
শেষ আপডেট: 29 June 2020 18:30
প্যাঙ্গং লেকের অববাহিকায় চিন ও ভারতীয় বাহিনীর অবস্থান[/caption]
এলএসি-তে চিনের যে রেড আর্মি টহল দেয় তারা বেশিরভাগই মান্দারিন ভাষায় কথা বলে। ভারতীয় বাহিনীও এই ভাষা শিখে রাখে। বিশেষত লাদাখ সেক্টরে যে ইন্দো-টিবেটান বর্ডার ফোর্স টহল দেয় তারা অধিকাংশই এই মান্দারিন ভাষা জানে। অন্যদিকে, চিনা ফৌজ আবার ভারতীয় ভাষাতেও দক্ষ। গত সপ্তাহে চিনা বাহিনীর কম্যান্ডার ওয়াং হাজিয়াংকে সীমান্ত বরাবর তিব্বত রিজিয়নে মান্দারিন ভাষায় ‘চিন’ শব্দটি লিখতে দেখা গিয়েছিল।
ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ থেকে ফিঙ্গার পয়েন্ট ৬ রেঞ্জের মধ্যবর্তী এলাকায় চিনা বাহিনীর অস্থায়ী তাঁবু, চিনা সেনার গতিবিধি ধরা পড়েছে উপগ্রহ চিত্রে[/caption]
উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে, ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ ও ফিঙ্গার পয়েন্ট ৫ এলাকার মাঝামাঝি প্রায় ৮১ মিটার দীর্ঘ ও ২৫ মিটার প্রশস্ত এলাকায় চিনের সেনার তৎপরতা বেড়েছে। সেখানে কংক্রিটের বাঙ্কার তৈরি করে ফেলেছে তারা। প্ল্যানেট ল্যাবের উপগ্রহ চিত্র আরও দেখিয়েছে, ওই এলাকা জুড়ে শতাধিক বুলডোজার, ট্রাক ও যুদ্ধাস্ত্র জমা করা শুরু করেছে চিনা ফৌজ। অন্তত ১৮৬ টি অস্থায়ী ছাউনি, তাঁবু বানানোর কাজ চলছে। এলএসি-র যে পেট্রোলিং পয়েন্ট পিপি-১৪-এ চিন ও ভারতীয় সেনার সংঘর্ষ হয়েছিল, ওই এলাকায় ইতিমধ্যেই সারি সারি কালো ত্রিপল দেখা গেছে উপগ্রহ চিত্রে। মনে করা হচ্ছে কম করেও ১৬টি ছাউনি বানিয়ে ফেলেছে চিনা সেনা।
ফিঙ্গার পয়েন্ট ৫ এর কাছে কংক্রিটের কালভার্ট তৈরি হয়েছে। এই কাঠামো বিস্তৃত হয়েছে ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ অবধি।[/caption]
সেনা সূত্রে খবর, দৌলত বেগ ওল্ডিতে বায়ুসেনা ঘাঁটির দক্ষিণে দেপসাং উপত্যকায় এলএসি পেরিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার ঢুকে এসে চিনা সেনা ‘ওয়াই-জংশন’-এ ডেরা বেঁধেছে। ফলে ভারতীয় বাহিনীর পেট্রোলিং পয়েণ্ট ১০ এবং পেট্রোলিং পয়েন্ট ১৩-তে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। ওই ‘ওয়াই-জংশন’ থেকেই পেট্রোলিং পয়েন্ট ১০, ১১এ, ১২ ও ১৩ –তে যাওয়ার রাস্তা রয়েছে। চিনা সেনা ওই এলাকা দখল করে বসে গেছে।
উপগ্রহ চিত্র আরও দেখিয়েছে, ফিঙ্গার ৪ ও ফিঙ্গার ৫ এলাকায় নদীর গতিপথে কংক্রিটের কাঠামো তৈরি হয়েছে। যার উপর দিয়েই সামরিক সরঞ্জাম বয়ে নিয়ে যাচ্ছে চিনা সেনা। দারবুক-দৌলত বেগ ওল্ডি সড়কের ৬ কিলোমিটার দূরে গত ১৫ জুন পিপি-১৪ পেট্রোলিং পয়েন্টের যেখানে দুই দেশের সেনার মুখোমুখি সংঘাত বেঁধেছিল ওই এলাকায় থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটারের মধ্যে চিনা সেনার অবস্থান ধরা পড়েছে উপগ্রহ চিত্রে। এর আগে ওই সমস্ত এলাকা ছিল শুনশান। সামরিক পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে গত ২২ থেকে ২৬ জুনের মধ্যে, উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে এমনটাই। অন্যদিকে প্যাঙ্গং লেকের মাত্র ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে বিমানঘাঁটি গড়ে তুলেছে চিন। মনে করা হচ্ছে, টারম্যাকে সম্ভবত জে-১১ বা জে-১৬ যুদ্ধ বিমানও রয়েছে।