
শেষ আপডেট: 13 October 2023 18:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হয়তো আপনি ভাবলেন কম সুদে ঋণ নেবেন। যখন চাইবেন, তখনই ঋণ পাবেন। ইন্টারনেটে সার্চ করে এমন কিছু অ্যাপ পাবেন যা হবে একেবারে আপনার মনের মতো। কম সুদে বিপুল লোন দেবে কম সময়েই। আর আপনিও সেই ফাঁদে পা দেবেন। তারপরেই আপনার সঙ্গে সেইসব ঘটতে শুরু করবে যা ভয়ঙ্কর বললেও কম বলা হয়। একদিন হঠাৎই দেখা যাবে ঋণের টাকার সুদ দ্বিগুণের বেশি হয়ে গেছে, সেই সঙ্গে আপনার নগ্ন-বিকৃত ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সর্বস্বান্ত হয়ে যাবেন আপনি।
গোটা বিশ্বে জাল বিছিয়েছে এমনই এক প্রতারণা চক্র। বিবিসি এ ব্যাপারে তদন্তমূলক প্রতিবেদন লিখেছে। সেই প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, ভারত, চিন সহ বিশ্বের ১৪টি দেশে প্রতারণার বড়সড় ফাঁদ পাতছে ওই চক্র। ঋণ দেওয়ার নামে এমন কিছু অ্যাপ সামনে আসছে যা চালনা করছে হ্যাকাররা। এই মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করলেই সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য হ্যাকারদের কবলে চলে যাবে। তাছাড়া গ্রাহকদের বায়োমেট্রিক তথ্যও দিতে বলা হবে। ফলে সেসবও চলে যাবে ডার্ক ওয়েবে। ঋণ দেওয়ার কিছুদিন পর থেকেই শুরু হবে নানাভাবে ব্ল্যাকমেলিং। গত বছর ভারতে অন্তত ৬০ জন এই প্রতারণার জালে জড়িয়েছিলেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ওই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত ২২ জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল।
কীভাবে প্রতারণার ফাঁদ পাতে ওই চক্র?
পুলিশ ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন চাইবেন ঋণ পাবেন, এই টোপ দিয়েই গ্রাহকদের ফাঁসানো হয়। একবার ঋণ নিয়ে নিলেই কেল্লাফতে। ব্যক্তিগত যাবতীয় তথ্য হাতিয়ে নিতে শুরু করবে হ্যাকাররা। তারপর গ্রাহকের ছবি বিকৃত করে পর্ন সাইটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ঋণ বাবদ দেওয়া টাকার থেকেও বেশি অঙ্ক হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা শুরু হবে।
এই প্রতারণা জালে জড়িয়েই সর্বস্ব খুইয়েছেন এক তরুণী। তাঁরও নগ্ন, অশালীন ছবি ফটোশপ করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ওই তরুণী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানিয়েছেন, এমনই একটি অ্যাপ থেকে ৬৯ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন ওই তরুণী। কিন্তু পরে দেখেন তাঁর টাকার অঙ্ক বেড়ে হয়েছে ২ লাখ। সেই সঙ্গেই তাঁর নগ্ন ছবি ভাইরাল করে দিয়ে প্রতারকরা লাগাতার ব্ল্যাকমেল করে যাচ্ছে। টানা কয়েকমাস ধরে চলেছিল ওই মানসিক নির্যাতন। শেষে পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি।
পুলিশ ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রতারণা চক্রে জড়িয়ে বহু মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। গোটা পরিবার ঋণ আর অপমানের জ্বালায় সর্বস্বান্ত হয়ে আত্মঘাতী হয়েছে এমন উদাহরণও অজস্র। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন অনেক অ্যাপ রয়েছে যা কয়েক মিনিটের মধ্যে নির্ঝঞ্ঝাটে ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। আপনি একবার সেই অ্যাপ ডাউনলোড করে ফেললে আপনার পরিচিতি, ছবি এবং পরিচয়পত্র সবকিছু হাতিয়ে নিয়ে পরে সেই তথ্য ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেল শুরু করে। যদি আপনি ঋণ পরিশোধ করে দিতে পারেন, তাহলেও রেহাই নেই। গ্রাহকের সব ব্যক্তিগত তথ্য ডার্ক ওয়েবে ছেড়ে দেবে ওই হ্যাকাররা যাতে ভবিষ্যতে ফের নানা অছিলায় গ্রাহককে আবারও প্রতারণার জালে জড়ানো যায়।