের ডিরেক্টর ড্যারেল ব্লাচলি বলছেন, এই সামুদ্রিক প্রাণীগুলো এসব প্লাস্টিক খেয়ে খেয়ে পেট ভরিয়ে ফেলে, তাতে তাদের আর খাবার ঢোকে না পেটে। আস্তে আসতে দুর্বল হয়ে মরে যায় ওরা। তিনি আরও বলেন, গত ১০ বছরে তাঁরা ৬১ টি ডলফিন এবং তিমির উপর পরীক্ষা চালান। এটি সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক এবং খারাপ ঘটনা যেখানে এত বেশি পরিমাণ প্লাস্টিক পাওয়া গেছে মরা তিমির পেট থেকে। রিজিওনাল ডিরেক্টর ফাতমা ইদ্রিস বলছেন, উদ্ধারের সময়ে তিমিটি এতটাই দুর্বল ছিল যে জলে ভেসে থাকার বা সাঁতার কাটার ক্ষমতাও তার ছিল না।
ফিলিপিন্সের বর্জ্য অপসারণের কঠোর আইন রয়েছে, তবে পরিবেশবিদরা বলছেন যে এটির প্রয়োগ এখন প্রায়ই হয় না। তাই এত সমস্যা হয়। এমনকি গত বছর ইন্দোনেশিয়ায় মারা যাওয়া একটি তিমির পেটে প্রায় ছয় কিলোগ্রাম প্লাস্টিকের বর্জ্য পাওয়া যায়। থাইল্যান্ডে একটি তিমির মৃত্যুর কারণ হিসেহে পাওয়া যায় ৮০টি প্লাস্টিকের ব্যাগ। গত বছর একটি বিরল প্রজাতির সবুজ কচ্ছপের মৃত্যুর কারণও ছিল এই প্লাস্টিক।
মানব সমাজে সচেতনতা এলে হয়তো এই সামুদ্রিক প্রাণীগুলো এ ভাবে বেঘোরে মারা যাবে না।